Ajker Patrika

বাড়তি ভাড়ার চাপে আমদানি-রপ্তানি

আবু বকর ছিদ্দিক, চট্টগ্রাম 
বাড়তি ভাড়ার চাপে আমদানি-রপ্তানি
গ্রাফিক্স: আজকের পত্রিকা

যুদ্ধজনিত অস্থিরতা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়ার কারণে বৈশ্বিক শিপিং খাতে ব্যয় দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে চাপ তীব্র হচ্ছে। পরিবহনঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, দীর্ঘ ও বিকল্প রুট ব্যবহার করতে হচ্ছে। ফলে সময় ও খরচ—দুটোই বাড়ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে নিত্যপণ্যের দামে, যা ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যচাপ তৈরি করছে।

সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি এড়িয়ে চলতে জাহাজগুলোকে নিরাপদ জলসীমায় অপেক্ষা করতে হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে, একই সঙ্গে বাংকার ফুয়েলের দাম এবং বিমা খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শিপিং লাইনের সরবরাহ সক্ষমতা কমে যাওয়ায় কনটেইনার সংকট তৈরি হচ্ছে। ফলে কনটেইনারপ্রতি ভাড়া গড়ে প্রায় এক হাজার ডলার পর্যন্ত বেড়ে গেছে। শিপিং অপারেটররা ডিটেনশন চার্জও বাড়িয়েছে এবং জরুরি জ্বালানি সারচার্জ (ইএফএস) আরোপ করেছে।

পরিসংখ্যান বলছে, বিভিন্ন রুটে ভাড়া উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সাংহাই থেকে ২০ ফুটের একটি কনটেইনার আমদানির খরচ ফেব্রুয়ারিতে ছিল প্রায় ১ হাজার ৫০০ ডলার, যা মার্চে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯০০ ডলারে। একই ধরনের কনটেইনারে লস অ্যাঞ্জেলেসে পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে ভাড়া ২ হাজার ৩০০ থেকে বেড়ে ২ হাজার ৯০০ ডলারে পৌঁছেছে। বাল্ক জাহাজের ক্ষেত্রে টনপ্রতি ভাড়া গড়ে প্রায় ২৫ ডলার বেড়েছে। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, বিভিন্ন রুটে গড়ে ৩০-৪০ শতাংশ পর্যন্ত শিপিং খরচ বেড়েছে।

বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি রকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, অধিকাংশ শিপিং কোম্পানি ডিটেনশন চার্জ ও জ্বালানি সারচার্জ—উভয়ই বাড়িয়েছে। কনটেইনার ভাড়া প্রায় এক হাজার ডলার পর্যন্ত বেড়েছে; পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে ট্রাকভাড়া ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে, যা সামগ্রিক লজিস্টিক খরচকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ খুব দ্রুত ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছাবে।

দেশের বড় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী জানান, যুদ্ধ শুরুর পর তিনি আমদানি কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছেন। তাঁর ভাষায়, প্রতি টনে গড়ে ২৫ ডলার পর্যন্ত ভাড়া বেড়েছে এবং একই সময়ে গমের দামও টনপ্রতি ৩০ ডলার বেড়েছে। তিনি বলেন, পণ্যের দামে এই অস্থিরতা এবং বাড়তি ফ্রেইট চার্জের কারণে আপাতত বাজারে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।

আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোও বিভিন্ন রুটে নতুন চার্জ কাঠামো আরোপ করছে। এশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ও পূর্ব উপকূলে ২০ ফুট কনটেইনারে অতিরিক্ত ১৬০ ডলার এবং ৪০ ফুট কনটেইনারে ৩২০ ডলার সারচার্জ আরোপ করা হচ্ছে। রেফ্রিজারেটেড কনটেইনারে এই হার আরও বেশি। ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন রুটেও জ্বালানি সারচার্জ (ইএফএস) ৮০ থেকে ৩২০ ডলারের মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় সব বড় শিপিং লাইনে কনটেইনার ডিটেনশন ও ডেমারেজ চার্জ ৪ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

মায়ারস্ক বাংলাদেশ ৬ এপ্রিল থেকে বিভিন্ন ধরনের কনটেইনারে দৈনিক ডিটেনশন চার্জ বাড়িয়েছে। একইভাবে ওশেন নেটওয়ার্ক এক্সপ্রেস ১ এপ্রিল থেকে ৪ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ সমন্বয় করেছে।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর জ্বালানির দাম ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলারের নিচ থেকে বেড়ে ১১৮ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে বিমার খরচ ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। সংঘাতপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজ চলাচল করায় দীর্ঘ রুট ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে জ্বালানি ব্যয় আরও বাড়ছে। সব মিলিয়ে এই ব্যয়বৃদ্ধি বাংলাদেশের রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য নতুন ও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

মঙ্গলবারের মধ্যে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার শোরুম অপসারণের নির্দেশ

কেন ব্যর্থ হলো ইসলামাবাদ সংলাপ, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র কে কী চায়

পুনর্বহালের এক মাস পর পদোন্নতি, বকেয়া বেতন-ভাতা পাবেন কোহিনূর মিয়া

নাগরিকত্ব পেতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান প্রসব, সুযোগ বন্ধ করছেন ট্রাম্প

ফিলিস্তিন ইস্যুতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের টুইট, ইসরায়েলের সঙ্গে বিবাদ তুঙ্গে

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত