Ajker Patrika

রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি লেপনের প্রতিবাদে কক্সবাজারে ‘শতকণ্ঠে রবীন্দ্র-নজরুল’

কক্সবাজার প্রতিনিধি
আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৯: ৩৯
রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি লেপনের প্রতিবাদে কক্সবাজারে ‘শতকণ্ঠে রবীন্দ্র-নজরুল’
কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘শতকণ্ঠে রবীন্দ্র-নজরুল’ শিরোনামে সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

তাঁর সৃষ্টিতেই তিনি চিরস্মরণীয়, বরণীয়, শ্রদ্ধার আসনে অধিষ্ঠিত। তাঁর গান, কবিতা, নাটক কালের সীমা অতিক্রম করে জেগে থাকে কোটি বাঙালির হৃদয়ে। তাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতে কালি লেপনের প্রতিবাদে গান ও কবিতার মাধ্যমেই হয়েছে সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ। আজ শুক্রবার বিকেলে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘শতকণ্ঠে রবীন্দ্র-নজরুল’ শিরোনামে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয় জেলার সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগে।

জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আয়োজন। শিল্পীরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সংকোচের বিহ্বলতা নিজেরই অপমান, সংকটের কল্পনাতে হইয়ো না ম্রিয়মাণ’ এবং কাজী নজরুল ইসলামের ‘দাও শৌর্য, দাও ধৈর্য, হে উদার নাথ, দাও প্রাণ’ গান দুটি পরিবেশন করেন। আয়োজনে কবিতা পাঠও করা হয়।

ঝিনুকমালা খেলাঘর আসরের সভাপতি আশরাফুল হুদা সিদ্দিকী জামশেদ বলেন, বিশ্বকবির ছবিতে কালি দেওয়াতে আসলে কবির কিছু যায় আসে না, বরং যে বা যারা দিয়েছে, সেটা তাদের নিজেদের অপমান। এতে রবীন্দ্রনাথের কিছু হয় না। এসব করার মধ্য দিয়ে তারা সমাজ ও দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। কিন্তু যারা রবীন্দ্রনাথকে ভালোবাসে, তারা সুরের মধ্য দিয়ে অসুরকে প্রতিহত করে।

কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘শতকণ্ঠে রবীন্দ্র-নজরুল’ শিরোনামে সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা
কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘শতকণ্ঠে রবীন্দ্র-নজরুল’ শিরোনামে সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

উদীচী কক্সবাজারের সাধারণ সম্পাদক সৌরভ দেব বলেন, রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি লেপনের ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কারাভোগ তিনি চান না। তাঁদের রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য পড়ার সুযোগ দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

সৌরভ দেব বলেন, তাঁরা রবীন্দ্র না পড়েই এসব করেছে। সুর, কবিতা, কবিত্ব, এ ধরনের সৃষ্টিশীল বিষয়গুলোকে তো সীমান্তের কাঁটাতার দিয়ে বিচার করা যায় না। এসব তো পাখির মতো, দুনিয়াজুড়ে উড়ে বেড়ায়।

সৌরভ দেব আরও বলেন, যারা এসব সৃষ্টিকে গ্রহণ করতে পারে না, তাদের সীমাবদ্ধতাই এ ধরনের কর্মকাণ্ডে প্রকাশ পায়।

সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক মনিবর মোবারক বলেন, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিগুলো বিভিন্ন সময়ে নানা কৌশলে হাজির হয়। অনেক সময় এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তাঁরা নিজেদের অজ্ঞতার প্রকাশ ঘটায়।

জেলা খেলাঘরের সভাপতি সুবিমল পাল পান্না বলেন, কালি লেপে কোনো সৃষ্টিকে ধ্বংস করা যায় না। মননে সাম্প্রদায়িকতা বাসা বাঁধলে মানুষ এ ধরনের কাজ করে।

আয়োজকেরা বলেন, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের গান-কবিতার মধ্য দিয়ে অসহিষ্ণুতা এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ জানানোই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেয় কয়েকজন। ওই সময়ই সেখানে গিয়ে চারজনকে আটক করে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন নারী।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত