
ড. আর এম দেবনাথ
ড. আর এম দেবনাথ
সকল লেখা

বড় বাজেট মানে বেশি বেশি কর
এ মাস গেলেই পবিত্র রমজান মাস। দীর্ঘ এক মাস সংযমের পর আসবে পবিত্র ঈদ। তখনই আবার উঠবে বোরো, যা এখন আমাদের প্রধান ফসল। অর্থাৎ আগামী দুই-তিন মাস আমাদের অর্থনীতির জন্য ব্যস্ত সময়। গুরুত্বপূর্ণও বটে। এর আরেক কারণ, এই সময়টা আবার ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষ ত্রৈমাসিক। এখন বেচাকেনায় মন্দা চলছে।

টাকার গরমই আলাদা
‘আমেরিকা আবার মহান হবে’—এই হচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। তিনি এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইতিমধ্যেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হয়েছেন। পুরো বিশ্ব পৃথিবীর এক নম্বর দেশের দিকে তাকিয়ে। কী হয় এবার? ট্রাম্প কীভাবে আমেরিকাকে আবার মহান করে গড়ে তুলবেন? তা তিনি তুলুন, কিন্তু আমাদের প্রশ্ন অন্যত্র

অর্থ আত্মসাৎকারীদের শাস্তি হোক কঠিন
কয়েক দিন আগে অর্থ আত্মসাতের একটি খবর পাঠ করলাম। অবশ্য তা আমাদের দেশের নয়। দেশের অর্থ আত্মসাতের খবর প্রতিদিন কাগজে ছাপা হয়, পড়ি আর বিস্মিত হই। ক্ষুব্ধ হই। অসহায়ত্ব প্রকাশ করি। এই প্রেক্ষাপটে যখন ভিন্ন দেশের খবর পড়ি, তখনো কিছুটা অবাকই হই।

আত্মপ্রতারণার পরিসংখ্যান
বাংলাদেশে বটতলার একজন উকিল ছিলেন। বটতলার হলে কী হবে, তিনি ছিলেন ‘পূর্ব পাকিস্তানের’ গভর্নর—জবরদস্ত শাসক মোনায়েম খান। তাঁর দাপটে পূর্ব পাকিস্তান ছিল কম্পমান। কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের এই স্বৈরশাসক একবার তাঁর ওস্তাদ ‘পাকিস্তানের’ স্বঘোষিত ফিল্ড মার্শাল প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের কাছ থেকে হুকুম পান...

ব্যয় বাড়ছে, আয় কমছে
এই ভরা মৌসুমে একটা ফুলকপির দাম ৪০/৫০/৬০ টাকা। কিছুদিন আগে আরও বেশি ছিল বলে শুনেছি। প্রশ্ন—এতে কী অসুবিধা? যার টাকা আছে সে কিনে খাবে, যার নেই সে খাবে না। দাম-দর করতে করতে দোকানের পাশ দিয়ে চলে যাবে। দেখা যাচ্ছে, এখানে প্রশ্নটা দামের নয়, ৪০/৫০/৬০ টাকার নয়। প্রশ্নটা ক্রয়ক্ষমতার। এই আলোচনাটা কম।

করহার নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে
৭০ বছরের এক বৃদ্ধ। আমার পরিচিতজন। আমাকে দেখে তিনি রিকশা থামালেন। বললেন, ব্যাংকে গিয়েছিলাম। জিজ্ঞেস করলাম, টাকা তুলতে পেরেছেন? না, টাকার জন্য আজকে যাইনি। তবু দেখলাম, লোকজন ‘ক্যাশের’ জন্য ম্যানেজারকে অনুরোধ করছে। ক্যাশের অভাব। চেক কেটেও টাকা পাওয়া যাচ্ছে না প্রয়োজনমতো। তাহলে এই

দ্রব্যমূল্যে কোনো স্বস্তি নেই
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ একজন অত্যন্ত ভদ্রলোক মানুষ। তিনি এখন দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যের কর্তাব্যক্তি। কেন জানি আমার মনে হচ্ছে, তিনি অর্থনীতির সমস্যাগুলো দেখতে গিয়ে বাণিজ্যের দায়িত্ব কিছুটা ভুলে গেছেন বা যাচ্ছেন। তা না হলে দেশের তিনটি স্বনামধন্য দৈনিক পত্রিকা নিম্নলিখিত শিরোনামে খবর পরিবেশন করতে পারত না

ব্যাংকিং খাতের সমস্যার মূলে ‘খেলাপি ঋণ’
‘ব্যাংকিং কমিশন’ই হোক আর ‘ব্যাংকিং টাস্কফোর্স’ই হোক—এগুলো কেন? এত কথা বলার দরকার নেই। ব্যাংকিং খাতের সমস্যার মূলে, সব সমস্যার মূলে হচ্ছে ‘খেলাপি ঋণ’ (ক্লাসিফাইড লোন)। খেলাপি ঋণ কী? এখানে ‘খেলাপি’ হচ্ছে শর্ত খেলাপি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংককে তদারকিতে রাখবে কে
‘ব্যাংকের ৯৫ শতাংশ আমানতকারী সম্পূর্ণ নিরাপদ: গভর্নর’—এই হচ্ছে খবরের শিরোনাম। বড়ই স্বস্তিদায়ক খবর। স্বস্তিদায়ক এই কারণে যে বেশ কিছুদিন যাবৎই ব্যাংকের আমানত নিয়ে নানা কথা হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যাংকের টাকা লুট হওয়ার প্রেক্ষাপটে। ব্যাংকের টাকা লুটের সঙ্গে সম্পর্কিত ঋণখেলাপি সমস্যাটা দীর্ঘদিনের। দিনে দিনে
অর্থনীতির চলমান সংকট কি সমাধানযোগ্য
‘টাকা পাচারকারীদের শান্তিতে ঘুমাতে দেওয়া হবে না।’ কে বলেছেন এ কথা? বলেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর স্বয়ং ড. আহসান এইচ মনসুর (১৫ আগস্ট, ২০২৪)। একদম উচিত কথা। টাকা পাচারকারীরা বড় বড় রাঘববোয়াল। তাঁরা আবার বড় বড় ঋণ গ্রহীতা এবং অনেকে ঋণখেলাপি।

অন্তর্বর্তী সরকারের সামনে অনেক কাজ
প্রথম ধাক্কা, দ্বিতীয় ধাক্কা, অর্থনীতি এখন তৃতীয় ধাক্কার মুখোমুখি। এই লেখা যখন লিখছি, তখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়ে কাজকর্ম শুরু করেছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং উপদেষ্টা পরিষদের অন্য সদস্যদের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা কী, তা দেশের মানুষের কাছে খুব স্পষ্ট বলে মনে হয় না।

সরকারি চাকরি কেন এত আকর্ষণীয় হয়ে উঠল
কোটা সংস্কার আন্দোলনের কি পরিসমাপ্তি হলো, নাকি এর জের চলতেই থাকবে? এই প্রশ্নের উত্তর আমার কাছে নেই। সোমবার যখন এ লেখা লিখছি, তখনো কারফিউ চলছে। অফিস-আদালত, মিল-ফ্যাক্টরি বন্ধ। রেল চলাচল স্থগিত। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। সরবরাহ চেইন বিঘ্নিত। ইন্টারনেট যোগাযোগ বন্ধ থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য, আমদানি-রপ্তানি বিঘ

হিসাবের খাতায় কি সবই ভুল
ডাকাতি, একদম দিনদুপুরে ডাকাতি। এক-দুই টাকা নয়, হাজার হাজার কোটি টাকা। হিসাবে প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলার। ১ বিলিয়ন মানে শতকোটি টাকা। তার অর্থ ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। ১ ডলার আবার প্রায় ১২০ টাকা। তাহলে মোট কত টাকার ডাকাতি হয়? পাঠক, এবার হিসাব করতে পারেন ঠিক কত টাকার ডাকাতি। ১ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। এর অর্থ ২

খরচের বিপুল টাকা কোত্থেকে আসবে
২০২৪-২৫ অর্থবছরের নতুন বাজেট যথারীতি সংসদে উত্থাপিত হয়েছে। এখন তার ওপর সংসদে এবং সংসদের বাইরে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা বা বিতর্ক চলছে। ইতিমধ্যে পালিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহা—কোরবানির ঈদ। এদিকে এই মুহূর্তে চলছে বন্যা—সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ইত্যাদি অঞ্চলে। ডান হাত, বাম হাত আর এখন বন্যার অজুহাতে বাড়ছে জি

শুধু কি গতানুগতিক বক্তৃতাই হবে
আগামীকাল বৃহস্পতিবার ঘোষিত হবে নতুন অর্থবছর ২০২৪-২৫-এর বাজেট। এই সময়ে সরকারের সামনে অনেক কাজ, অনেক করণীয়। তিনটি অবশ্যকরণীয় হচ্ছে: প্রথমত, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, দ্বিতীয়ত, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং তৃতীয়ত ও শেষত, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। এর মধ্যে, বিশেষ করে খাদ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। মানুষ বড়ই কষ্টে

বাজার কেন বেসামাল
২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট পেশ হবে আগামী ৬ জুন। এই মুহূর্তে ব্যবসায়ীদের অভাব-অভিযোগ ও দাবির কোনো শেষ নেই। আবার ‘মিডিয়া রিপোর্ট’ অনুযায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধেও অভিযোগের কোনো শেষ নেই। এরই মধ্যে দেখা যাচ্ছে, তাঁরা যে সমস্যাগুলোর কথা তুলে ধরছেন, তার মধ্যে আছে ডলারের দাম, ডলারের অভাব, আমদানি সংকোচন
