Ajker Patrika

ঢাকায় এখন কুয়াশা না ধোঁয়াশা!

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬: ৩৪
ঢাকার বাতাসে অতিক্ষুদ্র বস্তুকণাই দূষণের প্রধান উৎস। ছবি: আজকের পত্রিকা
ঢাকার বাতাসে অতিক্ষুদ্র বস্তুকণাই দূষণের প্রধান উৎস। ছবি: আজকের পত্রিকা

আজ ভোর থেকে ঢাকার অলি-গলি থেকে রাজপথ ঘন কুয়াশায় ঢাকা দেখা গেল। শীতের এ দিনগুলোতে এটি স্বাভাবিক মনে হলেও ঢাকার বাতাস বলছে ভিন্ন কথা। প্রশ্ন উঠছে, এ কি শুধু কুয়াশা না কি ধোঁয়াশা। আজ রোববার রাজধানী শহর ঢাকার সারা দিনের বায়ুমান সূচক পর্যবেক্ষণের পর দেখা গেল, যতই দিন গড়াচ্ছে, ঢাকার বাতাসে আরও বেশি দূষণ বাড়ছে।

বাতাসের গুণমান সূচকের (একিউআই) মাধ্যমে দূষণের মাত্রা নির্ধারণ করে নিয়মিত বায়ু পরিস্থিতি তুলে ধরে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার। এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিদিনের বাতাসের মান পরীক্ষা করে সে অনুযায়ী বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকা দিয়ে থাকে। এ তালিকায় আজ সকাল ৯টার দিকে ঢাকার অবস্থান নিচের দিকে থাকলেও বেলা ১২টার থেকে শীর্ষ অবস্থানে দেখা যায়। এরপর বিকেল ৪টার দিকেও শীর্ষ অবস্থানেই ছিল রাজধানী শহরটি।

সাধারণ শীতের মৌসুমে বাতাস থাকে শুষ্ক আর বেড়ে যায় ধূলিকণার পরিমাণ। ছবি: আজকের পত্রিকা
সাধারণ শীতের মৌসুমে বাতাস থাকে শুষ্ক আর বেড়ে যায় ধূলিকণার পরিমাণ। ছবি: আজকের পত্রিকা

বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী, বায়ুমান সূচক ৫০-এর নিচে থাকলে বিশুদ্ধ বাতাস ধরা হয়। ৫১-১০০ হলে তা সহনীয়। ১০১ থেকে ১৫০-এর মধ্যে হলে সতর্কতামূলক বা সংবেদনশীল মানুষের (শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি) জন্য অস্বাস্থ্যকর। ১৫১-২০০ হলে সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং সূচক ২০১ থেকে ৩০০ হলে বাতাসকে খুব অস্বাস্থ্যকর বলা হয়। আর সূচক ৩০০ ছাড়ালে সেই বাতাস দুর্যোগপূর্ণ।

সকাল ৯টার দিকে আইকিউএয়ারের রেকর্ড অনুযায়ী ঢাকার স্কোর ছিল ১৯২, যা সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর বাতাসের নির্দেশক। কিন্তু বেলা ১২টায় আইকিউএয়ারের তালিকায় গিয়ে দেখা যায়, ঢাকার স্কোর ৪০৬, যা দুর্যোগপূর্ণ বাতাসের নির্দেশক।

দক্ষিণ পল্লবী, গোড়ান ও গুলশান ২-এর বে’জ এজওয়াটার আউটডোর এলাকায় দূষণের মাত্রা বিপজ্জনক অবস্থায়। ছবি: আজকের পত্রিকা
দক্ষিণ পল্লবী, গোড়ান ও গুলশান ২-এর বে’জ এজওয়াটার আউটডোর এলাকায় দূষণের মাত্রা বিপজ্জনক অবস্থায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

সাধারণ শীতের মৌসুমে বাতাস থাকে শুষ্ক। বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ বেড়ে যায়। আর এই কারণে বায়ুদূষণও বাড়তে থাকে। তবে এ মৌসুমে প্রথমবারের মতো ঢাকার বাতাসের মান দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছাল।

বিকেল ৪টায় আইকিউএয়ার তালিকা পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেল, দীর্ঘদিন দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় থাকা দিল্লি-কলকাতা-লাহোরের অবস্থার উন্নতি হলেও ঢাকা দুর্যোগপূর্ণ অবস্থাতেই রয়েছে। এ সময় ঢাকার স্কোর দেখা যায় ৩০৯।

ধোঁয়াশা ঘেরা এই ঢাকার মধ্যে কিছু এলাকার অবস্থা সবচেয়ে বেশি দুর্যোগপূর্ণ। এর মধ্যে শীর্ষে আছে বেচারাম দেউড়ি। পুরান ঢাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই এলাকায় বায়ুদূষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি। এরপর দক্ষিণ পল্লবী, গোড়ান ও গুলশান ২-এর বে’জ এজওয়াটার আউটডোর এলাকায় দূষণের মাত্রা বিপজ্জনক অবস্থায়।

যদি বাইরে বের হতে হয়, তবে অবশ্যই দূষণ রোধে কার্যকর মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। ছবি: আজকের পত্রিকা
যদি বাইরে বের হতে হয়, তবে অবশ্যই দূষণ রোধে কার্যকর মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। ছবি: আজকের পত্রিকা

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের তালিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাতাসের মূল ক্ষতিকারক উপাদান হলো ক্ষুদ্র বস্তুকণা বা পিএম ২.৫। এটি এতই সূক্ষ্ম যে তা ফুসফুসে এমনকি রক্তপ্রবাহেও প্রবেশ করতে পারে। ঢাকার বাতাসে অতিক্ষুদ্র বস্তুকণাই দূষণের প্রধান উৎস। বেশিমাত্রার দূষণ শ্বাসতন্ত্রের রোগ, হৃদ্রোগ এবং দীর্ঘ মেয়াদে ক্যানসারের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

বাতাসের এই পরিস্থিতিতে করণীয়

দীর্ঘদিন ঢাকার বাতাস অতিমাত্রায় দূষিত হওয়ায় বাইরে বের হলে সবাইকে মাস্ক পরার পরামর্শ দিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া সংবেদনশীল ব্যক্তিদের অতি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার অনুরোধও করা হয়েছে।

শিশু, বয়স্ক, হৃদ্রোগ বা শ্বাসকষ্টের রোগীদের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল গোষ্ঠীর মানুষের এ সময় ঘরের বাইরে না যাওয়াই ভালো। যারা সাধারণ সুস্থ ব্যক্তি তাদের উচিত বাইরে কাটানো সময় সীমিত করা এবং শারীরিক পরিশ্রমের কাজ এড়িয়ে চলা। আর যদি বাইরে বের হতে হয়, তবে অবশ্যই দূষণ রোধে কার্যকর মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। এ সময় ঘরের ভেতরের বাতাস পরিষ্কার রাখতে এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার এবং দূষিত বাতাস প্রবেশ ঠেকাতে জানালা ও দরজা বন্ধ রাখলে ভালো হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত