ঢাকায় শুরু আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা বিটিটিএফ
• ২০ দেশের অংশগ্রহণ
• তিন দিনে ৬০ হাজার দর্শনার্থীর প্রত্যাশা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, টেকসই পর্যটন এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ঢাকায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড টুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ)–২০২৬। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ১৪ তম এ মেলার উদ্বোধন করা হয়। ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) আয়োজনে মেলাটি চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।
এবারের মেলার প্রতিপাদ্য ‘এআই পাওয়ার্ড টুরিজম, সাসটেইনেবল ডেসটিনেশন’। আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগিয়ে পর্যটন খাতের বিকাশ, পরিবেশবান্ধব পর্যটন উৎসাহিত করা এবং আন্তর্জাতিক সংযোগ জোরদার করাই এ আয়োজনের লক্ষ্য। মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, ফিলিপাইন ও নেপাল এবারের মেলার পার্টনার কান্ট্রি।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় মেলার উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী। এ সময় জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান, বাংলাদেশ টুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী, বাংলাদেশ টুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি জিএম আজিজুর রহমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পি. কেইংলেট, পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার, নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী এবং টোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের মেলায় ২০ টির বেশি দেশের পর্যটন প্রতিনিধি ও প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে নেপাল, ভারত, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ, ফিলিপাইন, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ব্রুনাই, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও আজারবাইজান। মেলায় ২০০ টির বেশি বুথ ও স্টল, ২২০ টির বেশি প্রদর্শক, ২৫০ জনের বেশি সম্ভাব্য ক্রেতা এবং ২ হাজার ৫০০-এর বেশি বাণিজ্যিক দর্শনার্থীর অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সাধারণ দর্শনার্থীর সংখ্যা ৬০ হাজার ছাড়াতে পারে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে বাংলাদেশের পর্যটন খাত নতুন যুগে প্রবেশ করছে। বিটিটিএফের মতো আয়োজন দেশের পর্যটনকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পর্যটনের চর্চা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
টোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ বলেন, টানা ১৩টি সফল আয়োজনের ধারাবাহিকতায় বিটিটিএফ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। এ মেলার মাধ্যমে দেশীয় পর্যটনকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা এবং বিদেশি অংশীজনদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এবারের মেলার টাইটেল স্পনসর ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এয়ারলাইনস পার্টনার এবং ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্ট প্লাটিনাম হসপিটালিটি পার্টনার হিসেবে রয়েছে। মেলার আয়োজনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, বাংলাদেশ টুরিজম বোর্ড, বাংলাদেশ টুরিস্ট পুলিশ ও এফবিসিসিআই সহযোগিতা করছে।
মেলাটি প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।








