ভালো ফলনেও কৃষকের মুখে হাসি নেই, এক টাকায় বিক্রি হচ্ছে চার লাউ

অটোরিকশার ভাড়া ১০০ টাকা, অথচ লাউ বিক্রি করে আয় ১২০ টাকা। পরিবহন খরচ বাদে হাতে থাকে মাত্র ২০ টাকা। এমন লোকসানের মুখে পড়ে আক্ষেপ করে আটোয়ারীর লাউচাষি কাদের বলেন, ‘এমনটা জানলে লাউ বাজারে আনতাম না।’ শুধু কাদের নন, পঞ্চগড়ের অনেক লাউচাষির এখন একই অবস্থা। ভালো ফলন হলেও বাজারে দাম না থাকায় কেউ বাগান থেকে লাউ তুলছেন না, কেউ আবার বন্ধ করে দিয়েছেন বাগানের পরিচর্যা।
পঞ্চগড়ের মাঠজুড়ে এখন লাউয়ের সবুজ সমারোহ। গাছে গাছে ঝুলছে লাউ, ফলনও হয়েছে ভালো। কিন্তু সেই ফলন কৃষকের মুখে হাসি ফোটাতে পারছে না। এক টাকায় বিক্রি হচ্ছে চারটি লাউ। প্রতি বিঘা জমিতে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ করে উৎপাদিত লাউ বিক্রি করে মিলছে মাত্র ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা। অথচ অন্য বছর একই জমির লাউ বিক্রি করে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা আয় করতেন কৃষকেরা। বাম্পার ফলনেও তাই তাঁদের চোখেমুখে এখন লোকসানের দুশ্চিন্তা।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় লাউচাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বিঘা জমিতে ৩ থেকে ৫ হাজার লাউ উৎপাদিত হয়। জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরিসহ উৎপাদন খরচ পড়ে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু বাজারে দাম এতটাই কম যে উৎপাদন খরচের সামান্য অংশও উঠছে না। ফলে পুঁজি হারানোর আশঙ্কায় হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা।
মির্জাপুর ইউনিয়নের লাউচাষি দুলাল বলেন, লাউ চাষের শুরু থেকে ফসল তোলা পর্যন্ত অনেক টাকা খরচ করতে হয়। এবার ভালো ফলন হলেও বাজারে দাম নেই। এক টাকায় চারটি লাউ বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ উঠছে না, বরং পুঁজি হারানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে সবজি চাষ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
আরেক চাষি আবাস আলী বলেন, পরিশ্রম করে ফসল ফলিয়েও যদি উৎপাদন খরচ না ওঠে, তাহলে কৃষক সংসার চালাব কীভাবে? বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি দিতে গিয়ে এমনিতেই কৃষকদের হিমশিম খেতে হয়। তার ওপর বাজারে ফসলের দাম না থাকায় লোকসান গুনতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে কৃষকদের লোকসান থেকে বাঁচাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
কৃষকেরা যখন উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন, তখন স্বস্তিতে নেই ব্যবসায়ীরাও। আটোয়ারী উপজেলার লাউ ব্যবসায়ী সাজ্জাত জানান, পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে লাউ সংগ্রহ করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। কিন্তু এবার দাম কম থাকায় ব্যবসায়ীরাও বিপাকে পড়েছেন। লাউ সংগ্রহ, শ্রমিকের মজুরি ও পরিবহন খরচ মিটিয়ে লাভ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁর ভাষ্য, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকার বাজারে প্রচুর লাউ আসছে। এ কারণে দাম কমে গেছে।
এ বিষয়ে জানতে আটোয়ারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।









