Ajker Patrika

মা-বাবার পর এবার বিধবাকে মারধরের অভিযোগে বহিষ্কার যুবদল নেতা

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ২২: ০৫
মা-বাবার পর এবার বিধবাকে মারধরের অভিযোগে বহিষ্কার যুবদল নেতা
মোজাম্মেল হক সোহেল। ছবি: সংগৃহীত

মা-বাবাকে মারধরের অভিযোগে একবার বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। পরে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে দলে ফিরেছিলেন নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক সোহেল। এবার এক বিধবা নারীকে মারধরের অভিযোগে তাঁকে আবারও বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল। একই সঙ্গে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে মোজাম্মেল হক সোহেলকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এজমল হোসেন পাইলটও বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মোজাম্মেল হক সোহেল উপজেলার বিক্রমশ্রী গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার রাতে নেত্রকোনা-২ আসনের এমপি ও জেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ারুল হক বারহাট্টা সদরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান। এ সময় অর্চনা রানী দাস নামের এক বিধবা নারী তাঁর পায়ে পড়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মোজাম্মেল হক সোহেলের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই সোহেলের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি সামনে আসে।

এর আগে গত ৪ জুলাই মা-বাবাকে মারধরের অভিযোগে মোজাম্মেল হক সোহেলকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে নানা তদবিরের পাশাপাশি মা-বাবাকে সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ জুলাই তাঁর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।

এবারের অভিযোগের বিষয়ে মোজাম্মেল হক সোহেল বলেন, ‘আমি প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্রের শিকার। আগেরবারও প্রতিপক্ষ আমাকে ফাঁসিয়েছিল। আমি মা-বাবার একমাত্র ছেলে। জমি লিখে নেওয়ার জন্য তাঁদের মারধর করার প্রয়োজন নেই; তাঁদের সবকিছুই তো আমার। আমার বাবা ক্যানসারে আক্রান্ত এবং নিয়মিত কেমোথেরাপি নিচ্ছেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে মা-বাবা নিজের অজান্তে হয়তো কিছু বলেছেন, যা প্রতিপক্ষ বাড়িয়ে প্রচার করেছে।’

প্রতিবেশী অর্চনা রানী দাসের অভিযোগের বিষয়ে সোহেল বলেন, ‘সাত বছর আগে অর্চনা রানীর ভাবিকে এক লাখ টাকা ধার দিয়েছিলাম। সেই টাকা ফেরত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁদের সঙ্গে তর্কবিতর্ক হয়েছে। পরে প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁকে প্ররোচিত করে এমপির কাছে নিয়ে গিয়ে মারধরের মিথ্যা অভিযোগ উপস্থাপন করেছে। পুরো অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত