আট বছর ধরে ঢাকার পথে পথে, পরিবারে ফিরতে চায় ফুলবাড়ীর মুন্না

মাত্র ছয় বছর বয়সে অভিমান করে বাড়ি ছেড়েছিল মুন্না। ট্রেনে চড়ে চলে আসে ঢাকায়। এরপর পথশিশুদের সঙ্গে রাস্তায় রাস্তায় কেটেছে তার জীবনের প্রায় আট বছর। এখন তার বয়স প্রায় ১৪ বছর। দীর্ঘ সময় পর আবার বাবা-মায়ের কাছে ফিরতে চায় সে। ফিরে পেতে চায় পরিবারের স্নেহ-ভালোবাসা। মুন্নার বাড়ি দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় বলে জানা গেছে। তবে তার গ্রামের নাম ও ইউনিয়নের নাম মনে নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার পরিবারের সন্ধান চেয়ে একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে।

গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে ঢাকার ফকিরাপুল মোড়ে মুন্নার সঙ্গে দেখা হয় জিয়াউল হক নামের এক ব্যক্তির। পরে মুন্নার সঙ্গে কথা বলে তার পারিবারিক পরিচয় ও বাড়ি ফেরার আকাঙ্ক্ষার কথা জানতে পারেন তিনি। এরপর মুন্নার ছবি ও পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে একটি পোস্ট দেন জিয়াউল।
মুন্নার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার বাবার নাম রাসেল, মায়ের নাম সাথী এবং বোনের নাম শাহীনুর। তাদের বাড়ি দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায়। তবে নিজের গ্রামের নাম ও ইউনিয়নের নাম মনে করতে পারে না সে।
মুন্না জানিয়েছে, তার নানাবাড়ি ফুলবাড়ী উপজেলার খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের খয়েরবাড়ী গ্রামে। তার তিন খালার মধ্যে দুজনের নাম বৃষ্টি ও তানিয়া। তবে তৃতীয় খালা, দুই মামা এবং নানা-নানির নাম মনে করতে পারেনি সে।
পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর দীর্ঘ সময় ঢাকার রাস্তায় কাটিয়েছে মুন্না। পথশিশুদের সঙ্গে থাকা, রাস্তায় খাওয়া ও ঘুমানোই ছিল তার নিত্যদিনের জীবন। তবে এত বছর পরও বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা হারায়নি তার।
জিয়াউল হক আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমি একজন ফায়ার সার্ভিস কর্মী। আমার বাড়ি ময়মনসিংহে। এ ধরনের বিষয় আমি খুঁজে বের করার চেষ্টা করি এবং মাঝেমধ্যে ফেসবুকে পোস্ট দিই। সেদিন একটি কাজে স্কুটি নিয়ে যাচ্ছিলাম। ফকিরাপুল দিয়ে যাওয়ার সময় দেখি, কয়েকটি শিশু রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের জিজ্ঞেস করি, তোমাদের মধ্যে কেউ কি আছে, যে হারিয়ে গেছে? তখন তাদের একজন মুন্নাকে ডেকে আনে। পরে মুন্নার সঙ্গে কথা বলে তার সম্পর্কে জানতে পারি এবং তাকে কিছু খাবার কিনে দিই।’
জিয়াউল আরও বলেন, মুন্না তার বাবা-মায়ের কাছে ফিরতে চায়। এ কারণে তার ছবি ও পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন তিনি। মুন্না ফকিরাপুল মোড়ের পাশেই থাকে। কেউ তার পরিবারের সন্ধান পেলে যোগাযোগের মাধ্যমে পরিবারকে খুঁজে পেতে সহযোগিতা করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।
বিষয়টি নিয়ে কথা হলে খয়েরবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শামীম হোসেন বলেন, ‘যেহেতু আমার ইউনিয়নে তার নানাবাড়ি বলে জানতে পেরেছি, শিশুটির ছবি, নাম ও ঠিকানাসহ যেসব তথ্য আছে, সেগুলো আমাকে দিন। আমি অবশ্যই তার পরিবারকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করব।’
মুন্নার পরিবারের সন্ধান পেতে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন জিয়াউল হক। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ০১৭১৯-৭৭৯৫৪৪ দিয়ে অনুরোধ জানিয়েছেন জিয়াউল।









