বানারীপাড়ায় স্বজনপ্রীতি ও দলীয় বিবেচনায় সারের ডিলার নিয়োগ

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলায় সারের ডিলার নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। উপজেলা সার বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ মৃধার সুপারিশে তাঁর দুই ভাই আরিফ মৃধা ও সোহেল মৃধা ডিলারশিপ পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। চলতি মাসে তালিকাটি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বানারীপাড়া উপজেলার আটটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় মোট ৯ জনকে সারের ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। স্বজনপ্রীতি ও দলীয় বিবেচনায় এসব ডিলারশিপ দেওয়ায় প্রকৃত সার ব্যবসায়ীরা বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ‘মেসার্স মৃধা এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি লাইসেন্সের বিপরীতে আরিফ মৃধা ও সোহেল মৃধাকে দুটি ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, একই লাইসেন্সে দুই ডিলারশিপ দেওয়া নীতিমালাবহির্ভূত।
সোহেল মৃধা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার হলেও তাঁকে বানারীপাড়া সদর ইউনিয়নের ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। আরিফ মৃধা পেয়েছেন পৌর এলাকার ডিলারশিপ।
সালিয়াবাকপুর ইউনিয়নের ডিলার হয়েছেন উপজেলা যুবদলের সভাপতি ছাব্বির আহমেদ সুমন হাওলাদার। তিনি পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার বলে জানা গেছে।
উপজেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক শহিদুল ইসলামের ভাই এবং বিএনপি কর্মী আমিনুল ইসলাম পেয়েছেন সৈয়দকাঠী ইউনিয়নের ডিলারশিপ। পাশের স্বরূপকাঠি উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা বিএনপি কর্মী জাহিদুল ইসলাম বানারীপাড়ার উদয়কাঠী ইউনিয়নের তেতলা গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে থাকেন। তাঁকে ওই ইউনিয়নের ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে।
চাখার ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান, বাইশারী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও বিশারকান্দি ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ফিরোজ মাহমুদ নিজ নিজ ইউনিয়নের ডিলারশিপ পেয়েছেন।
ফিরোজ মাহমুদ আগে থেকেই উন্মুক্ত বাজারে চাল-আটা বিক্রি কর্মসূচি এবং বাংলাদেশ ট্রেডিং করপোরেশনের নিযুক্ত ডিলার বলে জানা গেছে। ইলুহার ইউনিয়নে সারের ডিলারশিপ পেয়েছেন বিএনপি কর্মী সাইফুল ইসলাম।
পৌর এলাকার ভোটার হয়েও সালিয়াবাকপুর ইউনিয়নের ডিলারশিপ পাওয়ার বিষয়ে ছাব্বির আহমেদ সুমন হাওলাদার জানান, তিনি সালিয়াবাকপুর ইউনিয়নে তাঁদের গ্রামের বাড়িতে থাকেন। নিয়ম মেনে কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ উপযুক্ত মনে করায় তিনি ডিলারশিপ পেয়েছেন। তাঁর পরিবারের আগে সারের ব্যবসা ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ মৃধা সাংবাদিকদের জানান, পৌরসভায় তাঁর ভাই আরিফ ছাড়া অন্য কেউ আবেদন করেননি। আর পৈতৃক নিবাস সদর ইউনিয়নের ঠিকানায় তাঁর অন্য ভাই সোহেল মৃধা ডিলারশিপ পেয়েছেন। কোথাও স্বজনপ্রীতি বা দলীয়করণ হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী হিসেবে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে।
বানারীপাড়া উপজেলা সার বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্যসচিব ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু হাসনাইন বলেন, আরিফ ও সোহেল মৃধা সহোদর হলেও তাঁরা পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল নন। তাই তাঁদের ডিলারশিপ দেওয়ার ক্ষেত্রে নীতিমালার ব্যত্যয় হয়নি।
আবু হাসনাইন আরও বলেন, ভোটার যেখানকারই হোন, উপজেলার যেকোনো স্থানের ডিলার হতে পারবেন। উন্মুক্ত বাজারে চাল-আটা বিক্রি কর্মসূচি ও বাংলাদেশ ট্রেডিং করপোরেশনের ডিলারশিপ থাকলেও সারের ডিলার হতে বাধা নেই।









