
মৃত্যুঞ্জয় রায়
মৃত্যুঞ্জয় রায়
সকল লেখা

বৃক্ষমেলার নাগরিক ভাবনা, কেউ শুনবে কি
জীবনের জন্য উদ্ভিদ—তা সে তৃণ-লতাই হোক বা বৃক্ষ। প্রতিটি সবুজ উদ্ভিদ আমাদের জীবনদাত্রী। হোক তার অবদান যতই ক্ষুদ্র, শেওলা থেকে শিরীষগাছ, সবই আমাদের প্রয়োজন। আনন্দের কথা হলো, এখন সে প্রয়োজন মানুষ ধীরে ধীরে বেশ ভালোভাবেই বুঝতে পারছে। সে কারণে পৃথিবীতে মানুষ যত বাড়ছে, সেসব মানুষও গাছপালা বাড়াতে মনোযোগী..

অতিরিক্ত ভোগস্পৃহা ও পরিবেশ বিপর্যয়
মাত্র ২০০ বছর আগেও পৃথিবীটা ভালো ছিল, ছিল স্বাস্থ্যকর, পরিবেশ ছিল সবুজ-শ্যামলিমায় শান্ত-স্নিগ্ধ আরামদায়ক। বনে বনে ছিল বন্য প্রাণীদের আনন্দময় বিচরণ, গাছে গাছে ছিল পাখিদের কূজন, নদীতে-সাগরে সাঁতরে বেড়াত ডানকানা মাছ-ডলফিন ও দৈত্যাকার তিমিরা। মানুষও ছিল হাসিখুশি, বায়ুমণ্ডল থেকে মানুষও বুকভরে নিতে পারত

ধূলিদূষণে নাকাল নগরবাসী
মাঝে মাঝে মনে হয়, করোনাকালই বোধহয় ভালো ছিল। শাটডাউনে সব বন্ধ, রাস্তায় যানবাহন নেই, মানুষের চলাচল সীমিত, যারাও বাইরে যাচ্ছে তাদের মুখে মাস্ক পরা। রাস্তার ধারের গাছগুলোতে ধুলার পর্দা পড়ছে না, কলকারখানার চোঙা দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে না, বায়ুদূষণও কমে এসেছে। এক অদেখা জীবাণুর আতঙ্কে আমাদের কী দুঃসময়ই না কেট

সিসাদূষণের শিকার শিশুরাও
সম্প্রতি এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো) ও ব্যান টক্সিকস ফিলিপাইনের এক যৌথ গবেষণায় উঠে এসেছে যে বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনে শিশুরা যেসব খেলনা নিয়ে খেলছে, সেগুলোতে রয়েছে অতিরিক্ত মাত্রায় সিসা, পারদ, বেরিয়াম, ক্যাডমিয়ামসহ বেশ কিছু ভারী ধাতু।

নিট-শূন্য কার্বন নিঃসরণ কি সম্ভব
গত বছর ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে উষ্ণতম বছর। জলবায়ু গবেষকেরা বলেছেন, এ বছর উষ্ণতা আরও বেড়েছে। হয়তো আগামী বছর তা আরও বাড়বে। প্রশ্ন হলো, পৃথিবীর তাপমাত্রা আর কত বাড়তে পারে? কতটুকু বাড়লে তা আমাদের সব সহ্যসীমা ছাড়িয়ে যাবে? উত্তরটা খুব সোজা। আমরা যতটা চাইব, পৃথিবীর তাপমাত্রা ততটাই বাড়বে। আসলে কি আমরা তা চাইছি?

হাঁটতে চাই নিরাপদে সুপরিবেশে
বয়স চল্লিশ পেরিয়ে ডাক্তারের কাছে গেলে প্রায়ই একটি প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়, রোজ হাঁটেন তো? কতক্ষণ হাঁটেন? অধিকাংশ ডাক্তার বোধ হয় ধরেই নেন, ভাত খাওয়া বাঙালিদের ডায়াবেটিস থাকবে না তো কার থাকবে? কোলেস্টেরল বেশি হবে না তো কী হবে? তাতেও সমস্যা ছিল না, যদি আমরা দুই বেলা ভাত খেয়ে এক বেলা হাঁটতাম। সময়ের অজু

সবুজ মহানগরের পরিকল্পনা
যেকোনো শহর গড়ে তুলতে হলে প্রথমে দরকার হয় তার একটি পরিকল্পনা। ব্রিটিশ শাসনের আগে বলতে গেলে ঢাকা শহরের তেমন কোনো পরিকল্পনা ছিল না। যাতায়াত ও বাণিজ্যের সুবিধার্থে বুড়িগঙ্গা নদীর তীর ঘেঁষে স্বল্প পরিসরে গড়ে উঠেছিল মোগল আমলের ঢাকা। ঢাকা শহরের প্রথম মাস্টার পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছিল ঔপনিবেশিক শাসনামলে, ১৯

বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে হবে
স্মরণকালের এক ভয়াবহ বন্যার রূপ দেখেছে এবার বাংলাদেশের মানুষ। দেশের পূর্বাঞ্চলীয় কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ ১১টি জেলার ৭৪টি উপজেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এবারের বন্যায় মোট ক্ষতিগ্রস্ত লোকের সংখ্যা ৫৬ লাখ ১৯ হাজার ৩৭৫। পানিবন্দী পরিব

দৃশ্যদূষণও একধরনের পরিবেশদূষণ
পরিবেশদূষণ নিয়ে আরও কত যে নতুন কথা শুনতে হবে কে জানে! ইতিমধ্যে ঢাকা শহরের বায়ুদূষণ নিয়ে কথা শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা হয়ে গেছে। রাস্তায় চলার সময় গাড়ির বেহুদা হর্নের শব্দ শুনতে শুনতে, মানুষের চিৎকার-চেঁচামেচিতে, মাইক ও সাউন্ডবক্সের উচ্চ আওয়াজেও কান ঝালাপালা হচ্ছে, আমরা শব্দদূষণের শিকার হচ্ছি। আমরা না

নিজেরা বাঁচতে সুন্দরবন বাঁচাতে হবে
এবার রিমালের থাবা থেকেও আমাদের বাঁচিয়ে দিয়েছে সুন্দরবন। না হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ত। একইভাবে ২০০৭ সালের সিডর এবং ২০০৯ সালের আইলার মতো বড় বড় ঘূর্ণিঝড়েও সুন্দরবন প্রাকৃতিক ঢাল হয়ে আমাদের অনেক জীবন ও সম্পদ বাঁচিয়ে দিয়েছে। সুন্দরবন থাকায় সে সময় আইলার বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার এবং জলোচ্ছ্ব

গাছ কেটে যেন গাছের ছায়া না খুঁজি
প্রায় প্রতিদিনই মন খারাপ করা কিছু বিষয়ের মধ্যে একটি বিষয় থাকে, তা হলো এ দেশ থেকে সবুজ হারিয়ে যাওয়া। যদি আমরা জুন মাসের সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরগুলোর দিকে তাকাই, তাহলে কোনো-না-কোনো সংবাদপত্রে অন্তত একটি হলেও খবর এসেছে গাছ কাটার। জুনের শেষে এসেও খবর দেখলাম, বরগুনার টেংরাগিরি বনের প্রায় আধা কিলোমিটারজুড়

শ্যামলে সবুজে সাজাই স্বদেশ
বর্ষাকাল তো চলেই এসেছে, এখন গাছের চারা লাগানোর মৌসুম। এ সময় গাছের চারা লাগালে বাঁচে বেশি। মাটি বর্ষায় সিক্ত হয়, লাগানো গাছের চারা পায় জল, পায় বেঁচে ওঠার রসদ। তা ছাড়া আবহাওয়া আর্দ্র ও উষ্ণ থাকায় শিকড় ও ডালপাতার বৃদ্ধি ভালো হয়, লাগানো গাছের চারা দ্রুত বাড়তে থাকে। আবার শীত ও শুকনো মৌসুম এলে সেই বৃদ্ধিত

উদ্ভিদ ভালো থাকলে পৃথিবীও সুন্দর হবে
অনেক দিন আগে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের একটি কবিতা পড়েছিলাম, কবিতাটির নাম ছিল ‘আমি কী রকমভাবে বেঁচে আছি’। এখনো তার কিছু লাইন মনে আছে: ‘আমি কী রকমভাবে বেঁচে আছি তুই এসে দেখে যা নিখিলেশ/ এই কী মানুষজন্ম? নাকি শেষ/ পুরোহিত-কঙ্কালের পাশা খেলা! প্রতি সন্ধ্যেবেলা/ আমার বুকের মধ্যে হাওয়া ঘুরে ওঠে, হৃদয়কে অবহেলা/

পরিবেশ সংরক্ষণে পরিবেশ কর
পরিবেশদূষণে বছরে এ দেশে প্রায় পৌনে ৩ লাখ লোক মরছে। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ঘরের ভেতরের ও বাইরের দূষণে সবচেয়ে বেশি লোক মরছে, যার পরিমাণ প্রায় দেড় লাখ। অন্যান্য দূষণের মধ্যে রয়েছে সুপেয় পানির ঘাটতি এবং পয়োনিষ্কাশনজনিত দূষণে মৃত্যু, আর্সেনিক

ধরিত্রীর তিন সংকট
‘অধরা দিল ধরা এ ধুলার ধরণিতে’—পয়লা বৈশাখে রমনার বটমূলে ছায়ানটের পরিবেশনায় রবীন্দ্রনাথের এই গান শোনার সময় মনে হলো, অধরা কী এমন, যে আজ এই ধরিত্রীর বুকে ধরা দিয়েছে? যাকে আমরা ধরতে পারছি না, ছুঁতে পারছি না, কিন্তু সে আছে, যার অস্তিত্ব কেবল অনুভব করতে পারছি, যে আমাদের উন্নয়নে নেশাগ্রস্ত করে ধীরে ধীরে টেন

রক্ষা করতে হবে জাহাঙ্গীরনগরের উদ্ভিদ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের উদ্ভিদ গবেষক এম এ রহিম খবর দিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সুন্দর বনে’ ভুঁই ডালিমের ফুল ফুটেছে। ফোটা ফুল দেখতে হলে সকাল ৮টার মধ্যেই সেখানে যেতে হবে। না হলে সেগুলো ঝরে যাবে। বিপন্ন এই উদ্ভিদের দর্শন যেকোনো উদ্ভিদপ্রেমীর জন্য এক দুর্লভ সুযোগ। এই আমন্ত্রণ উপেক
