Alexa
রোববার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

সেকশন

epaper
 

কাদেরের বক্তব্যে দ্বিমত শরিক দলের নেতাদের

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২২, ১১:০৭

কাদেরের বক্তব্যে দ্বিমত শরিক দলের নেতাদের বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন সরকারকে মোকাবিলার জন্য ২০০৫ সালে অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে ১৪-দলীয় জোট গঠন করেছিল আওয়ামী লীগ। ২০০৮ সাল থেকে টানা তিনটি জাতীয় নির্বাচনে জোটগতভাবেই ভোট করেছে শরিক দলগুলো। প্রথম দুই দফায় মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দিলেও সর্বশেষ একাদশ জাতীয় নির্বাচনের পর শরিক দলের নেতাদের বাদ দিয়েই সরকার পরিচালনা করছে আওয়ামী লীগ। এ নিয়ে শরিকদের মধ্যে চাপা অসন্তোষ রয়েছে। এ ছাড়া জোটের রাজনীতিতে গুরুত্ব না দেওয়ার কারণেও আওয়ামী লীগের ওপর ক্ষুব্ধ শরিক দলের নেতারা।

সেই ক্ষোভের আগুনে নতুন করে ঘি ঢেলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ১৪-দলীয় জোট প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, এই জোট কেবলই নির্বাচনী জোট। এখানে আদর্শিক কোনো ব্যাপার নেই। তাঁর এমন বক্তব্যে দ্বিমত প্রকাশ করেছেন জোটভুক্ত দলের নেতারা।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে সম্প্রতি প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলসহ (জাসদ-ইনু) ১৪-দলীয় জোটভুক্ত কয়েকটি দল। সেই কর্মসূচিতে শরিক দলের নেতারা কঠোর ভাষায় সরকারের সমালোচনাও করেছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের এক জরুরি সভায় জোটের শরিকদের কর্মসূচি নিয়ে ওবায়দুল কাদেরকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকেরা।

এর জবাবে কাদের বলেন, ‘জোটের শরিকদের দলগতভাবে কর্মসূচি দেওয়ার অধিকার আছে। তারা করতে চাইলে করবে। এটা তো কোনো কথা না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের জোট তো নির্বাচনী। সেটা তো কৌশলগত জোট। সেখানে আদর্শের কোনো বিষয় নেই। তাহলে জাতীয় পার্টির সঙ্গে আমরা কেন জোট করেছি? এসব ব্যাপার তো ভাবতে হবে।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের এমন বক্তব্যে দ্বিমত জানিয়ে ১৪-দলীয় জোটের শরিক দলের নেতারা বলছেন, মুক্তিযুদ্ধ, অসাম্প্রদায়িক চেতনা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারসহ ২৩ দফা দাবি নিয়ে এই জোট গঠন হয়েছে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার পর আদর্শিক কারণেই এ জোট হয়েছে।

জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা কখনো মনে করি না এটা (১৪ দল) আদর্শের জোট। কিছু লোক বলতেন, এটা আদর্শের জোট। আমরা এটা নিয়ে কখনো আপত্তি করি নাই। তবে আমাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রবর্তনের বিষয়ে আদর্শিক মিল রয়েছে। সেটা অস্বীকার করলে মুশকিল।’

ওবায়দুল কাদেরের মন্তব্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জোটের আরেক শরিক সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘উনি (কাদের) আদর্শ বলতে কী বুঝিয়েছেন, সেটা তিনিই বলতে পারেন। আমরা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সব শক্তি এক আছি। সেই অর্থে এটা তো আদর্শেরই জোট। বিএনপিকে যখন মোকাবিলা করতে হয়, তখন তো এটা আদর্শিক হয়ে যায়।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য ঠিক নয় বলে মন্তব্য করে কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান বলেন, ‘২৩ দফার ভিত্তিতে এই জোট গঠিত হয়েছে। গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদী শক্তির জোট কি আদর্শের হয় না? নির্বাচনের হয়?’

১৭ আগস্ট বিক্ষোভ সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগ
সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপি ও সমমনা দলের অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের প্রতিবাদে ১৭ আগস্ট দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। গতকাল দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সভা শেষে ওবায়দুল কাদের জানান, ১৭ আগস্ট বিকেল ৪টায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগ। জেলা, উপজেলা, থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়েও এ কর্মসূচি পালিত হবে।

এ কর্মসূচি ঘোষণার পর কাদের বলেন, ‘তারা (বিএনপি ও সমমনা দলগুলো) যেভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে, মনে হয় রাজপথ আমরা ভুলে গেছি।’ আওয়ামী লীগ রাজপথ থেকে ক্ষমতায় এসেছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমরাও আছি। অচিরেই রাজপথে দেখতে পাবেন। শোকের মাসে হয়তো আমরা কিছু কিছু প্রোগ্রাম করছি না।’

নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘খেলা হবে, মোকাবিলা হবে, যার যা কিছু ফ্রি-স্টাইল বাংলাদেশে হতে দেব না আমরা।’

তবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে কোনো বিরোধী দল গণতান্ত্রিক কর্মসূচি দিলে সরকার তাতে বাধা দেবে না বলে জানান তিনি। তবে আন্দোলনে সহিংসতার উপাদান যুক্ত করলে আওয়ামী লীগ ঘরে বসে থাকবে না বলেও হুঁশিয়ার করেন কাদের। এ ছাড়া বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলে দেশেও কমানো হবে বলে জানান তিনি।

জ্বালানি তেলের দাম কমলে সরকার তা সমন্বয় করবে বলে পুনরায় বলেন কাদের। তিনি বলেন, ‘আজকে বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে এই পরিস্থিতি হয়েছে। যখন স্বাভাবিক সময় আসবে তখন আমাদের প্রমিজ থেকে পিছিয়ে যাব না।’

বিএনপির নেতারা সাম্প্রতিক সভা-সমাবেশে বলছেন, আওয়ামী লীগ পালিয়ে যাবে। এ প্রসঙ্গে কাদের বলেন, ‘কোথায় পালাব? আমাদের দেশ বাংলাদেশ। পালানোর ইতিহাস আমাদের নেই। প্রয়োজনে দেশের মাটিতে জেলে যাব। আওয়ামী লীগ পালাবার দল নয়।’

ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মির্জা আজম, এস এম কামাল হোসেন, বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    পঠিতসর্বশেষ

    এলাকার খবর

     
     

    আগ্রাসী ঋণে ঝুঁকছে ব্যাংক

    নানা অনিয়মে জর্জরিত পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয়

    ঘুঘুডাঙায় তালপিঠার উৎসব

    টিকিটসহ ধরা বুকিং সহকারী, বরখাস্ত

    শিল্পবর্জ্যে শীতলক্ষ্যার সর্বনাশ

    টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, নেই তাসকিন

    স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওয়ার্ড বয়ের বিরুদ্ধে রোগীকে ধর্ষণের অভিযোগ

    ‘উপাত্ত সুরক্ষা আইন’ ঢেলে সাজানোর দাবি টিআইবির

    মরীচিকা পড়া সেতুর কাজ পুনরায় শুরু, অনিয়ম নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ 

    সেনাবাহিনীতে যুক্ত হলো নতুন সামরিক বিমান

    সরকারের সব লেনদেন ‘নগদে’ করার পরামর্শ সংসদীয় কমিটির