Ajker Patrika

ঢাকার বাতাস খুব অস্বাস্থ্যকর, সতর্ক থাকবেন যেভাবে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১০: ৫৯
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

শীতের মৌসুমে বাতাস থাকে শুষ্ক। বেড়ে যায় ধূলিকণার পরিমাণ। আর এই কারণে বায়ুদূষণও বাড়তে থাকে। আজ শনিবার ঢাকার বায়ুমানের অবনতি হয়ে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ অবস্থায় আছে।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকার ১২৭টি দেশের মধ্যে আজ ঢাকা তৃতীয় স্থানে রয়েছে। আর শীর্ষ স্থানে রয়েছে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল।

দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারতের কলকাতা (২৭৩, খুব অস্বাস্থ্যকর), চতুর্থ স্থানে রয়েছে ভারতের দিল্লি (২০২, খুব অস্বাস্থ্যকর) ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন (১৭৯, সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর)।

আইকিউএয়ারের সকাল ৯টা ৩০ মিনিটের রেকর্ড অনুযায়ী, ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স স্কোর ২৫৪। আর শীর্ষে থাকা কাবুলের ২৯৬।

ঢাকার বেশ কিছু স্থানের বাতাসের অবস্থা খুব অস্বাস্থ্যকর থেকে বিপজ্জনক পর্যায়ে আছে। এর মধ্যে রয়েছে—দক্ষিণ পল্লবী (৩৫৪), ইস্টার্ন হাউজিং (৩৪৪), গোড়ান (৩১৫), বেজ এজওয়াটার আউটডোর (৩১০) ও কল্যাণপুর (২৯৮)।

বাতাসের গুণমান সূচকের (একিউআই) মাধ্যমে দূষণের মাত্রা নির্ধারণ করে নিয়মিত বায়ু পরিস্থিতি তুলে ধরে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার। তাদের তালিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার বাতাসে অতিক্ষুদ্র বস্তুকণাই দূষণের প্রধান উৎস। বেশিমাত্রার দূষণ শ্বাসতন্ত্রের রোগ, হৃদ্‌রোগ এবং দীর্ঘ মেয়াদে ক্যানসারের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

বাতাসের মূল ক্ষতিকারক উপাদান হলো ক্ষুদ্র বস্তুকণা বা পিএম ২.৫। এটি এতই সূক্ষ্ম যে তা ফুসফুসে এমনকি রক্তপ্রবাহেও প্রবেশ করতে পারে।

বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী, বায়ুমান সূচক ৫০-এর নিচে থাকলে বিশুদ্ধ বাতাস ধরা হয়। ৫১-১০০ হলে তা সহনীয়। ১০১ থেকে ১৫০-এর মধ্যে হলে সতর্কতামূলক বা সংবেদনশীল মানুষের (শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি) জন্য অস্বাস্থ্যকর। ১৫১-২০০ হলে সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং সূচক ২০১ থেকে ৩০০ হলে বাতাসকে খুব অস্বাস্থ্যকর বলা হয়। আর সূচক ৩০০ ছাড়ালে সেই বাতাস দুর্যোগপূর্ণ।

দীর্ঘদিন ঢাকার বাতাস অতিমাত্রায় দূষিত হওয়ায় বাইরে বের হলে সবাইকে মাস্ক পরার পরামর্শ দিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া সংবেদনশীল ব্যক্তিদের অতি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার অনুরোধও করা হয়েছে।

পাশাপাশি ইটভাটা, শিল্পকারখানার মালিক এবং সাধারণ মানুষকে কঠিন বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ রাখা, নির্মাণস্থলে ছাউনি ও বেষ্টনী স্থাপন করা, নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখা, নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের সময় ট্রাক বা লরি ঢেকে নেওয়া, নির্মাণস্থলের আশপাশে দিনে অন্তত দুবার পানি ছিটানো এবং পুরোনো ও ধোঁয়া তৈরি করা যানবাহন রাস্তায় বের না করতে বলা হয়েছে।

বাতাসের এই পরিস্থিতিতে করণীয়

অত্যন্ত সংবেদনশীল গোষ্ঠী: শিশু, বয়স্ক, হৃদ্‌রোগ বা শ্বাসকষ্টের রোগীরা সব ধরনের ঘরের বাইরে না যাওয়াই ভালো।

সাধারণ সুস্থ ব্যক্তি: তাদের উচিত বাইরে কাটানো সময় সীমিত করা এবং শারীরিক পরিশ্রমের কাজ এড়িয়ে চলা।

যদি বাইরে বের হতে হয়, তবে অবশ্যই দূষণ রোধে কার্যকর মাস্ক ব্যবহার করুন।

ঘরের ভেতরের বাতাস পরিষ্কার রাখতে এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করুন এবং দূষিত বাতাস প্রবেশ ঠেকাতে জানালা ও দরজা বন্ধ রাখুন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

খালেদা জিয়ার ছায়াসঙ্গী ফাতেমার সন্তানেরা কী করেন, ১৬ বছর কেমন কেটেছে

ছেড়ে দিলে কী আর করার: মোস্তাফিজ

ভেনেজুয়েলায় নজিরবিহীন সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে ‘ধরে নিয়ে গেল’ যুক্তরাষ্ট্র

মোস্তাফিজকে দলে নেওয়ায় শাহরুখ খানের ক্ষমা চাওয়া উচিত: সর্বভারতীয় ইমাম সংগঠনের সভাপতি

মোস্তাফিজকে ছেড়েই দিল কলকাতা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত