Ajker Patrika

সংস্কারের কথা বলে তুলে নেওয়া হলো ইটের সলিং, কাদাপানিতে ভোগান্তি

আনোয়ার হোসেন, মনিরামপুর (যশোর)
সংস্কারের কথা বলে তুলে নেওয়া হলো ইটের সলিং, কাদাপানিতে ভোগান্তি
বাকোশপোল গ্রামের রাস্তা। ছবি: আজকের পত্রিকা

যশোরের মনিরামপুরে সংস্কারের কথা বলে রাস্তার পুরোনো ইট তুলে নিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। এরপর ৩–৪ মাস পেরিয়ে গেলেও রাস্তার সংস্কারকাজ শুরু হয়নি। এখন পানি জমে কাদাপানিতে একাকার হয়ে গেছে মনিরামপুর সদর ইউনিয়নের বাকোশপোল গ্রামের রাস্তা। এতে স্থানীয় লোকজন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান,৭–৮ বছর ধরে বাকোশপোল গ্রামের রাস্তায় অল্প অল্প করে ইট বসানো হয়েছিল। কয়েক মাস আগে সেই ইটের সলিং তুলে নেন চেয়ারম্যান নিস্তার ফারুক। এরপর সংস্কারের কথা বলা হলেও এখনো কাজ দৃশ্যমান হয়নি। রাস্তায় এখন পানি জমে কাদার সৃষ্টি হয়েছে। এতে মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাকোশপোল গ্রামের সিদ্দিক মোড়ের অদূরে গয়েশপুর নিমতলা মোড় অভিমুখী ইটের সলিংয়ের রাস্তার আব্দুল কাদের চৌকিদারের বাড়ির সামনে থেকে গোবিন্দ মাস্টারের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৭০০ ফুট ইটের সলিং তুলে নেওয়া হয়েছে। এতে করে মসজিদের সামনে ও সড়কের মন্দিরের অদূরে বৃষ্টির পানি জমে কাদা হয়ে আছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তর (পিআইও) সূত্রে জানা গেছে, দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে ১ কোটি ৪৬ লাখ ৭০ হাজার ৫১০ টাকার চুক্তিতে উপজেলার শ্যামকুড়, হেলাঞ্চি ও বাকোশপোল গ্রামে ১ দশমিক ৯৮০ কিলোমিটার রাস্তা হেরিং বন বন্ড (এইচবিবি) সলিংয়ের কাজের দায়িত্ব পান জেলার বাঘারপাড়া উপজেলার মেসার্স তন্নি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আবু হুরায়রা। তাঁকে গত ৩১ মার্চ কাজ শুরু করে গত ১০ জুনের মধ্যে শেষ করার জন্য সময় দেওয়া হয়েছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঠিকাদার আবু হুরায়রা হেলাঞ্চি ও শ্যামকুড় এলাকায় কাজ শেষ করলেও বাকোশপোল গ্রামের আব্দুর রশিদের বাড়ি থেকে আব্দুল গফুরের বাড়ি পর্যন্ত ৬৫০ মিটার রাস্তার কাজ এখনো শুরুই করেননি। পিআইও দপ্তরের সঠিক তদারকির অভাবে আর ঠিকাদাররে অবহেলায় নির্ধারিত সময়ে বাকোশপোল এলাকার কাজটি সম্পন্ন হয়নি বলে জানা গেছে।

মনিরামপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিস্তার ফারুক বলেন, এইচবিবি সলিংয়ের জন্য বাকোশপোলের রাস্তাটির টেন্ডার হওয়ার পর ওই রাস্তার ৬০০ থেকে ৭০০ ফুট পুরোনো ইটের সলিং তুলে নিয়েছি। এসব আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের সলিং ছিল। এর মধ্যে কিছু ইট কাজে লাগানো হয়েছে। কিছু পরিষদসংলগ্ন স্তূপ করে রাখা হয়েছে।

চেয়ারম্যান আরও বলেন, ইট তুলে নেওয়ার পর বৃষ্টির কারণে ঠিকাদার কাজ করতে পারেননি। আমি অনেকবার ঠিকাদারের সঙ্গে ও পিআইও দপ্তরে কথা বলে কাজ সম্পন্ন করার তাগিদ দিয়েছি। ঠিকাদার কাজ শুরু করবে বলে এখনো করেননি। বিষয়টি নিয়ে আমি নিজেও বিপদে আছি।

এ বিষয়ে ঠিকাদার আবু হুরায়রা বলেন, মনিরামপুরে তিনটি রাস্তার মধ্যে দুটোর কাজ শেষ হয়েছে। একটি রাস্তার (বাকোশপোল) কাজ বৃষ্টির কারণে করা সম্ভব হয়নি। অতি দ্রুত রাস্তার কাজ শুরু করে সম্পন্ন করব।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সেলিম খান বলেন, ঠিকাদারকে জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি আর সময় বাড়ানোর আবেদন করেননি। আমরা ঠিকাদারকে কাজ শেষ করতে তাগিদ দিচ্ছি। কাজ না করলে তাঁকে বিল দেওয়া হবে না।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত