Ajker Patrika

থানায় ডাকসু নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা নিতে নোটিশ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ২১: ৪৯
থানায় ডাকসু নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা নিতে নোটিশ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবন। ফাইল ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতাদের ওপর থানার ভেতরে হামলার ঘটনায় মামলা নিতে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার এবং শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এই নোটিশ পাঠানো হয়।

ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়েরের পক্ষে সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন এই নোটিশ পাঠান। আজ মঙ্গলবার তিনি নোটিশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

নোটিশে বলা হয়, ২৩ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের নামে একটি মিথ্যা ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ দায়ের করতে ওই দিন সন্ধ্যায় শাহবাগ থানায় যান। সেখানে ছাত্রদলের ১০০-১২০ জন নেতা-কর্মী তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। সংবাদ পেয়ে মাস্টারদা সূর্য সেন হল সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য সাইয়েদুজ্জামান নূর আলভী সেখানে গেলে তাঁর ওপর ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা অতর্কিত হামলা করেন। পরে সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ফাতেমা তাসনিম জুমা, কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমাসহ ডাকসু এবং হল সংসদের অন্য প্রতিনিধিরা শাহবাগ থানায় যান।

নোটিশে আরও বলা হয়, থানায় প্রবেশের পর ছাত্রদল কর্মী জুনায়েদ আবরার এবি জুবায়েরকে এলোপাতাড়ি কিলঘুষি দিতে থাকেন। ছাত্রদল কর্মী আলামিন, শাহ মুহাম্মাদ রুবায়েত এবং সৈকত মোরশেদ তাঁর মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করেন। একই সময়ে ছাত্রদল কর্মী রাতুল এবং রাদিল ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুসাদ্দিককে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করেন। এ ছাড়াও ছাত্রদলের অজ্ঞাতনামা ৩০-৩৫ জন নেতা-কর্মী এবি জুবায়ের এবং মুসাদ্দিককে এলোপাতাড়ি কিলঘুষি দিতে থাকেন। তাঁরা দুজন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার রুমের দিকে এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা সেখানে ঘেরাও করে মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করেন। পরে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

মামলার বিষয়ে বলা হয়, আহত ব্যক্তিরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে মেডিকেল সার্টিফিকেট নিয়ে ২৬ এপ্রিল আমলযোগ্য অপরাধের বিবরণসহ এজাহার নিয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট উপস্থিত হন। কিন্তু ওসি সুনির্দিষ্ট আমলযোগ্য অপরাধের বিষয়টি এফআইআর হিসেবে রুজু করতে অস্বীকৃতি জানান। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ ধারা, পুলিশ রেগুলেশন্স অব বেঙ্গলের (পিআরবি) বিধি ২৪৪ (ক) এবং নারীপক্ষ বনাম বাংলাদেশ মামলায় প্রদত্ত হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী আমলযোগ্য অপরাধের সুনির্দিষ্ট তথ্য থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট পৌঁছানো হলে তা অবশ্যই এফআইআর হিসেবে রুজু করতে হবে।

তাই অতি সত্বর এফআইআর রুজুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অনুরোধ করা হয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত