Ajker Patrika

চুয়াডাঙ্গা শহরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে সিগারেটের দোকান, ধূমপানে জড়াচ্ছে শিক্ষার্থীরা

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গা শহরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে সিগারেটের দোকান, ধূমপানে জড়াচ্ছে শিক্ষার্থীরা
স্কুলের আশেপাশের দোকানগুলোতেই বিক্রি হচ্ছে সিগারেট। ছবি: আজকের পত্রিকা

চুয়াডাঙ্গা শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশের দোকানগুলোতে প্রকাশ্যে বিড়ি-সিগারেট বিক্রি হচ্ছে। বিদ্যালয় ও কলেজের ফটকসংলগ্ন দোকানগুলোতে শিক্ষার্থীদেরকে অহরহই সিগারেট কিনে ধূমপান করতে দেখা যায় এখন। আইন অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সীমানার ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ হলেও এ নিয়ম মানা হচ্ছে না।

চুয়াডাঙ্গা শহরের ভিক্টোরিয়া জুবিলি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, চুয়াডাঙ্গা একাডেমি, রেলবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চুয়াডাঙ্গা আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের আশপাশে বিড়ি-সিগারেট বিক্রির দৃশ্য দেখা গেছে।

ভিক্টোরিয়া জুবিলি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মূল ফটকের বিপরীত পাশের একটি দোকানে প্রকাশ্যে বিড়ি-সিগারেট বিক্রি হচ্ছে। দোকানটিতে শিক্ষার্থীদের কাছে সিগারেট বিক্রি নিষেধ—এমন লেখা থাকলেও বিক্রি চলতে দেখা গেছে। বিদ্যালয়টির আশপাশে আরও দুই-তিনটি দোকানে বিড়ি-সিগারেট বিক্রি হচ্ছে।

দোকানি শুকুর আলী বলেন, ‘আমার বিড়ি-সিগারেটের দোকান, আমি তো বেচবই। ম্যাজিস্ট্রেট সেদিন এসে ৩০০ টাকা জরিমানা করে গিয়েছে। তারপরও আমি সিগারেট বিক্রি করছি। সিগারেট বিক্রি না করলে সংসার চলবে কী করে? আমার চায়ের দোকান, আমাকে তো সিগারেট বেচতেই হবে।’

চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর থেকে কিছুটা দূরে সিগারেট বিক্রির দোকান। শিক্ষার্থীদের চলাচলের পথের কাছের এসব দোকানে অবাধে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা একাডেমি ও রেলবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশপাশেও একই চিত্র দেখা গেছে।

স্কুলের আশেপাশের দোকানগুলোতেই বিক্রি হচ্ছে সিগারেট। ছবি: আজকের পত্রিকা
স্কুলের আশেপাশের দোকানগুলোতেই বিক্রি হচ্ছে সিগারেট। ছবি: আজকের পত্রিকা

চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সামনে ভ্রাম্যমাণ দোকানে বিড়ি-সিগারেট বিক্রি করতে দেখা যায়। দোকানগুলোর ক্রেতাদের মধ্যে কলেজের শিক্ষার্থীরাও রয়েছে। কেউ দোকান থেকে সিগারেট কিনে কলেজের বাইরে দাঁড়িয়ে ধূমপান করছে, আবার কেউ দোকানের আশপাশে অবস্থান করছে।

ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫-এর সর্বশেষ সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার স্থান ও শিশুপার্কের সীমানার ১০০ মিটারের মধ্যে বিড়ি, সিগারেটসহ কোনো ধরনের তামাকজাত পণ্য বিক্রি করা যাবে না।

২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর জারি করা সংশোধনী অধ্যাদেশে যুক্ত হওয়া বিধানটি পরে ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এ বহাল রাখা হয়। আইনের ৬খ ধারার উপধারা (১)-এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সীমানার ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

একই ধারার উপধারা (৩) অনুযায়ী, এ বিধান লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। দ্বিতীয়বার বা বারবার একই অপরাধ করলে পর্যায়ক্রমে দ্বিগুণ হারে জরিমানা দিতে হবে। সরকার বা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান সাধারণ বা বিশেষ আদেশের মাধ্যমে নিষিদ্ধ এলাকার পরিধি বাড়াতে পারবে।

আইনের ৬ক ধারার উপধারা (১) অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো ব্যক্তির কাছে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করা যাবে না। অপ্রাপ্তবয়স্ক কাউকে তামাকজাত দ্রব্যের বিপণন বা বিতরণের কাজেও নিয়োগ করা নিষিদ্ধ। এ বিধান অমান্য করলে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা এবং পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রে দ্বিগুণ হারে জরিমানার বিধান রয়েছে।

আইনের ৪ ধারায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ পাবলিক প্লেসে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ বিধান লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। সংশোধিত সংজ্ঞা অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়াও রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকান ও কফি হাউস পাবলিক প্লেসের অন্তর্ভুক্ত।

আইনের ৯ ধারায় কর্তৃত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পাবলিক প্লেস, গণপরিবহন, তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয়স্থল ও বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে পরিদর্শনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আইন লঙ্ঘন করে বিক্রি করা তামাকজাত দ্রব্য বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতাও রয়েছে তাঁদের।

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এটি দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলোতে তদারকি কমিটি গঠনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছিল। তবে শিক্ষকদের বদলিসহ বিভিন্ন জটিলতার কারণে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। আমরা দ্রুত তদারকি কমিটি গঠন করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলেও জনবল ও প্রয়োজনীয় কর্মকর্তার সংকট রয়েছে। জেলা প্রশাসনের সীমিত জনবল দিয়ে সব জায়গায় অভিযান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এ কারণে অনেক সময় অভিযান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত