৪৫ বছর পর সীমান্তের শূন্যরেখায় বাবার মরা মুখ দেখলেন মেয়ে

কাঁটাতারের বেড়া তাঁদের আলাদা করে রেখেছিল দীর্ঘ প্রায় চার যুগ। শতবর্ষী বাবার একটু যত্ন নেওয়া, মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়া, মুখে তুলে খাইয়ে দেওয়া-- এসবের কোন কিছুই করতে পারেননি মেয়ে। ৪৫ বছর পর যখন দেখা হলো, তখন বাবা চলে গেছেন সব আদর, ভালোবাসা, যত্নের ঊর্ধ্বে। এ আক্ষেপেই বার বার ডুকরে কেঁদে উঠছিলেন ফেরদৌসী খাতুন।
মেহেরপুরের মুজিবনগর সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের মানবিক উদ্যোগে আজ মৃত বাবার মুখ দেখলেন মেয়ে। বেলা ১১টার দিকে মেহেরপুরের মুজিবনগর স্বাধীনতা সড়কের ১০৫ নম্বর সীমান্ত পিলারের শূন্যরেখার বেলতলায় শেষবারের মতো বাবা-কন্যা কাছাকাছি এলেন। এসময় উভয় দেশের আত্মীয় স্বজনদের মাঝে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়রা জানান, মৃত মো: মোনরুদ্দিন শেখের বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চাপড়া থানার হৃদয়পুর গ্রামে। তাঁর বয়স প্রায় ১০০ বছর। নিহত মোনরুউদ্দিন এর ছয় সন্তানের মধ্যে তিন ছেলে ও তিন মেয়ে। প্রায় ৪৫ বছর আগে বড় মেয়ে ফেরদৌসী খাতুনের বিয়ে হয় বাংলাদেশের মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের সোনাপুর নতুনপাড়া গ্রামের মো: ইস্রাফিলের সঙ্গে। এরপর থেকেই ফেরদৌসী খাতুন তার স্বামীর সংসারেই বসবাস করছেন। পরবর্তীতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পর বাবার সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দীর্ঘদিন বাবার সঙ্গে সরাসরি দেখা বা যোগাযোগের সুযোগ হয়নি তাঁর।
ফেরদৌসী খাতুন জানালেন, ৬ ভাই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। বিয়ের পর থেকে তিনি স্বামীর সঙ্গে বাংলাদেশে আছেন। তাঁদের সঙ্গে কোন যোগাযোগ করতে পারেননি। বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তিনি এখানে ছুটে এসেছেন।
ফেরদৌসী আরও বলেন, ‘বেঁচে থাকা বাবার মুখটা আর দেখা হলো না। আমি যত দিন বাঁচব এই ব্যথা আমাকে বয়ে বেড়াতে হবে। বাবার কাফন পরানো দেহটা দেখে বুকের ভেতর যে কি কষ্ট হচ্ছে তা পৃথিবীর কাউকে বোঝানো সম্ভব নয়। তারা আবার বাবার মৃতদেহ নিয়ে চলে যাবে। হয়তো বাবার কবরটাও আর কোনদিন দেখতে পাব না। তবে শেষবারের মতো বাবার মুখটা দেখার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য বিজিবি ও বিএসএফ এর সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞ।’
এ সময় বাংলাদেশের পক্ষে বিজিবির মুজিবনগর কোম্পানি সদর কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার এনায়েত হোসেনের নেতৃত্বে বিজিবি’র একটি দল উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে ভারতের পক্ষে এএসআই সুনীল কুমার এর নেতৃত্বে বিএসএফ এর একটি দল উপস্থিত ছিলেন।









