দুই অভিযোগে ছাত্রলীগের সিদ্দিকী নাজমুলের নামে মামলা অনুমোদন

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের হিসাব দাখিল না করার অভিযোগে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলমের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আজ সোমবার দুদকের উপপরিচালক খায়রুল হক আজকের পত্রিকাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
খায়রুল হক আজকের পত্রিকাকে বলেন, সিদ্দিকী নাজমুল আলমের বিরুদ্ধে সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল না করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে একটি নন-সাবমিশন মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, সিদ্দিকী নাজমুল আলম ফার্মার্স ব্যাংক লিমিটেডের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক লিমিটেড) পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারে মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান করছে দুদক।
এর আগে, গত ৫ অক্টোবর সিদ্দিকী নাজমুল আলমের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন আদালত। ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ আদালতের বিচারক মো. শাহজাহান কবির এ নির্দেশ দেন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগের অনুসন্ধান চলায় তাঁর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ জাফর সাদেক শিবলী।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, সিদ্দিকী নাজমুল আলমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। নিজের ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে অবৈধভাবে অর্থ জমা রেখে তা বৈধ করার চেষ্টা এবং বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, অনুসন্ধান চলাকালে নাজমুল আলম দেশত্যাগ করে অন্য দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে তথ্য পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় অনুসন্ধান কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁর বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা প্রয়োজন।
সিদ্দিকী নাজমুল আলম ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি ফার্মার্স ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালকের দায়িত্বেও ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন।










