Ajker Patrika

অতিরিক্ত ১ হাজার টন সার বরাদ্দ পেল কুড়িগ্রাম, বিগত ৫ বছরে সর্বোচ্চ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
অতিরিক্ত ১ হাজার টন সার বরাদ্দ পেল কুড়িগ্রাম, বিগত ৫ বছরে সর্বোচ্চ
জমিতে সার দিচ্ছেন জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার এক কৃষক। ছবি: আজকের পত্রিকা

কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত চাষাবাদ ও কৃষকদের বাড়তি চাহিদার কথা বিবেচনায় সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক বরাদ্দের বাইরে আরও ১ হাজার টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। দুই দফায় পৃথক আদেশে এ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কৃষি বিভাগ বলছে, গত পাঁচ বছরের সেপ্টেম্বর মাসের গড় বরাদ্দের তুলনায় এবারই সর্বোচ্চ পরিমাণ ইউরিয়া বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) অন্নপূর্ণা দেবনাথ ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কৃষকদের পরামর্শ দিতে গিয়ে উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘নিয়মিত সময়ে আবাদ করা আমনখেতে এখন ডিএপি কিংবা ইউরিয়া দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। দিলে সেটি অপচয় হবে। যেসব আমনখেতের পাতার আগা হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে, সেসব খেতে এমওপি বা পটাশ সার প্রয়োগ করতে হবে। একই সঙ্গে জমিতে পানি দিতে হবে।’

অতিরিক্ত সার বরাদ্দের বিষয়ে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) থেকে জারি করা বরাদ্দ আদেশে ৫০০ টন এবং গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং শাখা থেকে আরও ৫০০ টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফলে সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক বরাদ্দের অতিরিক্ত হিসেবে কুড়িগ্রাম জেলার জন্য দুই দফায় মোট ১ হাজার টন ইউরিয়া বরাদ্দ পাওয়া গেছে।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বছরের জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে কুড়িগ্রামে মোট ১২ হাজার ৪৮৩ টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ হয়েছে। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বর মাসে নিয়মিত বরাদ্দ রয়েছে ৪ হাজার ৬৪৪টন। গত বছর একই মাসে বরাদ্দ ছিল ৩ হাজার ৮৯৪ টন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং শাখার বরাদ্দ আদেশে বলা হয়েছে, গত পাঁচ বছরে কুড়িগ্রামে সেপ্টেম্বর মাসে ইউরিয়া সারের গড় বরাদ্দ ছিল ৪ হাজার ৫৫ টন। অতিরিক্ত ১ হাজার টন বরাদ্দ পাওয়ায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে জেলায় মোট ইউরিয়া বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৬৪৪ টনে। এটি গত পাঁচ বছরের সেপ্টেম্বর মাসের গড় বরাদ্দের তুলনায় সর্বোচ্চ।

কৃষি বিভাগ জানায়, জেলার বিভিন্ন এলাকায় আমন ধানের চারা বর্তমানে গাঢ় সবুজ রং ধারণ করেছে। এসব খেতে এখন ইউরিয়া কিংবা ডিএপি সার প্রয়োগের প্রয়োজন নেই। তবে কৃষকদের মধ্যে অতিরিক্ত সার প্রয়োগের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ ভুল তথ্যের ভিত্তিতে সার সংকটের আশঙ্কায় ভুট্টা চাষের জন্য আগাম সার সংগ্রহ করে মজুত করছেন বলেও জানায় কৃষি বিভাগ।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, এ বছর বন্যা না হওয়ায় চরাঞ্চলের কিছু নিচু জমিও চাষাবাদের উপযোগী হয়েছে। কৃষকেরা এসব জমিতে বিলম্বে আমন এবং রবি মৌসুমের আগাম সবজি চাষ শুরু করেছেন। ফলে এসব এলাকায় সারের অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হয়েছে। কৃষকদের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে ফসল উৎপাদন অব্যাহত রাখার স্বার্থে সরকার অতিরিক্ত ইউরিয়া সার বরাদ্দ দিয়েছে। শিগগিরই এসব সার কৃষকদের মধ্যে বিতরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘অতিরিক্ত ১ হাজার টন ইউরিয়া বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া অক্টোবর মাসের নিয়মিত বরাদ্দের ৩ হাজার ৬৩৯ টন সার আগাম উত্তোলনের অনুমতিও পাওয়া গেছে। সারের কোনো কমতি হবে না। কৃষকদের আশ্বস্ত করতে চাই, রবি মৌসুমেও সারের কোনো সংকট হবে না। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রয়েছে।’

তবে সার বিতরণে বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন কৃষক। তাঁদের অভিযোগ, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের একটি অংশের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে সার বিতরণে অনিয়ম হচ্ছে। পাশাপাশি ডিলারদের স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব এবং সার মজুতের অভিযোগও রয়েছে।

কৃষকদের আরও অভিযোগ, প্রশাসনের অভিযানে বিভিন্ন স্থান থেকে সার উদ্ধার এবং খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বেশি দামে সার পাওয়ার ঘটনাগুলো তাঁদের অভিযোগের বিষয়টি সামনে এনেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডিলার বা বিক্রেতাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত