Ajker Patrika

প্লাস্টিক দূষণে কমছে প্রজননক্ষমতা, ঝুঁকিতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২: ০৯
প্লাস্টিক দূষণে কমছে প্রজননক্ষমতা, ঝুঁকিতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম
প্লাস্টিক দূষণ ও সামুদ্রিক বর্জ্য নিয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কর্মশালা। ছবি: আজকের পত্রিকা

প্লাস্টিক দূষণ কেবল পরিবেশের ক্ষতি করছে না, মানুষের শরীরেও সৃষ্টি করছে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি। বিশেষ করে এর বিষাক্ত প্রভাবে নারী ও পুরুষ উভয় লিঙ্গের প্রজননক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। প্লাস্টিকের অতি ক্ষুদ্র কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিক মানুষের রক্ত, ফুসফুস ও মস্তিষ্কে প্রবেশের মাধ্যমে বিনষ্ট করছে হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা।

প্লাস্টিক দূষণ ও সামুদ্রিক বর্জ্য নিয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় এসব কথা বলেছেন বক্তারা। আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে জাতিসংঘের শিল্প উন্নয়ন সংস্থার (ইউনিডো) আয়োজনে এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় চিকিৎসক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আব্দুন নূর তুষার প্লাস্টিক দূষণ নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার বাড়ানোর পেছনে শিল্প খাতের ভূমিকা এবং পরিবেশবান্ধব বিকল্পের প্রচারে গণমাধ্যমের করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা মানুষের শরীরে কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে গবেষণা চলছে। মানুষের রক্ত, ফুসফুস, মস্তিষ্কসহ বিভিন্ন নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হওয়ার তথ্যও গবেষণায় উঠে এসেছে। প্লাস্টিক দূষণে প্রজননক্ষমতা কমছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ঝুঁকিতে পড়ছে। প্লাস্টিক ব্যবহারের সঙ্গে থাইরয়েডের সমস্যা, ক্যানসার কিংবা অন্যান্য রোগের সরাসরি সম্পর্ক কতটা, তা নির্ধারণে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

কর্মশালায় চিকিৎসক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আব্দুন নূর তুষার প্লাস্টিক দূষণ নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার বাড়ানোর পেছনে শিল্প খাতের ভূমিকা এবং পরিবেশবান্ধব বিকল্পের প্রচারে গণমাধ্যমের করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন। ছবি: আজকের
কর্মশালায় চিকিৎসক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আব্দুন নূর তুষার প্লাস্টিক দূষণ নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার বাড়ানোর পেছনে শিল্প খাতের ভূমিকা এবং পরিবেশবান্ধব বিকল্পের প্রচারে গণমাধ্যমের করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন। ছবি: আজকের

আব্দুন নূর তুষার আরও বলেন, চিকিৎসাসহ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজে প্লাস্টিক অপরিহার্য। ক্যাথেটার, চিকিৎসা সরঞ্জাম, সুরক্ষাসামগ্রীসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়। তাই সব ধরনের প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করার বদলে কোথায় এর ব্যবহার অপরিহার্য এবং কোথায় বিকল্প ব্যবহার সম্ভব, তা চিহ্নিত করা জরুরি। প্লাস্টিকের প্রয়োজনীয় ও অপ্রয়োজনীয় ব্যবহারের মধ্যে পার্থক্য করতে হবে। চিকিৎসার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নিরাপদ বিকল্প না থাকলে প্লাস্টিকের ব্যবহার হতেই থাকবে। তাই যেসব পণ্য অন্য উপকরণ দিয়ে তৈরি করা সম্ভব, সেসব ক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবহারের সুযোগ খুঁজতে হবে।

কর্মশালায় ইউনিডোর বিশেষজ্ঞ মাহবুবুল ইসলাম ও এস এম আরাফাত প্লাস্টিক দূষণ, সামুদ্রিক বর্জ্য এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের নীতিমালা ও সামুদ্রিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁরা প্লাস্টিক দূষণের তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে বলেন, শিল্পকারখানায় পরিবেশগত নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিষ্ঠানগুলো কী পরিমাণ বর্জ্য তৈরি করছে, কীভাবে তা ব্যবস্থাপনা করছে এবং পরিবেশের ক্ষতি কমাতে কী উদ্যোগ নিচ্ছে, এসব বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

কর্মশালায় সূচনা ও সমাপনী অধিবেশন পরিচালনা করেন উন্নয়ন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ টনি মাইকেল গোমেজ। বিভিন্ন অধিবেশনে আরও অংশ নেন ইউনিডো বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ আলমগির হোসেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (বর্জ্য ও রাসায়নিক পদার্থ ব্যবস্থাপনা) ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত