কাজল সরকার, হবিগঞ্জ

চলতি বছর দেশে রেকর্ড পরিমাণ চা উৎপাদন হলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত মূল্য। সেই সঙ্গে উৎপাদন ব্যয় বাড়ায় ক্রমেই লোকসানের দিকে যাচ্ছে বৃহৎ এই শিল্পটি। বাগানসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে চাহিদা কমে যাওয়া এবং ভারত থেকে অবৈধপথে নিম্নমানের চা দেশে প্রবেশ করায় এমনটি ঘটছে। সংকট উত্তরণে ভর্তুকি ও সরকারি প্রণোদনা বাড়ানোর পাশাপাশি ভারত থেকে অবৈধপথে চা দেশে প্রবেশ ঠেকানোর দাবি তাঁদের।
বাংলাদেশ চা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গত বছরের তুলনায় চায়ের উৎপাদন তুলনামূলক ভালো হয়েছে। চলতি বছর দেশে চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ কোটি ৭৭ লাখ কেজি। কিন্তু ১০ মাসেই উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে দেশের বাগানগুলো। জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত উৎপাদন হয়েছে ৭ কোটি ৯৩ লাখ কেজি চা।
বাগানসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ—চা উৎপাদন বাড়লেও দেশের বাজারে বিক্রি কমে গেছে। যে কারণে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত দাম। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট ও মাধবপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারত থেকে দেশে প্রবেশ করছে নিম্নমানের চা পাতা। নিম্নমানের এ সব চা পাতা কম দামে বাজারে বিক্রি হওয়ায় ভোক্তাপর্যায়ে এর চাহিদা বেশি। যে কারণে একদিকে যেমন দেশি চায়ের ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে না, অন্যদিকে দেশের বাজারে কমেছে চাহিদাও।
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট, মাধবপুর, বাহুবল এবং নবীগঞ্জ উপজেলায় ২৪টি চা বাগান রয়েছে। এখানে চলতি বছর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ কোটি ২৫ লাখ কেজি চা। অথচ দুই মাস হাতে থাকতেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ৩৫ লাখ কেজি। এসব চা বাগানের ওপর নির্ভরশীল ৭৫ হাজার শ্রমিক। বাগান মালিকেরা বলছেন, লোকসানের কারণে শ্রমিক ছাঁটাই করতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না শ্রমিকদের মজুরি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা।
হবিগঞ্জের দেউন্দি চা বাগানের ব্যবস্থাপক মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, গত বছরের চেয়ে এ বছর চায়ের উৎপাদন বেশি হয়েছে। এরপরও লোকসানে আছে তাঁরা। কারণ চা পাতা উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাত করতে আগের চেয়ে অনেক বেশি খরচ বেড়েছে। যেমন ডিজেল, কয়লা ও পরিবহনসহ সবকিছুর দাম বেড়েছে। সেই অনুপাতে চায়ের দাম বাড়া তো দূরের কথা, উল্টো কমে গেছে।
রিয়াজ উদ্দিন আরও বলেন, উৎপাদন খরচ কমাতে চা বাগানের যে রাস্তাঘাট-কালভার্ট রয়েছে, সেগুলো নির্মাণ এবং সংস্কারের দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। এ ছাড়া শ্রমিকদের উন্নয়নে কাজ করলে উৎপাদন খরচ কিছুটা কমবে।
মাধবপুরের তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক ও লস্করপুর চা ভ্যালীর চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, চুনারুঘাট ও মাধবপুর সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে প্রতিনিয়ত নিম্নমানের চা পাতা দেশে প্রবেশ করছে। এসব চা পাতার দাম কম হওয়ায় চাহিদা বেশি। যে কারণে দেশীয় পাতা বেশি দামে কেউ কিনতে চায় না। তাই চা শিল্পকে বাঁচাতে প্রথমে ভারত থেকে চা প্রবেশ ঠেকাতে হবে। ২০১৯ সালে কেজিপ্রতি চায়ের গড় মূল্য ছিল ২৬২ টাকা। কিন্তু চলতি বছর খরচ বাড়লে চায়ের মূল্য নেমে এসেছে ১৮৯ টাকায়। অথচ এ অবস্থায় চা শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে চায়ের ন্যূনতম ২৫০ টাকা এবং পরবর্তী সময়ে মানের ওপর ভিত্তি করে দাম নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি এই শিল্পে ভর্তুকিসহ সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে।
ফিনলে চা কোম্পানি চিফ অপারেটিং কর্মকর্তা (সিওও) তাহসিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, নানা রকম সংকটে পড়েছে চা শিল্প। তাই এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য চা-শ্রমিকদের কর্মক্ষমতা বাড়াতে হবে। সেই সঙ্গে এই শিল্পে ভর্তুকি ও সরকারি নানা প্রণোদনা বাড়ানো খুবই জরুরি।
বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মোহাম্মদ আলী জানান, বাংলাদেশের চা লিকার কিংবা কোয়ালিটি উভয় দিক দিয়েই অত্যন্ত ভালো মানের। কিন্তু ভারত থেকে নিম্নমানের চা প্রবেশ করায় এখানকার চায়ের দাম কমে যাচ্ছে। ফলে লোকসানে পড়ছেন বাগান মালিকেরা। তাই ভারতীয় চা দেশে প্রবেশ ঠেকাতে আরও কঠোর হতে হবে।

চলতি বছর দেশে রেকর্ড পরিমাণ চা উৎপাদন হলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত মূল্য। সেই সঙ্গে উৎপাদন ব্যয় বাড়ায় ক্রমেই লোকসানের দিকে যাচ্ছে বৃহৎ এই শিল্পটি। বাগানসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে চাহিদা কমে যাওয়া এবং ভারত থেকে অবৈধপথে নিম্নমানের চা দেশে প্রবেশ করায় এমনটি ঘটছে। সংকট উত্তরণে ভর্তুকি ও সরকারি প্রণোদনা বাড়ানোর পাশাপাশি ভারত থেকে অবৈধপথে চা দেশে প্রবেশ ঠেকানোর দাবি তাঁদের।
বাংলাদেশ চা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গত বছরের তুলনায় চায়ের উৎপাদন তুলনামূলক ভালো হয়েছে। চলতি বছর দেশে চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ কোটি ৭৭ লাখ কেজি। কিন্তু ১০ মাসেই উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে দেশের বাগানগুলো। জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত উৎপাদন হয়েছে ৭ কোটি ৯৩ লাখ কেজি চা।
বাগানসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ—চা উৎপাদন বাড়লেও দেশের বাজারে বিক্রি কমে গেছে। যে কারণে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত দাম। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট ও মাধবপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারত থেকে দেশে প্রবেশ করছে নিম্নমানের চা পাতা। নিম্নমানের এ সব চা পাতা কম দামে বাজারে বিক্রি হওয়ায় ভোক্তাপর্যায়ে এর চাহিদা বেশি। যে কারণে একদিকে যেমন দেশি চায়ের ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে না, অন্যদিকে দেশের বাজারে কমেছে চাহিদাও।
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট, মাধবপুর, বাহুবল এবং নবীগঞ্জ উপজেলায় ২৪টি চা বাগান রয়েছে। এখানে চলতি বছর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ কোটি ২৫ লাখ কেজি চা। অথচ দুই মাস হাতে থাকতেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ৩৫ লাখ কেজি। এসব চা বাগানের ওপর নির্ভরশীল ৭৫ হাজার শ্রমিক। বাগান মালিকেরা বলছেন, লোকসানের কারণে শ্রমিক ছাঁটাই করতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না শ্রমিকদের মজুরি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা।
হবিগঞ্জের দেউন্দি চা বাগানের ব্যবস্থাপক মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, গত বছরের চেয়ে এ বছর চায়ের উৎপাদন বেশি হয়েছে। এরপরও লোকসানে আছে তাঁরা। কারণ চা পাতা উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাত করতে আগের চেয়ে অনেক বেশি খরচ বেড়েছে। যেমন ডিজেল, কয়লা ও পরিবহনসহ সবকিছুর দাম বেড়েছে। সেই অনুপাতে চায়ের দাম বাড়া তো দূরের কথা, উল্টো কমে গেছে।
রিয়াজ উদ্দিন আরও বলেন, উৎপাদন খরচ কমাতে চা বাগানের যে রাস্তাঘাট-কালভার্ট রয়েছে, সেগুলো নির্মাণ এবং সংস্কারের দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। এ ছাড়া শ্রমিকদের উন্নয়নে কাজ করলে উৎপাদন খরচ কিছুটা কমবে।
মাধবপুরের তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক ও লস্করপুর চা ভ্যালীর চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, চুনারুঘাট ও মাধবপুর সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে প্রতিনিয়ত নিম্নমানের চা পাতা দেশে প্রবেশ করছে। এসব চা পাতার দাম কম হওয়ায় চাহিদা বেশি। যে কারণে দেশীয় পাতা বেশি দামে কেউ কিনতে চায় না। তাই চা শিল্পকে বাঁচাতে প্রথমে ভারত থেকে চা প্রবেশ ঠেকাতে হবে। ২০১৯ সালে কেজিপ্রতি চায়ের গড় মূল্য ছিল ২৬২ টাকা। কিন্তু চলতি বছর খরচ বাড়লে চায়ের মূল্য নেমে এসেছে ১৮৯ টাকায়। অথচ এ অবস্থায় চা শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে চায়ের ন্যূনতম ২৫০ টাকা এবং পরবর্তী সময়ে মানের ওপর ভিত্তি করে দাম নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি এই শিল্পে ভর্তুকিসহ সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে।
ফিনলে চা কোম্পানি চিফ অপারেটিং কর্মকর্তা (সিওও) তাহসিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, নানা রকম সংকটে পড়েছে চা শিল্প। তাই এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য চা-শ্রমিকদের কর্মক্ষমতা বাড়াতে হবে। সেই সঙ্গে এই শিল্পে ভর্তুকি ও সরকারি নানা প্রণোদনা বাড়ানো খুবই জরুরি।
বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মোহাম্মদ আলী জানান, বাংলাদেশের চা লিকার কিংবা কোয়ালিটি উভয় দিক দিয়েই অত্যন্ত ভালো মানের। কিন্তু ভারত থেকে নিম্নমানের চা প্রবেশ করায় এখানকার চায়ের দাম কমে যাচ্ছে। ফলে লোকসানে পড়ছেন বাগান মালিকেরা। তাই ভারতীয় চা দেশে প্রবেশ ঠেকাতে আরও কঠোর হতে হবে।

গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে সর্বশেষ (৫৪ তম) সাক্ষীর জেরা শুরু হয়েছে। এই মামলাটির বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ।
০৬ অক্টোবর ২০২৫
‘দুই দিন আগেই বাড়ি থেকে পাথরঘাটায় চলে এসেছি। এখন পুরোনো জাল সেলাই করছি। এক সপ্তাহের বাজারও করে এনেছি। আজ বিকেলে সাগর মোহনায় যাব, গভীর রাত থেকে জাল ফেলব।’ কথাগুলো বলছিলেন বরগুনা সদরের বাইনচটকী এলাকার জেলে হোসেন আলী। গতকাল বুধবার সকালে বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে কথা হয় তাঁর...
১২ জুন ২০২৫
ভারতের স্থলবন্দর নিষেধাজ্ঞার পর সীমান্তে আটকে থাকা তৈরি পোশাক, খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের ট্রাকগুলো ফেরত আনছেন রপ্তানিকারকেরা। তবে যেসব ট্রাক বন্দরে ঢুকে গিয়েছিল, সেগুলো ভারতে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এসব ট্রাক ঢুকতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে।
১৯ মে ২০২৫
আধুনিক যুগের সবচেয়ে বিস্ময়কর প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারগুলোর একটি হচ্ছে গৌতম বুদ্ধের দেহাবশেষের সঙ্গে সম্পর্কিত ঐতিহাসিক রত্নসম্ভার। গতকাল বুধবার হংকংয়ে বিখ্যাত আর্ট নিলাম কোম্পানি সাদাবি’স-এর এক নিলামে এগুলো তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
০৮ মে ২০২৫