Ajker Patrika

এডিপি বাস্তবায়নে পিছিয়ে ২৬ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ

• আইএমইডির প্রতিবেদন মতে, এডিপি বাস্তবায়নে গড় অগ্রগতি ৬৭.৫২%।

• ২৬ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ গড়ের নিচে, বাকি ৩০টি গড়ের ওপরে ছিল।

• কর্ণফুলী টানেলের লোকসানের ১৪ কারণ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনে।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭: ৫২
এডিপি বাস্তবায়নে পিছিয়ে ২৬ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ

২০২৫-২৬ অর্থবছরে এডিপির বাস্তবায়নে পিছিয়ে রয়েছে ২৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। এসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি জাতীয় গড়ের চেয়ে কম। প্রকল্প অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতা, অর্থ ছাড়ে বিলম্ব, দরপত্র ও ক্রয়প্রক্রিয়ার জটিলতা এবং জমি অধিগ্রহণসহ নানা কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পৃথক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে মন্ত্রণালয় ও বিভাগভিত্তিক প্রকল্পের অগ্রগতি কম হওয়ার কারণও তুলে ধরা হয়েছে। জাতীয় সংসদে গতকাল শনিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে প্রতিবেদন দুটি তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের জাতীয় গড় অগ্রগতি ছিল ৬৭.৫২ শতাংশ। ৫৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে ২৬টির অগ্রগতি এই গড়ের নিচে। বাকি ৩০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অগ্রগতি জাতীয় গড়ের ওপরে ছিল।

পিছিয়ে থাকা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো হলো—জনপ্রশাসন, মুক্তিযুদ্ধ, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, সংসদ সচিবালয়, দুদক, ভূমি মন্ত্রণালয়, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পরিবেশ মন্ত্রণালয়, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ, পরিকল্পনা বিভাগ, ধর্ম মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় ও বিভাগভিত্তিক তথ্যের মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ১৯টি প্রকল্পের অগ্রগতি ছিল ৫৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তিনটি প্রকল্পের অগ্রগতি ৪৭ দশমিক ৩০ শতাংশ। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের ৯৬টি প্রকল্পের অগ্রগতি ছিল ৫২ দশমিক ৮৩ শতাংশ। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের তিনটি প্রকল্পের অগ্রগতি ২৯ দশমিক ৯০ শতাংশ এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের পাঁচটি প্রকল্পের অগ্রগতি ছিল ১৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

প্রতিবেদনে প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির কয়েকটি সাধারণ কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রকল্পের সংশোধনী অনুমোদনে দীর্ঘ সময় লাগা, অর্থছাড় ও বিল পরিশোধে জটিলতা, দরপত্র ও ক্রয়প্রক্রিয়া শেষ করতে দেরি এবং জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত সমস্যা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে মন্ত্রণালয় জানায়, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের একটি নতুন নীতিমালার খসড়া তৈরি করা হয়েছে। সেখানে সরকারি কর্মকর্তাদের বাইরে বেসরকারি ব্যক্তিদেরও পরিচালক করার সুযোগ রাখা হচ্ছে। সাবেক অভিজ্ঞ কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ থাকবে। এটি করা হলে প্রকল্পের গতিশীলতা আসবে।

সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেলের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, বাস্তবায়ন ও বর্তমান আর্থিক অবস্থা তুলে ধরে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটি টানেলের লোকসানের ১৪টি কারণ চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারা প্রান্তে পর্যাপ্ত সড়ক নেটওয়ার্ক ও সংযোগ সড়কের ঘাটতি, সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর ও মেরিন ড্রাইভ নির্মিত না হওয়া, পরিকল্পিত টাউনশিপ ও শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠতে বিলম্ব এবং পর্যটন খাতের সীমিত বিকাশ। এ ছাড়া সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞাকেও লোকসানের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত