আজকের পত্রিকা ডেস্ক

গাড়ি ও প্রযুক্তিপণ্য দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দক্ষিণ কোরিয়ার বড় রপ্তানি খাত হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির সৌন্দর্য প্রসাধনী পণ্য, বিশেষ করে—স্কিনকেয়ার ও কসমেটিকস মার্কিন গ্রাহকদের মধ্যে দারুণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। কোরিয়ান বিউটি পণ্য—সাধারণত ‘কে-বিউটি’ নামে পরিচিত—এখন অনেক মার্কিন নাগরিকের দৈনন্দিন রূপচর্চার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত পিয়ার্ল ম্যাক নামের এক গ্রাফিক ডিজাইনার জানান, তাঁর ত্বকের জন্য কোরিয়ান স্কিনকেয়ার পণ্য পশ্চিমা ব্র্যান্ডগুলোর তুলনায় অনেক বেশি উপযোগী। তাঁর কথায়, এখন তাঁর ব্যবহৃত স্কিনকেয়ার পণ্যের ৯৫ শতাংশই দক্ষিণ কোরিয়ার।
পণ্যের মান, উপাদান ও দামের দিক থেকে কে-বিউটি পণ্যগুলো এখন মার্কিন বাজারে একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি করেছে। হার্টলিফ, স্নেইল মিউসিনসহ নানা অনন্য উপাদান ব্যবহার হওয়ায় এসব পণ্য পশ্চিমা বাজারে নতুন আকর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে কোরিয়ান বিউটি পণ্যে ভোক্তাদের ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫০ শতাংশের বেশি। এই বিশাল বাজারে সম্প্রতি এক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির কারণে। তিনি দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আমদানি হওয়া বেশ কিছু পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করেছেন। যদিও শুরুতে শুল্কহার ২৫ শতাংশ করার হুমকি ছিল, পরে তা কিছুটা কমানো হয়। তবে এর আগেই মার্কিন ভোক্তাদের মধ্যে আগাম প্রস্তুতির হিড়িক পড়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় কে-বিউটি রিটেইলার ‘সান্তে’ জানিয়েছে, এপ্রিলে তাদের বিক্রি ৩০ শতাংশ বেড়ে যায়। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা শায়েন ওয়্যার বলেন, ‘শুল্কের ঘোষণা আসার পর গ্রাহকেরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেন—তাঁদের প্রিয় পণ্যগুলো কীভাবে সংরক্ষণ করবেন বা আগেভাগেই সংগ্রহ করে রাখবেন।’
অন্যদিকে আরেক বিক্রেতা ‘সেন্টি সেন্টি’র ব্যবস্থাপক উইনি ঝং বলেন, সরবরাহকারীরা তাদের সতর্ক করে বলেছেন, যত দ্রুত সম্ভব পণ্য মজুত করে রাখতে। অনেকেই শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগে বেশি করে আমদানি করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুল্ক কার্যকর হলে পণ্যের দাম বাড়বে। বিশেষ করে যেসব ছোট ব্যবসায়ী অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কাজ করেন, তাদের লাভের পরিমাণ কম হওয়ায় তারা সমস্যায় পড়বেন।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ মুনসিওব লি বলেন, ‘দাম বাড়লেও কোরিয়ান সংস্কৃতির প্রতি বিশ্বজুড়ে যে আগ্রহ রয়েছে, তা এ পণ্যের বাজার ধরে রাখতে সাহায্য করবে। তাঁর মতে, মাঝেমধ্যে যাঁরা পণ্য কিনে থাকেন, তাঁদের অনেকে হয়তো দাম বেশি দেখে পিছু হটবেন। কিন্তু নিয়মিত ব্যবহারকারীদের কাছে এর সহজ বিকল্প নেই।’
পিয়ার্ল ম্যাক বলেন, দাম যদি খুব বেশি না বাড়ে, তবে তিনি আগের মতোই এসব পণ্য কিনে যাবেন। যদিও তিনি মাঝেমধ্যে মার্কিন ব্র্যান্ডের পণ্য খুঁজে দেখেন, তবে এখনো পর্যন্ত তেমন কার্যকর কোনো বিকল্প পাননি বলে জানান।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, বড় কে-বিউটি কোম্পানিগুলোর পক্ষে এই শুল্কের বোঝা সামলানো সহজ হবে। কারণ, তাদের লাভের পরিমাণ বেশি হওয়ায় তারা কিছুটা মূল্যছাড় দিতে পারবে। কিন্তু ছোট কোম্পানিগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে।
ব্যবসা পরামর্শক ইয়াল ভিক্টর মামো বলেন, ‘এখন যেসব পণ্য বাজারে রয়েছে, সেগুলো আগেই কেনা হয়েছে বলে দাম বাড়ার প্রভাব এখনো সেভাবে পড়েনি। তবে শিগগিরই এর বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাবে।’
এই পরিস্থিতি শুধু দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষেত্রেই নয়। ট্রাম্প সরকার সম্প্রতি জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও চুক্তি করেছে, যেখানে তাদের রপ্তানি পণ্যের ওপর একই হারে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ফলে বিশ্বের অনেক বড় কসমেটিকস ব্র্যান্ড এখন মার্কিন বাজারে একই প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে।
ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়ানো। তবে বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন—এই উদ্যোগে সত্যিই ভোক্তারা দেশীয় পণ্যের দিকে ঝুঁকবেন কিনা। কারণ অনেক মার্কিন ক্রেতার মতে, দেশীয় বিকল্প এখনো আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছায়নি।
তথ্যসূত্র: বিবিসি

গাড়ি ও প্রযুক্তিপণ্য দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দক্ষিণ কোরিয়ার বড় রপ্তানি খাত হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির সৌন্দর্য প্রসাধনী পণ্য, বিশেষ করে—স্কিনকেয়ার ও কসমেটিকস মার্কিন গ্রাহকদের মধ্যে দারুণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। কোরিয়ান বিউটি পণ্য—সাধারণত ‘কে-বিউটি’ নামে পরিচিত—এখন অনেক মার্কিন নাগরিকের দৈনন্দিন রূপচর্চার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত পিয়ার্ল ম্যাক নামের এক গ্রাফিক ডিজাইনার জানান, তাঁর ত্বকের জন্য কোরিয়ান স্কিনকেয়ার পণ্য পশ্চিমা ব্র্যান্ডগুলোর তুলনায় অনেক বেশি উপযোগী। তাঁর কথায়, এখন তাঁর ব্যবহৃত স্কিনকেয়ার পণ্যের ৯৫ শতাংশই দক্ষিণ কোরিয়ার।
পণ্যের মান, উপাদান ও দামের দিক থেকে কে-বিউটি পণ্যগুলো এখন মার্কিন বাজারে একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি করেছে। হার্টলিফ, স্নেইল মিউসিনসহ নানা অনন্য উপাদান ব্যবহার হওয়ায় এসব পণ্য পশ্চিমা বাজারে নতুন আকর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে কোরিয়ান বিউটি পণ্যে ভোক্তাদের ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫০ শতাংশের বেশি। এই বিশাল বাজারে সম্প্রতি এক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির কারণে। তিনি দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আমদানি হওয়া বেশ কিছু পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করেছেন। যদিও শুরুতে শুল্কহার ২৫ শতাংশ করার হুমকি ছিল, পরে তা কিছুটা কমানো হয়। তবে এর আগেই মার্কিন ভোক্তাদের মধ্যে আগাম প্রস্তুতির হিড়িক পড়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় কে-বিউটি রিটেইলার ‘সান্তে’ জানিয়েছে, এপ্রিলে তাদের বিক্রি ৩০ শতাংশ বেড়ে যায়। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা শায়েন ওয়্যার বলেন, ‘শুল্কের ঘোষণা আসার পর গ্রাহকেরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেন—তাঁদের প্রিয় পণ্যগুলো কীভাবে সংরক্ষণ করবেন বা আগেভাগেই সংগ্রহ করে রাখবেন।’
