সেদিন ছিল অমাবস্যা,
দেখা করার দিন,
আমাদের গ্রাম ছিল পাশাপাশি,
তবু অপেক্ষা অন্তহীন।
মধ্যিখানে বয়ে যেত অশ্রু নদী হায়,
তাহার পাড়ে আমরা দুজন খুঁজতাম আশ্রয়।
একটি গ্রাম হিন্দুদের, আরেকটি মোসলমান,
প্রেম-প্রীতি-বিরহের ছিল নাকো স্থান।
দিবসেতে থাকতাম যে যার ঘরে,
অমাবস্যায় দেখা হতো, ফিরতাম ভোরে।
সেদিনও তুই এসেছিলি সুয্যি ডোবার শেষে,
চোখভরা মায়া নিয়ে, অশ্রু নদীর বেশে।
এমন সময় দুই গ্রামেতে উঠল জেগে রব,
জ্বলল কত মশাল, ওরা পুড়িয়ে দিল সব।
আমি তুই নদীর ধারে কাঁপছি তখন ভয়ে,
তোর হাত আমার হাতে, দুচোখে বিস্ময়।
আমি বললাম, পালাই চল ! পালিয়ে কোথায় যাই?
হিন্দুস্থান-পাকিস্তান কেউ দেবে না ঠাঁই।
ভোরবেলা আগুন নিভল, গ্রাম তখন ফাঁকা,
সেই যে তোকে বিদায় দিলাম, আর হলো না দেখা।
সারা দেশ ওলটপালট, খুঁজেছিলাম তোকে,
ঝোড়ো হাওয়ায় পথ হারিয়েছে, কেউ দেখেছ কি ওকে?
মানুষ তখন রক্তাক্ত, দিল না উত্তর,
সাতচল্লিশ চলে গেল, এল একাত্তর।
কারুর চারু আবার হারাল, কারুর বনলতা,
হলো না আর আমাদের একসঙ্গে থাকা।
অবশেষে শান্তি ফিরল, যুদ্ধ হল শেষ,
স্বাধীন আবার, স্বাধীন জয়ী, স্বাধীন বাংলাদেশ।
এখন আমার অনেক বয়েস, কমে আসছে দিন,
চোখে আর স্পষ্ট দেখি না, স্মৃতিও বিলীন।
আজ যদি দেখা হয়ে যায়, হয় আবার কথা,
ছোটবেলার নদীর পাড়ে ঘর বাঁধবি সখা?
যে গ্রাম দুটো পুড়ে গিয়েছিল, আবার গড়ব মোরা,
ফিরে আসবে প্রাণের ভয়ে পালিয়েছিল যারা।
রোজ তোকে ফুল এনে দেব, গোলাপ-পারুল-জুঁই,
রক্তকরবীর মালা গাঁথব, খোঁপায় বাঁধিস তুই।
অমাবস্যায় ঘুরতে যাবি? নেই বিদ্রোহীরা।
ছোটবেলার অপূর্ণ আশ মিটিয়ে নেব মোরা !

জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে সরকার ‘ক্রিয়েটিভ হাব’ তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে এবারের বাজেটে। এই হাবে থাকবে মিলনায়তন, বইয়ের দোকান, সিনেপ্লেক্স, ছোট ক্যাফেটেরিয়া এবং বিশেষ সৃজনশীল পণ্য প্রদর্শন ও বিপণনের ব্যবস্থা।
২ দিন আগে
মঞ্চনাটকের উদীয়মান ও নবীন নির্দেশকদের জন্য সুযোগ এল নিজেকে আরেকটু ঝালাই করার। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজন করেছে নির্দেশকদের জন্য বিশেষ কর্মশালা...
৫ দিন আগে
বেলা ১২টায় শুরু হয় লেখক ও অনুবাদক মনিরউদ্দীন ইউসুফ সেমিনার। এতে ‘বাংলার ফেরদৌসী মনিরউদ্দীন ইউসুফ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষক ড. হালিম দাদ খান। আলোচনায় অংশ নেন লেখক ও অনুবাদক জাভেদ হুসেন।
৭ দিন আগে
আজ ধর্মাদর্শকে বিকৃত করে অধর্মাচার যখন মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে, সমাজমানস কলুষিত করে হিংসা বিদ্বেষ ও ঘৃণা সঞ্চার করছে এবং অপর ধর্ম, অপর বিশ্বাস ও অপর আচারকে সহিংসভাবে আঘাত হানছে তখন নজরুলের কাণ্ডারী হুঁশিয়ার আমাদের সতর্ক করে দিচ্ছে। এই গানের শতবর্ষ উদ্যাপনের মধ্য দিয়ে আমরা মুক্তির দিশা...
৯ দিন আগে