Ajker Patrika

গাংনীতে সোলার প্যানেল ভেঙে তার কেটে দিল দুর্বৃত্তরা, বন্ধ সেচ কার্যক্রম

গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি
গাংনীতে সোলার প্যানেল ভেঙে তার কেটে দিল দুর্বৃত্তরা, বন্ধ সেচ কার্যক্রম
গতকাল সোমবার রাতে গাংনীর রামনগর ও বালিয়াঘাট মাঠে সোলার প্যানেল ভাঙচুর ও তার কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। ছবি: আজকের পত্রিকা

মেহেরপুরের গাংনীতে সেচ পাম্পের সোলার প্যানেল ভাঙচুর ও তার কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। এতে কৃষক ও সেচ পাম্পের মালিক মো. একতারুল ইসলামের তিনটি সোলার প্যানেলের প্লেট ভেঙে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাকি প্লেটগুলোর তারও। ফলে সেচ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় ২০ বিঘা জমির ধানসহ বিভিন্ন ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে উপজেলার রামনগর ও বালিয়াঘাট মাঠে এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার সকালে মাঠে গিয়ে সোলার প্যানেলগুলো ভাঙচুর ও তার কাটা অবস্থায় দেখতে পান সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, এখন ধানের ভরা মৌসুম। প্রতিদিন জমিতে সেচ দেওয়া প্রয়োজন। সময়মতো সেচ দিতে না পারলে ধানে চিটা পড়ার পাশাপাশি ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ধানের পাশাপাশি এসব জমিতে কলাই, পেঁয়াজ, সবজিসহ বিভিন্ন ফসল রয়েছে। সোলার প্যানেল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শুধু পাম্পের মালিক নন, সেচের ওপর নির্ভরশীল কৃষকেরাও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

সোলার প্যানেল ও সেচ পাম্পের মালিক একতারুল ইসলাম বলেন, গত বছর তিনি পাম্প ও সোলার প্যানেল স্থাপন করেন। পাম্প বসাতে তাঁর ১১ লাখ টাকা এবং সোলার প্যানেল স্থাপনে ছয় লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সকালে এসে দেখি, তিনটি প্লেট একেবারে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। বাকি প্লেটগুলোর সব তার কেটে দিয়েছে। এতে আমার কত টাকা খরচ হবে, তা-ও জানি না। যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে ওঠা আমার জন্য কঠিন। এখন সোলার প্যানেল ঠিক করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।’

একতারুল ইসলাম আরও বলেন, তাঁর সেচ পাম্পের আওতায় প্রায় ২০ বিঘা জমি রয়েছে। এসব জমিতে ধান, কলাই, পেঁয়াজ, সবজিসহ বিভিন্ন ফসল আবাদ করা হয়েছে। এখন সেচ দিতে না পারলে ফসলের ক্ষতি হবে। প্রতিটি সোলার প্যানেলের প্লেটের দাম প্রায় ২০ হাজার টাকা। ধারদেনা করে পাম্প ও সোলার প্যানেল স্থাপন করায় নতুন করে এগুলো মেরামতের সামর্থ্য তাঁর নেই। এ অবস্থায় কৃষি বিভাগের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

ধানচাষি মো. শান্ত ইসলাম বলেন, সময়মতো ধানের জমিতে সেচ দিতে না পারলে ধানে চিটা পড়বে এবং ফলন কমে যাবে। অন্যান্য ফসলও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি সেচ পাম্পের মালিককে সহযোগিতার জন্য কৃষি বিভাগের প্রতি আহ্বান জানান।

আরেক কৃষক মো. জিনারুল ইসলাম বলেন, সকালে এসে তাঁরা তিনটি সোলার প্যানেলের প্লেট ভাঙা এবং অন্য প্লেটগুলোর তার কাটা দেখতে পান। এতে সেচ বন্ধ রয়েছে। দ্রুত সোলার প্যানেল মেরামত করা না গেলে কৃষকেরা চরম ক্ষতির মুখে পড়বেন।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা বিষয়টি জেনেছি। খোঁজখবর নিচ্ছি। এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।’

গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন আজকের পত্রিকাকে বলেন, এ বিষয়ে লিখিত আবেদন পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। সোলার প্যানেল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পাম্পের মালিককে কোনো সহযোগিতা করা যায় কি না, তা-ও কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। কৃষি বিভাগ সব সময় কৃষকদের পাশে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, গত ১৩ অক্টোবর রাতে গাংনী উপজেলার ভবানীপুর মাঠ থেকে কৃষক মো. কামাল উদ্দিনের তিনটি সোলার প্যানেলের প্লেট চুরির ঘটনা ঘটে। এর তিন মাস আগেও একই স্থান থেকে তাঁর আরও তিনটি প্লেট চুরি হয়। বারবার এ ধরনের ঘটনায় উদ্বিগ্ন স্থানীয় কৃষকেরা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত