
চলছে বাংলাদেশ–জিম্বাবুয়ে টি–টোয়েন্টি সিরিজ। পাঁচ ম্যাচ টি–টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম তিনটি জিতে ইতিমধ্যে সিরিজ নিশ্চিত করে নিয়েছে বাংলাদেশ। এই সিরিজের শুরুর পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় খেলাধুলাভিত্তিক বিভিন্ন পেজ ও গ্রুপে জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক সিকান্দার রাজার একটি মন্তব্য ভেসে বেড়াচ্ছে।
যেখানে দাবি করা হচ্ছে, ম্যাচ পরবর্তী প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠানে সিকান্দার রাজা বলেছেন, তিনি আউট হওয়ার পর গ্যালারি থেকে ভুয়া ভুয়া চিৎকার করছিল দর্শকেরা। সিকান্দার রাজা জানতে চেয়েছেন, ‘ভুয়া ভুয়া’ বলা খারাপ নাকি ভালো।
টাইগার ক্রিক (TigerCric) নামের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে তৃতীয় টি–টোয়েন্টি শেষে গতকাল (৭ মে) সিকান্দার রাজার কথিত মন্তব্যটি ফটোকার্ড আকারে পোস্ট করে লেখা হয়, ‘দলের পারফরম্যান্সে হতাশ সিকান্দার।’ পাকিস্তান থেকে পরিচালিত ক্রিকেট ভিত্তিক ট্রল পেজ ‘Pakistan Cricket Sarcasm’ থেকেও একইদিনে সিকান্দার রাজার কথিত মন্তব্যটি ইংরেজিতে অনুবাদ করে পোস্ট করা হয়েছে। একই মন্তব্য গত রোববার (৫ মে) ‘Sports Live Score’ নামের আরেকটি ফেসবুক পেজ থেকে পোস্ট করা হয়। পোস্টটিতে রিয়েকশন পড়েছে ১০ হাজারের বেশি। শেয়ার হয়েছে প্রায় অর্ধশত বার। মন্তব্য পড়েছে সাড়ে ৮০০ এর বেশি। এসব মন্তব্যে মাঠে থাকা দর্শকদের এক হাত নিয়েছেন ফেসবুক ব্যবহারকারীরা।
সিকান্দার রাজা কি আসলেই এমন কিছু বলেছিলেন?
দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কি–ওয়ার্ড অনুসন্ধানে মূলধারার কোনো সংবাদমাধ্যমে সিকান্দার রাজার কথিত মন্তব্যটির ব্যাপারে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। স্বভাবতই সিকান্দার রাজা এমন কোনো মন্তব্য করে থাকলে দেশের সংবাদমাধ্যমে মন্তব্যটি নিয়ে আলোচনা, প্রতিবেদন হতো। যেমন, সিরিজ শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলনে গত বৃহস্পতিবার (২ মে) কোমল পানীয় কোকাকোলার বোতল সরিয়ে দেশের সংবাদমাধ্যমে আলোচনায় ছিলেন রাজা।
পরে কথিত মন্তব্যটি নিয়ে অনুসন্ধানে ভাইরাল পোস্টগুলোতে সূত্র হিসেবে উল্লেখ করা, ম্যাচ পরবর্তী প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠানে সিকান্দার রাজার বক্তব্যগুলো যাচাই করে দেখা হয়। খেলাধুলাভিত্তিক দেশীয় টিভি চ্যানেল টি স্পোর্টসের ইউটিউবে এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত প্রতিটি ম্যাচেরই ম্যাচ পরবর্তী প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠানের ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওগুলোতে সিকান্দার রাজার সাক্ষাৎকারের অংশটুকু যাচাই করে তাঁর এমন কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে ম্যাচের কমেন্টারিগুলো যাচাই করেও সিকান্দার রাজার এমন কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
পরে দাবিটির সূত্রপাত যাচাই করে দেখা যায়, ‘Sports Live Score’ পেজটি থেকেই সম্ভাব্য প্রথম পোস্টটি করা হয় গত রোববার (৫ মে) সকাল ৭টা ৫৪ মিনিটে। পেজটিতে আজ বুধবার (৮ মে) জিম্বাবুয়েকে ভুয়া ধুয়োধ্বনি দেওয়ার কথিত ভাইরাল মন্তব্যটি প্রসঙ্গে ভারতীয় ক্রিকেট কিংবদন্তি সৌরভ গাঙ্গুলির একটি মন্তব্য পোস্ট করা হয়েছে।
যেখানে দাবি করা হচ্ছে, সৌরভ গাঙ্গুলি কথিত ঘটনাটি প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘আমি বাংলাদেশের ক্রিকেটকে ভালোবাসি, তাই সময় পেলে বাংলাদেশের ক্রিকেট নিউজ দেখি। একটা পোস্ট ব্যাপক পরিমাণে ভাইরাল হয়েছে সেটা হলো, বাংলাদেশ জিম্বাবুয়েকে ভুয়া বলেছে। আমি মনে করি এটা ঠিক করিনি বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা।’
তবে সৌরভ গাঙ্গুলির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ, এক্স অ্যাকাউন্ট, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউব খুঁজে এমন কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া সৌরভ গাঙ্গুলি এমন কোনো মন্তব্য করে থাকলে তাও স্বাভাবিকভাবেই সংবাদমাধ্যমে আসত।
পেজটিতে যোগাযোগের জন্য থাকা নম্বরটিতে কল দিয়ে সৌরভ গাঙ্গুলি ও সিকান্দার রাজার কথিত মন্তব্যটির সূত্র সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয় আজকের পত্রিকার ফ্যাক্টচেক বিভাগ থেকে। তবে কলগ্রহীতা জানান, এই পেজে তাঁর নম্বর কীভাবে এসেছে তিনি তা জানেন না এবং ‘Sports Live Score’ নামে তাঁর কোনো পেজ নেই। সৌরভ গাঙ্গুলির মন্তব্যটি সম্পর্কেও তিনি কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
অর্থাৎ বাংলাদেশে সিরিজ খেলতে এসে আউট হয়ে ভুয়া ভুয়া শুনে সেটি ভালো না মন্দ তা জানতে চেয়ে জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক সিকান্দার রাজার কথিত মন্তব্যটি বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।

আজ (২১ ফেব্রুয়ারি) ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় প্রধানমন্ত্রী’ শিরোনামে একটি সংবাদ ছড়িয়ে পড়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসসের এমন সংবাদ মুহূর্তেই গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো লুফে নিয়েছে।
১৪ ঘণ্টা আগে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাল ভিডিওতে বর্তমান সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বক্তব্য দাবি করে ছড়ানো ভিডিওর ক্যাপশনে বলা হয়েছে, তিনি বলেছেন, গণভোট বলে কিছু নেই।
২১ ঘণ্টা আগে
‘জুলাই যোদ্ধা বলে কিছু নাই, সংবিধান অনুযায়ী এটা অন্যায়’—আমীর হোসেন খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নামে এমন দাবিতে একটি ফটোকার্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
২ দিন আগে
‘প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক নিয়োগে নারীদের জন্য ৬০ ভাগ কোটা ছিল, যেটা বিগত সরকার উঠিয়ে দিয়েছিল। সেটাকে আবার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা হবে’—আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সাম্প্রতিক বক্তব্য দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে।
২ দিন আগে