অন্যদিকে আরেক বিক্রেতা ‘সেন্টি সেন্টি’র ব্যবস্থাপক উইনি ঝং বলেন, সরবরাহকারীরা তাদের সতর্ক করে বলেছেন, যত দ্রুত সম্ভব পণ্য মজুত করে রাখতে। অনেকেই শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগে বেশি করে আমদানি করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুল্ক কার্যকর হলে পণ্যের দাম বাড়বে। বিশেষ করে যেসব ছোট ব্যবসায়ী অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কাজ করেন, তাদের লাভের পরিমাণ কম হওয়ায় তারা সমস্যায় পড়বেন।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ মুনসিওব লি বলেন, ‘দাম বাড়লেও কোরিয়ান সংস্কৃতির প্রতি বিশ্বজুড়ে যে আগ্রহ রয়েছে, তা এ পণ্যের বাজার ধরে রাখতে সাহায্য করবে। তাঁর মতে, মাঝেমধ্যে যাঁরা পণ্য কিনে থাকেন, তাঁদের অনেকে হয়তো দাম বেশি দেখে পিছু হটবেন। কিন্তু নিয়মিত ব্যবহারকারীদের কাছে এর সহজ বিকল্প নেই।’
পিয়ার্ল ম্যাক বলেন, দাম যদি খুব বেশি না বাড়ে, তবে তিনি আগের মতোই এসব পণ্য কিনে যাবেন। যদিও তিনি মাঝেমধ্যে মার্কিন ব্র্যান্ডের পণ্য খুঁজে দেখেন, তবে এখনো পর্যন্ত তেমন কার্যকর কোনো বিকল্প পাননি বলে জানান।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, বড় কে-বিউটি কোম্পানিগুলোর পক্ষে এই শুল্কের বোঝা সামলানো সহজ হবে। কারণ, তাদের লাভের পরিমাণ বেশি হওয়ায় তারা কিছুটা মূল্যছাড় দিতে পারবে। কিন্তু ছোট কোম্পানিগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে।
ব্যবসা পরামর্শক ইয়াল ভিক্টর মামো বলেন, ‘এখন যেসব পণ্য বাজারে রয়েছে, সেগুলো আগেই কেনা হয়েছে বলে দাম বাড়ার প্রভাব এখনো সেভাবে পড়েনি। তবে শিগগিরই এর বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাবে।’
এই পরিস্থিতি শুধু দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষেত্রেই নয়। ট্রাম্প সরকার সম্প্রতি জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও চুক্তি করেছে, যেখানে তাদের রপ্তানি পণ্যের ওপর একই হারে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ফলে বিশ্বের অনেক বড় কসমেটিকস ব্র্যান্ড এখন মার্কিন বাজারে একই প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে।
ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়ানো। তবে বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন—এই উদ্যোগে সত্যিই ভোক্তারা দেশীয় পণ্যের দিকে ঝুঁকবেন কিনা। কারণ অনেক মার্কিন ক্রেতার মতে, দেশীয় বিকল্প এখনো আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছায়নি।
তথ্যসূত্র: বিবিসি

ভারতের এই সিদ্ধান্ত দেশটির গণমাধ্যমে খুব একটা আলোচিত হয়নি। তবে অনেকের মতে, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের আগের আরোপ করা ৫০ শতাংশ (শাস্তিমূলক) শুল্কের নীরব জবাব। এই পরিস্থিতি দুই দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য আলোচনাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।
২ ঘণ্টা আগে
সৌদি আরবের খনি শিল্পে এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী সাফল্যের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় খনি কোম্পানি ‘মাআদেন’। দেশের চারটি কৌশলগত স্থানে নতুন করে প্রায় ৭৮ লাখ আউন্স (২ লাখ ২১ হাজার কেজির বেশি) স্বর্ণের মজুত খুঁজে পাওয়া গেছে।
৫ ঘণ্টা আগে
‘আমরা বিশ্বকে সেভাবেই গ্রহণ করি, যেভাবে বর্তমানে আছে; আমাদের ইচ্ছেমতো বদলে নিয়ে নয়।’ —কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির এই একটি বাক্যই এখন দেশটির নতুন পররাষ্ট্রনীতির মূলমন্ত্র। গত শুক্রবার বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পাদিত ঐতিহাসিক বাণিজ্য...
৬ ঘণ্টা আগে
স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের ভাইস চেয়ারম্যান রত্না পাত্র কোম্পানিটির ১০ লাখ শেয়ার কেনার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে পুঁজিবাজার ও ব্লক মার্কেট থেকে শেয়ারগুলো ক্রয় করবেন বলে গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে।
২ দিন আগে