Ajker Patrika

ডিএসসিসির অভিযান: ১০০ কাউন্টার সিলগালা ফুটপাত পুনরুদ্ধার

  • সায়েদাবাদ ও গুলিস্তান এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।
  • অভিযানের খবর পেয়ে অনেক হকার আগেই মালপত্র সরিয়ে নেন।
‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
ডিএসসিসির অভিযান: ১০০ কাউন্টার সিলগালা ফুটপাত পুনরুদ্ধার
রাজধানীর সায়েদাবাদ আন্তজেলা বাস টার্মিনাল এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। গতকাল চালানো এ অভিযানে প্রায় ৫০টি অনুমোদনহীন ও অবৈধ বাস কাউন্টার উচ্ছেদ ও সিলগালা করা হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাজধানীর সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এর অংশ হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ও গুলিস্তান এলাকায় দুটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে অবৈধ বাস কাউন্টার সিলগালা, ফুটপাত দখলমুক্ত এবং অননুমোদিত স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

গতকাল দুপুরে সায়েদাবাদ আন্তজেলা বাস টার্মিনাল এলাকায় টানা দ্বিতীয় দিনের অভিযানে প্রায় ৫০টি অবৈধ বাস কাউন্টার উচ্ছেদ ও সিলগালা করা হয়। আগের দিনের অভিযানে বন্ধ করা হয়েছিল ১৮টি কাউন্টার। সব মিলিয়ে একশর মতো অবৈধ বাস কাউন্টারে তালা ঝুলিয়ে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএসসিসি। দুপুর ১২টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু আসলাম।

ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ মার্চ নগর ভবনে ডিএসসিসি, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতাদের সমন্বয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সিদ্ধান্ত ছিল—টার্মিনালের বাইরে সব অবৈধ কাউন্টার উচ্ছেদ করে ভেতরে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে কাউন্টার বরাদ্দ দেওয়ার।

অভিযানে স্টারলাইন, শ্যামলী, সাকুরা, লাবিবা, ইউনিক লাক্সারিসহ বিভিন্ন পরিবহনের কাউন্টার বন্ধ করা হয়।

ম্যাজিস্ট্রেট আবু আসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ কাউন্টারের কারণে এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছিল এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ছিল। জনস্বার্থে এই অভিযান চলমান থাকবে।

একই দিন দুপুরে বায়তুল মোকাররম মার্কেটের দক্ষিণ পাশে জিপিও লিংক রোড এলাকায় পৃথক অভিযানে রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছে। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত চলা এ অভিযানে অবৈধ দোকানপাট বুলডোজার দিয়ে উচ্ছেদ করা হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, অভিযানের খবর পেয়ে অনেক হকার আগেই মালামাল সরিয়ে নিচ্ছিলেন। তবে যেসব অস্থায়ী স্থাপনা রয়ে যায়, সেগুলো ভেঙে ফেলা হয়।

উচ্ছেদ হওয়া হকারদের অভিযোগ, আগে কোনো সতর্কতা ছাড়াই হঠাৎ অভিযান চালানো হয়েছে। তারা পুনর্বাসনের দাবি জানিয়ে বলেন, বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া উচ্ছেদ মানবিক নয়। এক হকার বলেন, ‘আগে থেকে জানালে আমরা প্রস্তুতি নিতে পারতাম। হঠাৎ এসে সব ভেঙে দেওয়া ঠিক হয়নি।’

বিকেলে ডিএসসিসি এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিজস্ব মালিকানাধীন বা আওতাধীন বিভিন্ন শপিং মল, মার্কেট ও দোকানসমূহের সামনে বা ফুটপাতে বিভিন্ন প্রকার মালামাল রাখায় বা ফুটপাত দখল থাকার কারণে জনস্বার্থ বিঘ্নিত হচ্ছে। এমতাবস্থায়, নিজ উদ্যোগে মালামাল অপসারণ করে ফুটপাত দখলমুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হলো। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট পক্ষের বা দোকানের ট্রেড লাইসেন্স বাতিলসহ বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী যথাযথ প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তাৎক্ষণিকভাবে ফুটপাত দখলমুক্ত হলেও দীর্ঘ মেয়াদে কার্যকর সমাধানের জন্য হকারদের পুনর্বাসন, নির্ধারিত বাজারব্যবস্থা এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের উদ্যোগ সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

জামুকা সংশোধনে বিল পাস, জামায়াতের আপত্তি, এনসিপির সমর্থন

নীরবতার চরম মূল্য: ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষা যেভাবে হারিয়ে গেল উপসাগরীয় অঞ্চলে

কর্মস্থল খাগড়াছড়ির পানছড়ি, চিকিৎসাসেবা দেন টাঙ্গাইলের ক্লিনিকে ক্লিনিকে

‘বিসিবিতে স্ত্রী কোটায় রাখা হয়েছে রাশনা ইমামকে’

নির্যাতনে স্ত্রীর আত্মহনন, স্বামী গ্রেপ্তার

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত