আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। মার্চ মাসের শুরু থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পূর্ণ হয়ে ওঠে নারীর প্রতি শ্রদ্ধা আর শুভেচ্ছায়। অফিসে, প্রতিষ্ঠানে, এমনকি ঘরেও এ নিয়ে বিশেষ সম্মান প্রদর্শনের বিষয়টি দেখা যায়। তবু প্রশ্ন থেকে যায়, এই উদ্যাপন কি সত্যিই নারীর দৈনন্দিন সংগ্রাম ও বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে, নাকি তা শুধু প্রতীকী স্বীকৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ? কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, সহিংসতার ঝুঁকি এবং অদৃশ্য শ্রমের চাপ—এমন বাস্তবতার মাঝে নারী দিবসের প্রকৃত তাৎপর্য নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। এ বিষয়ে বর্তমান প্রজন্মের তরুণেরা দিবসটি কীভাবে দেখেন এবং তাঁদের ভাবনা কী, তা তুলে ধরেছেন সাদিয়া সুলতানা রিমি।
নারী: সাহস, শক্তি ও সম্ভাবনার প্রতীক
প্রতিবছর এই দিনে নারী অধিকার, লৈঙ্গিক সমতা এবং নারীর মর্যাদা নিয়ে সমাজে নতুন করে আলোচনা হয়। আমি বিশ্বাস করি, নারী ও পুরুষ সমান অধিকার এবং সুযোগের অধিকারী। শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র, রাজনীতি ও সামাজিক জীবনে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা একটি আধুনিক ও উন্নত সমাজের মূল শর্ত। নারী দিবস শুধু শুভেচ্ছা জানানোর জন্য নয়; বরং এটি নারীর প্রতি বৈষম্য, সহিংসতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে তরুণেরা বিভিন্ন প্রচারণা, লেখা, আলোচনা সভা এবং আন্দোলনের মাধ্যমে নারীর অধিকারকে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরছে। তবে নারীর সম্মান শুধু এক দিনের বিষয় নয়; এটি প্রতিদিনের আচরণ ও দৃষ্টিভঙ্গিতেও প্রতিফলিত হওয়া উচিত। নারীর ক্ষমতায়ন সমাজের উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। যখন নারীরা শিক্ষা, অর্থনীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমানভাবে অংশগ্রহণ করবে, তখনই একটি দেশ সত্যিকারের উন্নতির পথে এগোবে।
সামিহা সিরাজী লাজ, শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

নীরব সংগ্রাম থেকে সচেতনতার পথে
সমাজে নারীকে একাধিক পরিচয়ে বাঁচতে হয়—মেয়ে, স্ত্রী, মা, কর্মজীবী কিংবা শিক্ষার্থী। প্রতিটি ভূমিকায় তার প্রতি প্রত্যাশা অসীম। কিন্তু তার মানসিক ক্লান্তি কিংবা ভাঙনের কথা খুব কমই শোনা হয়। সামাজিক চাপ, পারিবারিক দায়িত্ব এবং কর্মক্ষেত্রের প্রতিযোগিতা নারীর মনে তৈরি করে অদৃশ্য এক চাপের দেয়াল। কর্মজীবী নারী দিনে অফিসে দক্ষতার প্রমাণ দিয়ে ঘরে ফিরে আবার গৃহিণীর কাজ সামলান। এ কারণে অনেক সময় নিজের অনুভূতি, বিশ্রাম অথবা স্বপ্ন উপেক্ষা করতে হয়। গৃহিণীরাও কম চাপের মধ্যে থাকেন না। তাঁদের শ্রম প্রায়ই স্বীকৃতি পায় না। ফলে উদ্বেগ, হতাশা ও মানসিক অবসাদ দেখা দেয়। অথচ মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খোলাখুলি কথা বলা এখনো অনেক পরিবারে ‘দুর্বলতা’ হিসেবে দেখা হয়। এখন সময় এসেছে এই নীরব সংগ্রামকে স্বীকৃতি দেওয়ার। পরিবারের সমর্থন, কর্মক্ষেত্রে সহানুভূতিশীল পরিবেশ এবং খোলামেলা আলোচনা—এসব পদক্ষেপ নারীর মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে পারে।
সুরাইয়া বিনতে হাসান, শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

গৃহস্থালির অদৃশ্য অর্থনৈতিক কারিগর
অনেক নারী শিক্ষিত হলেও গৃহিণী হয়েই অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁরা যুক্ত থাকেন ঘরের বিভিন্ন কাজে। নারীরা বাড়ির আঙিনায় সবজি ও ফল চাষ, হাঁস-মুরগি পালন, হস্তশিল্প, সেলাই ও কারুশিল্প, মৃৎশিল্পসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরি করেন। খাবারের মধ্যে কেক, পিঠা, আচার, মিষ্টি—সবই নারীর হাতের মেধা ও শ্রমের ফল। অনেকে এগুলো বাসায় অর্ডার নিয়ে বিক্রি করেন। বর্তমানে নারীরা ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে ঘরে বসে অর্থ উপার্জন করছেন। গ্রাফিক ডিজাইন, কনটেন্ট রাইটিং, ডেটা এন্ট্রি, অনুবাদ—সবই তাঁদের আয়ের উৎস। ইউটিউব, ব্লগিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েশনেও নারীরা সক্রিয়। এ ছাড়া নারীরা হোম সার্ভিস হিসেবে বিউটি পারলার সেবা দেন এবং অনলাইনে কোচিং করিয়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষার্থীকে সহজে শিক্ষা দেন। যদিও এসব কাজ অনেক সময় চোখে পড়ে না, তবে এগুলো অর্থনৈতিক অবদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই আমাদের সবার উচিত নারীর এই পরিশ্রমকে সম্মান করা এবং তাঁদেরকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া।
আফিয়া আলম, শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজনীতি, প্রশাসন ও করপোরেট নেতৃত্বে নারী
সাফল্যের চূড়ায় একজন নারী যখন পৌঁছে যান, পৃথিবী শুধু তাঁর অর্জন দেখে। কিন্তু তাঁর পেছনের কঠিন সংগ্রাম, অক্লান্ত পরিশ্রম কেউ দেখতে চায় না। রাজনীতি, প্রশাসন বা করপোরেট—প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীকে যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হয়। নারীর পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সমাজের প্রাচীন মনোভাব, যেখানে মেধার চেয়ে লৈঙ্গিক বিষয়কে বড় করে দেখা হয়। রাজনীতির মাঠে চরিত্রহানির অপপ্রচার, প্রশাসনের পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার অসহযোগিতা, করপোরেট বোর্ডরুমে কণ্ঠনিষ্ঠার উপেক্ষা—এসবই প্রতিদিনের লড়াই। তা ছাড়া ঘর ও সন্তান সামলানোর অদৃশ্য চাপ এক হাতে সামলেই নারী যেভাবে উভয় ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনে, তা এক অনন্য কীর্তি।
নারীর প্রকৃত সাফল্য তখনই, যখন সব বাধা পেরিয়ে তিনি একজন গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারক হয়ে ওঠেন। নারীর সাফল্য মানে শুধু একটি পদ বা চেয়ার জয় নয়, বরং হাজারো বাঁকা হাসিকে তুচ্ছ করে মাথা উঁচু করে টিকে থাকার সেই অদম্য স্পর্ধা।
প্রজ্ঞা দাস, শিক্ষার্থী, ইডেন মহিলা কলেজ

ঘরে ও বাইরে দ্বৈত দায়িত্ব
পারিবারিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গন একসঙ্গে সামলানোর বিষয়টিকে কর্মজীবী নারীর দ্বৈত দায়িত্ব বলা হয়। চলুন ভাবি, একটি কর্মজীবী নারীর দিনের শুরু কেমন হয়। ভোরবেলায় তার ব্যস্ততা শুরু হয় রান্না, ঘর গোছানো, সন্তান দেখাশোনা—সব অবৈতনিক কাজে। তবে উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের ভাষায় বলা যায়, ‘নারী হচ্ছে গ্রন্থ, শিল্প, একাডেমি—সমগ্র পৃথিবীকে ধারণ ও লালন করে।’ ঘরের এত কাজের মধ্যেও একজন নারী কখনো অর্থনীতিবিদ হয়ে সংসারের বাজেট সামলান; অসুস্থতার সময় অদৃশ্য চিকিৎসকের ভূমিকা পালন করেন; সন্তানদের ক্ষেত্রে তিনি প্রথম শিক্ষক। অর্থাৎ, পরিবারকে সচল রাখতে তিনি নীরবে বহুমুখী দায়িত্ব পালন করেন।
তবু, এই শ্রমের কোনো আর্থিক মূল্য নেই। যদি নারীদের এই অদৃশ্য শ্রমকে অর্থনীতির আনুষ্ঠানিক খাতে অন্তর্ভুক্ত করা যেত, তাহলে সেটি জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখত। একই সঙ্গে নারীদের ন্যায্য অধিকার ও অর্থনৈতিক স্বীকৃতি নিশ্চিত হতো। তবে নারীর শ্রমের যথার্থ মূল্যায়নই পারে একটি ন্যায়ভিত্তিক এবং সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনের পথ সুগম করতে।
তিথি বিশ্বাস, শিক্ষার্থী, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলাদেশ সরকার এবং এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের আর্থিক সহযোগিতায় পরিচালিত ‘স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পেটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন প্রোগ্রামের (এসআইসিআইপি)’ আওতায় এই প্রথম চালু হয়েছে বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রি রিসার্চ ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইনোভেশন (বিআইআরডিআই) গ্র্যান্টস।
১ ঘণ্টা আগে
রমজানের বিকেল মানেই মুসলিমদের ঘরে ঘরে ইফতার আয়োজনের ব্যস্ততা। সারা দিনের রোজা শেষে প্রিয়জনদের সঙ্গে ইফতার করার আনন্দ যেন আলাদা এক অনুভূতি। তবে বগুড়ার পাঠকবন্ধুর সদস্যদের কাছে পরিবারের পরিধি আরও বিস্তৃত। নিজ নিজ পরিবারের বাইরে তাঁদের রয়েছে আরেকটি পরিবার—‘পাঠকবন্ধু’।
১ ঘণ্টা আগে
কল্পনা করুন, জনবহুল মেলায় সন্তান হারিয়ে গেছে কিংবা গভীর রাতে নির্জন রাস্তায় কোনো নারী বিপদে পড়েছেন। স্মার্টফোনে মাত্র একটি ক্লিক, আর ১০ মিনিটের মধ্যে সমাধান! সায়েন্স ফিকশন মনে হলেও এটি বাস্তব।
২ ঘণ্টা আগে
সম্প্রতি রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) আয়োজন করেছে ‘সম্প্রীতির ইফতার মাহফিল’। এই বিশেষ আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা একসঙ্গে রোজা ভাঙার আনন্দ ভাগাভাগি করেন।
৩ ঘণ্টা আগে