Ajker Patrika

পরকীয়ার অপবাদে বাড়িতে ঢুকে নারীকে মারধর, চুল কেটে শরীরে মরিচের গুঁড়া

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ২০: ৫৫
পরকীয়ার অপবাদে বাড়িতে ঢুকে নারীকে মারধর, চুল কেটে শরীরে মরিচের গুঁড়া
মারধরের পর ওই নারীর চুল কেটে নেওয়া হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে এক নারীকে (৪০) মারধরের পর তাঁর মাথার চুল কেটে দেওয়া এবং শরীরে শুকনো লাল মরিচের গুঁড়া মাখানোর অভিযোগ উঠেছে। এ সময় মাকে রক্ষা করতে গিয়ে তাঁর ছেলেও মারধরের শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা হয়েছে। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

আজ শুক্রবার বিকেলে করোতিপাড়া গ্রামে গিয়ে ওই নারীর সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। কথা বলতে গিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন তিনি। তাঁর স্বামী পেশায় ইজিবাইকচালক। তাঁদের ছেলে পাশের একটি বাজারে চুল কাটার কাজ করেন।

ওই নারীর ভাষ্য, বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁর স্বামী কাজে ছিলেন। তিনি বাড়িতে কাজ করছিলেন। এ সময় পাশের নসায়নপুর গ্রামের রসিদ নামের এক ব্যক্তি তাঁদের বাড়িতে এসে আনোয়ার নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর পরকীয়ার সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তাঁকে সতর্ক করে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘ভালো হয়ে যাও, না হলে বিপদে পড়বে।’

ওই নারী অভিযোগ অস্বীকার করলে আরও চারজন বাড়িতে ঢোকেন বলে দাবি করেন তিনি। তাঁদের মধ্যে একজন আনোয়ারের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগ তুলে তাঁর চুলের মুঠি ধরে মারধর শুরু করেন। এ সময় তাঁর পরনের কাপড়ও টানাহেঁচড়া করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগী নারী আরও বলেন, আনোয়ারের স্ত্রী তাঁর ব্যাগ থেকে কাঁচি বের করেন। অন্যরা তাঁকে ধরে রাখলে ওই নারী তাঁর মাথার চুল কেটে দেন। এরপর তাঁকে আরও মারধর করা হয়। পরে ব্যাগ থেকে বড় একটি প্যাকেট বের করে তাঁর শরীরে মরিচের গুঁড়া মাখিয়ে দিয়ে তাঁরা চলে যান।

নারী জানান, রাতে তাঁর স্বামী বাড়িতে ফিরলে তাঁকে ঘটনাটি জানান। পরে তাঁরা ঝিনাইদহ সদর থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।

ঘটনার সময় মায়ের চিৎকার শুনে ঘর থেকে বের হন ছেলে। তিনি বলেন, ‘আমি ঘরে ঘুমাচ্ছিলাম। মায়ের কান্নার শব্দ শুনে বের হয়ে দেখি, কয়েকজন মায়ের শরীরে ঝালের গুঁড়া মাখাচ্ছে। আমি বাধা দিতে গেলে তারা আমাকেও লাঠি দিয়ে মারধর করে।’

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এভাবে বাড়িতে ঢুকে একজন নারীকে মারধর, চুল কেটে দেওয়া ও শরীরে মরিচের গুঁড়া মাখানোর ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

স্থানীয়দের কয়েকজনের দাবি, আনোয়ার দীর্ঘদিন ধরে গ্রামে থাকেন না। তিনি শহরে থাকেন এবং গ্রামেও তেমন আসেন না।

এ বিষয়ে রসিদ, আনোয়ার ও তাঁর স্ত্রীর বক্তব্য জানতে তাঁদের একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তাঁরা ধরেননি।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান বলেন, ওই নারী বৃহস্পতিবার রাতে থানায় মামলা করেছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তদন্ত চলছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত