
সমির মল্লিক, খাগড়াছড়ি
সমির মল্লিক, খাগড়াছড়ি
সকল লেখা

অচেনা তৈদুছড়া ঝরনায়
দুই পাহাড়ের মাঝে আড়াআড়িভাবে যুক্ত দুটো মরা বৃক্ষের কাণ্ড। নিচে গভীর ঝরনা। সেখানে নামতে হবে বৃষ্টিভেজা মরা গাছের এই কাণ্ড বেয়ে। একে একে সবাই নিচে নেমে এলাম। পা দেওয়ার মতো ছোট্ট একটা পাথর। পা ফসকে গেলেই নিচের গভীর খাদে। এমনই ট্রেইল মাড়িয়ে যেতে হয় তৈদুছড়া ঝরনায়।

মেঘের দেশে, ছবির দেশে
বৃষ্টির পাহাড়টা একটু অন্য রকম। নিঃশব্দের পাহাড় ঢেকে যায় সাদা মেঘের আবরণে। বৃষ্টি শেষে নীল পাহাড়। বারিধারায় ঝরনা ছুটে চলে চঞ্চল বেগে। কচি পাতায় জমে থাকে বৃষ্টির বড় বড় ফোঁটা। মেঘে ঢাকা সবুজ পথ।

ছোট সহায়তায় বড় বদল ‘মোড়া গ্রামে’র নারীদের
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার নিভৃত পল্লি কাজীপাড়া-হাতিয়াপাড়া। পিছিয়ে পড়া এই জনপদে নেই কোনো ফসলি জমি। এখানকার বেশির ভাগ মানুষেরই সামাজিক অবস্থান দারিদ্র্যসীমার নিচে। সেখানেই মোড়া তৈরি করে টেনেটুনে চলা সংসারে আর্থিক সচ্ছলতা এনেছেন নারীরা।

নিষিদ্ধ ঝরনার হাতছানি
ঝরনার রূপ খোলে বর্ষায়। খাগড়াছড়ির গহিন বনে অনাবিষ্কৃত অসংখ্য ঝরনা আছে এখনো। সিজুক ঝরনা তেমনই একটি। এর সন্ধান দেন পাহাড়ি বন্ধু ক্লিনটন চাকমা। তিনি ঝরনাটির কাছের গ্রাম নন্দরামের বাসিন্দা। অবশ্য একে নন্দরাম ঝরনা নামে চিনতাম। ক্লিনটনের মুখে ঝরনা অভিমুখের দুর্গম পথ

তাজিংডংয়ের চূড়ায়
বান্দরবান থেকে দিনের শেষ বাস ধরে রওনা হলাম থানচির পথে। রাতের হিসাবে পূর্ণিমা ছিল বলে পথ আর পাহাড়ের সৌন্দর্যের কথা ভাবতে ভাবতে পাহাড়ের বুক চিড়ে চলেছে থানচির মিনিবাসটি। সেখানে এর আগেও গিয়েছিলাম, কিন্তু রাতে ভ্রমণ এই প্রথম।

পূর্ণিমায় জ্যোৎস্না বাড়ি
জ্যোৎস্না না থাকলে বোধ হয় পৃথিবীর অর্ধেক সৌন্দর্য হারিয়ে যেত! নিকষ কালো অন্ধকারে আচ্ছন্ন হতো রাত। সেই ঘুটঘুটে অন্ধকার দেখতে হয় না বলে বাস্তবে জ্যোৎস্নালোকের রাতগুলো স্বপ্নের মতো সুন্দর। তেমনই এক জ্যোৎস্নাময় রাতে ঘর ছেড়েছিলেন মহামতি বুদ্ধ। তেমন না হোক, অন্তত পাহাড়চূড়ার নির্জন চরাচরে শিশিরভেজা নরম ঘাস

ঝরনার সবুজ গ্রাম দীঘিনালা
তোজেংমা, তৈদুছড়া ছাড়াও হাজাছড়া, হরিণমারা দেখতে হলে দীঘিনালা হয়ে যাওয়াটাই ভালো। হরিণমারা ও হাজাছড়ার অবস্থান বাঘাইহাট হলেও যাওয়ার সহজ পথ দীঘিনালা হয়ে। সামনের বর্ষায় ভ্রমণ পরিকল্পনায় রাখতে পারেন সবুজ অরণ্যে ঢাকা দীঘিনালা।

রেমাক্রি পেরিয়ে নাফাখুম
বাস ছুটছে উঁচু-নিচু পাহাড়ি পথ ধরে। এ যেন আকাশের পথ ধরে চলা। দিগন্তরেখা বরাবর দাঁড়িয়ে থাকা পাহাড়গুলো নীলাভ রং নিয়ে জেগে আছে বহুকাল। দূরের পাহাড়গুলো সবুজের চেয়ে নীল রঙে বেশি শোভা পায়। রাস্তার দুধারে চেনা গ্রাম পেরিয়ে চিম্বুক, নীলগিরি, জীবননগরের দীর্ঘ পাহাড়

দেশের উচ্চতম চূড়া সাকা হাফংয়ের পথে
দেশের সর্বোচ্চ শিখরের শিরোপা অনেক আগে হারিয়েছে তাজিংডং। এখন সেই রেকর্ড সাকা হাফংয়ের দখলে বলে ধারণা করা হয়। অন্তত ইউএস ও রাশিয়ান টপোগ্রাফি এবং গুগল ম্যাপ, গুগল আর্থ, ভ্রমণ বাংলাদেশ, অ্যাডভেঞ্চার বিডিসহ বিভিন্ন অভিযাত্রীর নেওয়া জিপিএস রিডিং

নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর ইউপিডিএফ
পাহাড়, বিস্তৃত উপত্যকায় ঘেরা নয়টি উপজেলা নিয়ে গঠিত খাগড়াছড়ি জেলায় সংসদীয় আসন একটিই। আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে এ আসনের রাজনীতি চাঙা হয়ে উঠেছে। নির্বাচনী মাঠ ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীরা করছেন নানা হোমওয়ার্ক। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিরাজ করছে ব্যাপক আগ্রহ। শেষ পর্যন্ত কে হবেন এলাকার

পাহাড়ের ডানায় জুরাছড়ি
রাঙামাটি সদর থেকে ৫৭ কিলোমিটার দূরের পথ। স্থানীয় ভাষায় তার নাম জুরাছড়ি। ‘জুর’ শব্দের অর্থ ঠান্ডা আর ‘ছড়ি’ শব্দের অর্থ ছড়া বা ঝরনা। জুরাছড়ি নামের ঝরনা থেকে এই উপজেলার নামকরণ হয়েছে

দেশের শেষ জনপদ ঠেগামুখ
ভারতের মিজোরামের সীমান্তঘেঁষা ঠেগা হয়ে বয়ে আসে কর্ণফুলীর মূল স্রোত। মিজোরামের ব্লু মাউন্টেন বা নীল পাহাড়ের কিংবা লুসাই পাহাড়ের স্রোতোধারা এসে মিশেছে বাংলাদেশের ঠেগামুখ সীমান্তে। নদীর দুই পাশে, দুই দেশেই চাকমাদের বসতি। তাই সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট। ছোট কর্ণফুলীর দূরত্ব এখানে বাধা হতে পারেনি

পাহাড়ের সুস্বাদু ব্যাম্বু চিকেন
পাহাড়প্রেমী ভোজনরসিকদের খাবারের তালিকায় অনিবার্য হয়ে উঠেছে সুস্বাদু ব্যাম্বু চিকেন বা বাঁশ-মুরগি। পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থানীয় এ রেসিপি এখন পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে। প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা বাঁশের ভেতর এটি রান্নার পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

ধনেশ এল বটফল খেতে
খাগড়াছড়ির মুবাছড়ি গভীর অরণ্যে ধনেশ পাখির দেখা মিলছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এ তথ্য পেয়ে সম্প্রতি যাই জেলা সদর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরের ওই অরণ্যে। সেখানে দেখি দুই জোড়া ধনেশ পাখি। একটি বটগাছে বসেছে এবং ডালে ডালে ঘুরে বটফল খাচ্ছে। এ সময় তাদের ক্যামেরাবন্দী করি। খাবার শেষে পাখি চারটি ডানা মেলে উড়ে য

গ্রিক স্থাপত্যে অ্যাম্ফিথিয়েটার
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এ চূড়ার উচ্চতা ৬০০ ফুট। এখানে দাঁড়ালে দৃষ্টিসীমায় ধরা পড়ে শুধু সবুজ বন। নীল আকাশের সীমারেখায় এখানে সবুজের খেলা। পরিচিত কিংবা অপরিচিত সেসব গাছের পাতা ছুঁয়ে ভোরে সূর্য ওঠে, সন্ধ্যায় অস্ত যায়। দু দণ্ড প্রশান্তির জন্য মানুষ এখানে ফিরে ফিরে আসে। ছয় ঋতুতে এর রূপ ছয় রকম। এর নাম আলুটিলা। খা

পাহাড়ি গ্রামে হরবোলা
নিভৃত পাহাড়ি পল্লি। তেপান্তর পেরিয়ে পাহাড়ের বুকে গড়ে ওঠা গ্রামগুলোয় দাঁড়িয়ে আছে নানা প্রজাতির গাছ। গাছের শাখা-প্রশাখায় পাখিদের কিচিরমিচির। অদূরে বটবৃক্ষের ডাল থেকে ভেসে আসে মধুর ডাক। কৌতূহলী চোখ সেদিকে তাকালেও পাতা-ডাল নড়ে ওঠা ছাড়া তেমন কিছুই দেখা যায় না। কিছুক্ষণ পর ঘন পাতার আড়াল থেকে বেরিয়ে আসে সব
