Ajker Patrika

একনেকে মেট্রোরেলের ৩টিসহ ১২ প্রকল্প অনুমোদন

বাসস, ঢাকা  
আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩: ৪৫
একনেকে মেট্রোরেলের ৩টিসহ ১২ প্রকল্প অনুমোদন
আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিআইডি

রাজধানীতে পরিবেশবান্ধব গণপরিবহনব্যবস্থা সহজতর করতে তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্পসহ ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়-সংবলিত ১২টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

আজ বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত চলতি অর্থবছরের একনেকের তৃতীয় সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।

সভাশেষে শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি ও পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৪৮ হাজার ২৫৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ১ লাখ ২০ হাজার ৪৬৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে পাওয়া যাবে অবশিষ্ট ৫৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প সাতটি ও সংশোধিত পাঁচটি।

সভায় সরকার ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি নতুন মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে এবং দুটি চলমান মেট্রোরেল প্রকল্পের সংশোধনও ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করেছে।

প্রস্তাবিত এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন রুটে গাবতলী থেকে দাসেরকান্দি পর্যন্ত ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার মেট্রোরেল করিডর নির্মাণ করা হবে, যার মধ্যে ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার পাতাল (আন্ডারগ্রাউন্ড) ট্র্যাক থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এমআরটি লাইন-১ এবং এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন রুটের সংশোধিত প্রস্তাব বিবেচনা ও অনুমোদন করা হয়।

লাইন-৫ সাউদার্ন রুটের জন্য সরকার দেবে ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, অন্য দিকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিল (ইডিসিএফ) থেকে ঋণ হিসেবে আসবে ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি ১০ লাখ টাকা।

২০১৯ সালে অনুমোদিত দুটি চলমান মেট্রো প্রকল্পের প্রাথমিক সম্মিলিত আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯৩ হাজর ৭৯৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। বর্তমান সম্মিলিত সংশোধিত ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ২৪৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা, যা ১ লাখ ১০ হাজার ৪৪৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা বা ১১৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেশি।

মূল লাইন নির্মাণ, ভূমি উন্নয়ন, ভবন, বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক ব্যবস্থা, ইউটিলিটি স্থানান্তর এবং সরঞ্জাম-সম্পর্কিত ব্যয় পুনরায় মূল্যায়নের পর গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) পরিকল্পনা কমিশনে সংশোধিত প্রস্তাব পাঠায় সংস্থাটি।

বিমানবন্দরকে কমলাপুরের সঙ্গে সংযুক্তকারী ও নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত একটি উড়াল শাখাবিশিষ্ট ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-১-এর ব্যয় ২০১৯ সালে একনেক কর্তৃক অনুমোদিত ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা করা হয়েছে।

এই বৃদ্ধি ৬১ হাজার ৮৩৩ কোটি ৪৬ লাখ কোটি টাকা বা ১১৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ। সরকারের অনুদান ১৩৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়াবে ৩০ হাজার ৫৫২ কোটি ২৬ লাখ টাকায়। অন্য দিকে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) ঋণ ১১২ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়াবে ৮৩ হাজার ৮৪২ কোটি ৬৩ লাখ টাকায়।

সংশোধনে এই ব্যয় বাড়ার কারণ হিসেবে কোভিড মহামারির সময় নকশা ও দরপত্র প্রস্তুত করতে বিলম্ব এবং দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল বাস্তবায়নে জটিলতাকে দায়ী করা হয়েছে।

বিস্তারিত নকশা প্রণয়নকালে স্টেশনগুলোর আকার বাড়ানো হয়, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ এবং ভেন্টিলেশন শ্যাফট স্থানান্তর করা হয়, রাজারবাগে তিনতলাবিশিষ্ট স্টেশন নির্মাণ এবং নির্মাণের সময় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য প্রায় ২০ কিলোমিটার বিকল্প রাস্তা (ডিটুর রোড) অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন রুটের ব্যয় ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ৮৯ হাজর ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকায়, যা ৪৮ হাজার ৬০৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা বা ১১৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি।

সরকারের অনুদান ৮৪ দশমিক ২২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়াবে ২২ হাজার ৩৩০ কোটি ১১ লাখ টাকায়, অন্য দিকে জাইকার ঋণ ১৩১ দশমিক ৮৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়াবে ৬৭ হাজার ৫১৮ কোটি ২৪ লাখ টাকায়।

হেমায়েতপুর-আমিনবাজার অংশটি উড়ালপথে হবে আর আমিনবাজার-ভাটারা অংশটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার মধ্য দিয়ে পাতালপথে যাবে। প্রকল্পটি মূলত ২০২৮ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ চালুর কথা থাকলেও এটি এখন ২০৩২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সমাপ্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

আজকের সভায় অনুমোদিত ১২টি প্রকল্পের মধ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের পাঁচটি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুটি, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দুটি এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি করে প্রকল্প রয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনুমোদিত অপর দুটি প্রকল্প হলো: ৯৪৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘রাজশাহী সড়ক জোনের আওতাধীন জেলা মহাসড়কসমূহ যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ’ এবং ১ হাজার ৪৫৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘চট্টগ্রাম সড়ক জোনের আওতাধীন জেলা মহাসড়কসমূহ যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (তৃতীয় পর্যায়)’।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প হলো—১ হাজার ১৫৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘বরিশাল সেনানিবাস, বরিশাল স্থাপন—দ্বিতীয় পর্যায়’ এবং ৩৭৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘খুলনা নৌ অঞ্চলে নৌ সদস্যদের আবাসন সুবিধাসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ’।

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ২৭০ কোটি ৩৯ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ে ‘খুলনা পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প (প্রথম সংশোধন)’ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত দুটি প্রকল্প হলো—৩ হাজার ৮২২ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর সেকশনে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন বাস্তবায়ন’ এবং ৪ হাজার ৬৬৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ে ‘বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নতুন ডুয়েল গেজ রেলপথ নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত)’।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৮৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘টেক্সটাইল ও চামড়া খাতের শ্রমিকদের কাজের উন্নত পরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষাবিষয়ক প্রকল্প’।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৫২ দশমিক ৮১৮৩ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ে ‘মনপুরা দ্বীপাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার আপগ্রেডেশন ও সম্প্রসারণ (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী কর্তৃক ইতিমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়-সংবলিত ১৫টি প্রকল্প সম্পর্কেও একনেককে অবহিত করা হয়।

এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে—ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন (দ্বিতীয় সংশোধিত), বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির জাতীয় সদর দপ্তর নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত), ভাসানচরে গ্রিন বেল্ট স্থাপন ও কক্সবাজারে বনায়ন, দেশি মুরগি গবেষণা, সংরক্ষণ ও উন্নয়ন জোরদারকরণ, অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপন (প্রথম পর্যায়) (প্রথম সংশোধিত), জরাজীর্ণ, অপ্রশস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিদ্যমান বেইলি ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ সেতু প্রতিস্থাপন (রংপুর জোন) (প্রথম সংশোধিত) এবং পঞ্চম তলা হতে দশম তলা পর্যন্ত আরডিএ ভবন নির্মাণ।

এ ছাড়া জালালাবাদ সেনানিবাস এসআইঅ্যান্ডটির সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কোয়ার্টার গার্ড ও আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ, বন্যা পূর্বাভাস সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সিলেট বিভাগের ডিজিটাল এলিভেশন (৩উ) মডেল প্রস্তুতকরণ (প্রথম সংশোধন), ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সৈয়দপুরের অবকাঠামো উন্নয়ন, মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুল, খুলনার অধিকতর অবকাঠামো উন্নয়ন, স্ট্রেন্দেনিং সোশ্যাল প্রোটেকশন ফর ইমপ্রুভড রিজিল্যান্স, ইনক্লুশন অ্যান্ড টার্গেটিং (এসএসপিআইআরআইটি) (প্রথম সংশোধিত)’, বরগুনা জেলা স্টেডিয়ামের উন্নয়ন ও ডরমিটরি ভবন নির্মাণ, দিনাজপুর জেলা স্টেডিয়ামের অধিকতর উন্নয়ন ও ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণ এবং সিলেট-১০ নম্বর কূপ (অনুসন্ধান কূপ) খনন (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্প রয়েছে।

সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান; পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি; আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান; সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত; স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী সরদার এম এ মুহিত; পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি এবং পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট সচিবেরা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত