দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে বিশ্ববাজারে উদারীকরণ করে আসছে আমেরিকা। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতির ঘোষণায় এক কলমের খোঁচায় তা শেষ হয়ে গেল। এটা শুধু বাংলাদেশের জন্যই নয়, সারা বিশ্বের জন্য দুর্যোগের বার্তা নিয়ে আসছে।
আশা করা হচ্ছিল, ‘করোনা ও মূল্যস্ফীতির পর ইউরোপের বড় অর্থনীতিগুলো পুনরুদ্ধারের পথে হাঁটছে, একটু স্বস্তির সময় আসবে। সেখানে এখন নতুন করে শুল্ক আরোপের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ২ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি কমে যেতে পারে, আর এতে বাড়বে মূল্যস্ফীতি। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি একদিকে মন্দা, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতিতে পড়লে তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে যেতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংকুচিত হবে। বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশ যারা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর খুবই নির্ভরশীল—আমদানি ও রপ্তানি দুটোতেই তাদের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ আসবে। আমরা এমনিতেই দুর্বল অবস্থা থেকে উত্তরণের পথে যাচ্ছিলাম। আমাদের অর্থনৈতিক সূচকগুলো কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিচ্ছিল। এর মধ্যে বড় দুটি সূচক রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের কারণে দুটো সূচকেই আঘাত আসতে পারে। কারণ বিশ্বমন্দা দেখা দিলে বেকারত্ব বাড়বে, মজুরি কমবে, মূল্যস্ফীতি বাড়বে। কাজেই সেখানে রেমিট্যান্সও কম পাবেন।’
এক অশুভ নীতির শুল্কযুদ্ধের সূত্রপাত শুরু হলো। এই যুদ্ধে বাংলাদেশের বাজার দখলের ঝুঁকি নেই। কারণ ভারত ও পাকিস্তান ছাড়া ভিয়েতনাম, লাওস, ইন্দোনেশিয়াসহ বেশির ভাগ দেশের ওপর শুল্ক আরও বেশি আরোপ করা হয়েছে। সুতরাং প্রতিযোগিতার সক্ষমতায় তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশের বাজার পরিবর্তিত হবে না। তারাও কোনো বাড়তি সুবিধা পাবে না; কিন্তু চাহিদা সংকুচিত হবে। চাহিদা সংকুচিত হলে আমাদের বিক্রি কমে যেতে পারে। প্রশ্ন হলো, এখন আমাদের করণীয় কী? দ্বিতীয়টা হলো মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি করণীয়টা।
এ ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক করণীয় হলো নতুন করে যে ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, ‘তা কে দেবে? এটা কী আমাদের যাঁরা সাপ্লাইয়ার রয়েছেন তাঁরা মূল্য কমিয়ে বহন করবেন? না যাঁদের মাধ্যমে আমেরিকার বাজারে পণ্য প্রবেশ করে (যেমন ওয়ালমার্ট) তাঁরা দেবেন।’
বায়ারদের কাছ থেকে একটা চাপ থাকবে। আমরা দাম যদি বেশি বাড়িয়ে দেই, তাহলে বিক্রি কমে যাবে। এ ধরনের যুক্তি দেখিয়ে বলবে, তোমরা একটা অংশ শেয়ার করো। সে ক্ষেত্রে আমাদের এককভাবে বায়ারদের সঙ্গে নেগোসিয়েট (সমঝোতা) না করে সংগঠিত হয়ে যৌথভাবে নেগোসিয়েশন করতে হবে।
বিজিএমইএর পক্ষে বায়ারদের বলতে হবে, ‘এ মুহূর্তে জাহাজে যে মাল তুলেছি, তার জন্যও শুল্ক দিতে হবে। যে অর্ডারগুলোর চুক্তি করেছি, উৎপাদন পর্যায়ে রয়েছে তার জন্য শুল্ক আরোপিত হবে। ব্যবসায়ীরা সবাই একমত হন যে, পারলে শতভাগ আরোপিত শুল্কের বোঝাটা বায়ারদের ওপর চাপিয়ে দিতে হবে। কারণ আমাদের প্রফিট মার্জিন বেশি নয়। শুল্ক অ্যাবজর্ভ করার মতো অবস্থা নেই, বিশেষ করে ওভেন খাতে। ৩৭ শতাংশ শুল্ক আমাদের দেওয়া সম্ভব নয়।
দ্বিতীয় বিষয় হচ্ছে, আমেরিকান পণ্য বাংলাদেশে এলে ৭৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। ট্রাম্প তো বলেছেন, ‘তোমরা যদি তোমাদের ডিউটি কমাও তাহলে আমরা তো সংস্কারের কার্যক্রম শুরু করেছি। এ সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ করে ডিউটি কমিয়ে আনতে পারি। সে চেষ্টা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয়ভাবে দর-কষাকষি করতে হবে। কারণ ট্রাম্প দ্বিপক্ষীয় দর-কষাকষিতে বিশ্বাস করেন।
ড. জাহিদ হোসেন, সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ , বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়

পর্যটন খাতকে শুধু প্রচারনির্ভর না রেখে পুরো ব্যবস্থাকে প্রযুক্তিনির্ভর ও স্মার্ট করার আহ্বান জানিয়েছেন পর্যটনসংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, পর্যটকের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা সহজ ও নিরাপদ করতে বিমানবন্দর থেকে পরিবহন, হোটেল, ভিসা, বুকিং, পেমেন্ট, ট্যুর গাইড ও পর্যটন তথ্য—সব সেবাকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল কাঠামোর আওতায়
১ ঘণ্টা আগে
আগামী মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ‘বিশ্ব হার্ট দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীর মহাখালীর ইউনিভার্সেল কার্ডিয়াক হাসপাতাল আয়োজন করেছে দিনব্যাপী ‘ফ্রি হার্ট ক্যাম্প’। মহাখালী রাওয়া ক্লাবের বিপরীতে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এই ক্যাম্প চলবে।
৪ ঘণ্টা আগে
‘এমপাওয়ারিং ফার্মাসিস্টস ফর হেলদিয়ার ফিউচারস’ প্রতিপাদ্য নিয়ে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশে (আইইউবি) বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। আইইউবির স্কুল অব ফার্মেসি অ্যান্ড পাবলিক হেলথের অধীন ফার্মেসি বিভাগের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে...
৪ ঘণ্টা আগে
ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েটদের অনস্পট চাকরির নিশ্চয়তা, শিক্ষার্থীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মজীবনের প্রস্তুতি এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করতে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘ক্যারিয়ার এক্সপো ২০২৬’
৪ ঘণ্টা আগে