
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে অপ্রত্যাশিত ধাক্কা লেগেছে। চলতি বছরের জুলাই মাসে দেশটির অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হওয়ার বদলে চাকরির বাজারে ২৩ হাজার পদ কমেছে। একই সঙ্গে মে ও জুন মাসের কর্মসংস্থানের তথ্যও বড় পরিসরে সংশোধন করে আগের তুলনায় অনেক কম দেখানো হয়েছে। এতে আগামী সেপ্টেম্বরে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাইয়ে নন-ফার্ম পেরোল বা কৃষি খাতের বাইরে মোট কর্মসংস্থান ২৩ হাজার কমেছে। রয়টার্সের জরিপে অর্থনীতিবিদেরা যেখানে চাকরির বাজারে ৮০ হাজার নতুন পদ সৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, সেখানে বাস্তবে কর্মসংস্থান কমেছে। এর আগে জুন মাসে আগে ৫৭ হাজার নতুন পদ সৃষ্টির যে তথ্য দেওয়া হয়েছিল, সেটিও পরে নিম্নমুখী করে সংশোধন করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, মে ও জুন—এই দুই মাসে মোট কর্মসংস্থান আগের হিসাবের তুলনায় ১ লাখ ৩ হাজার কম ছিল।
তবে বেকারত্বের হার জুনের ৪ দশমিক ২ শতাংশ থেকে কমে জুলাইয়ে ৪ দশমিক ১ শতাংশে নেমে এসেছে। কিন্তু এর পেছনে ইতিবাচক কর্মসংস্থান নয়, বরং শ্রমবাজার থেকে আরও ২ লাখ ৬৪ হাজার মানুষের বেরিয়ে যাওয়াই প্রধান কারণ। এর ফলে শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার কমে ৬১ দশমিক ৪ শতাংশে নেমেছে, যা প্রায় সাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, গ্রীষ্মকালে কর্মসংস্থান কিছুটা ধীর হয়ে থাকে। তবে জুলাইয়ের চাকরি হ্রাস এবং আগের দুই মাসের বড় ধরনের নিম্নমুখী সংশোধন শ্রমবাজারের প্রকৃত অবস্থাকে নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
নিউইয়র্কভিত্তিক আর্থিক বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান এফডব্লিউডিবন্ডসের প্রধান অর্থনীতিবিদ ক্রিস্টোফার রুপকি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘মনে হচ্ছে শ্রমবাজার নতুন নিয়োগ কার্যত থামিয়ে দিয়েছে। অর্থনীতির জন্য এটি এখনই চূড়ান্ত সংকেত না হলেও ভবিষ্যৎ খুব আশাব্যঞ্জক দেখাচ্ছে না। যদি হতাশা আরও মানুষকে শ্রমবাজার ছাড়তে বাধ্য করে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় কর্মী না পায়, তাহলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও দুর্বল হতে পারে।’
এই তথ্য প্রকাশের পর আর্থিক বাজারে একটি ধারণা জোরালো হয়েছে যে, ফেড সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর বিষয়ে আরও সতর্ক অবস্থান নিতে পারে। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের (এলএসইজি) তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবেদন প্রকাশের পর সেপ্টেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৪৩ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগে ছিল ৫৭ শতাংশ। গত সপ্তাহে ফেড তাদের নীতিগত সুদের হার ৩ দশমিক ৫০ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশের মধ্যে অপরিবর্তিত রেখেছিল।
ফেডের নীতিনির্ধারণী কমিটির তিন সদস্য অবশ্য সুদের হার আরও ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছিলেন।
জুলাইয়ে স্থানীয় সরকার পরিচালিত শিক্ষা খাতে ৫০ হাজার চাকরি কমেছে, যা সামগ্রিক কর্মসংস্থান কমার অন্যতম প্রধান কারণ। খুচরা বিক্রয় খাতেও ১৯ হাজার চাকরি হারিয়েছে, যার বড় অংশই গুদামভিত্তিক সুপারস্টোর ও সাধারণ পণ্য বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে।
এ ছাড়া আর্থিক খাতে আরও ১৪ হাজার পদ কমেছে। ২০২৫ সালের মে মাসে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছানোর পর থেকে এ খাতে মোট ১ লাখ ২১ হাজার পদ কমেছে।
স্বাস্থ্যসেবা খাতে ২২ হাজার নতুন পদ সৃষ্টি হয়েছে। তবে গত এক বছরের মাসিক গড় ৩৬ হাজারের তুলনায় এ সংখ্যা অনেক কম। নির্মাণ ও উৎপাদন খাতে কর্মসংস্থান প্রায় অপরিবর্তিত ছিল।
মরগ্যান স্ট্যানলি ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের প্রধান অর্থনৈতিক কৌশলবিদ এলেন জেন্টনার বলেন, ‘দুর্বল কর্মসংস্থান ফেডের ওপর সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর চাপ কিছুটা কমাতে পারে। তবে আগামী সপ্তাহে প্রকাশিত মূল্যস্ফীতির তথ্যই শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে। যদি মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি থাকে, তাহলে দুর্বল শ্রমবাজারও সুদের হার বাড়ানোর দাবি আটকাতে পারবে না।’
এদিকে শ্রম বিভাগের প্রতিবেদন প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের মুনাফা কমেছে এবং ডলারের মূল্যও প্রধান আন্তর্জাতিক মুদ্রাগুলোর বিপরীতে কিছুটা দুর্বল হয়েছে।

দেশের পুঁজিবাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করতে বন্ড ছাড়ছে পাঁচটি ব্যাংক। নিজেদের মূলধন শক্তিশালী করার পাশাপাশি সবুজ ও টেকসই প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য এ অর্থ সংগ্রহ করবে ব্যাংকগুলো। এর মধ্যে চার ব্যাংক বন্ডের অর্থ মূলধন শক্তিশালী করতে ব্যবহার করবে।
২ ঘণ্টা আগে
ব্যবসার ব্যাংক হিসাব খোলা ও ব্যবসা সম্প্রসারণে ঋণ নিতে এখন বাধ্যতামূলকভাবে ব্যবসায়িক শনাক্তকরণ নম্বর (বিআইএন) দেখাতে হচ্ছে। চলতি অর্থবছর থেকে কার্যকর হওয়া এ শর্তে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন কুটির, অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (সিএমএসএমই) উদ্যোক্তারা।
২ ঘণ্টা আগে
শরিয়াহসম্মত উপায়ে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে ইসলামি ক্রেডিট কার্ড (আইসিসি) পরিচালনায় পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দেশে আগে থেকেই বিভিন্ন ব্যাংকের ইসলামি ক্রেডিট কার্ড থাকলেও এবারই প্রথম এ ধরনের কার্ড পরিচালনার জন্য পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রক কাঠামো দেওয়া হলো।
৭ ঘণ্টা আগে
টেকসই শিল্পায়ন, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির বিকাশে অর্থায়নের সুযোগ বাড়াতে ২ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় চুক্তি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি।
৭ ঘণ্টা আগে