Ajker Patrika

মহাকাশে সবুজ নক্ষত্র ও এক কসমিক ক্রাইম সিন

ফিচার ডেস্ক
আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১২: ৪১
মহাকাশে সবুজ নক্ষত্র ও এক কসমিক ক্রাইম সিন

হ্যালোউইনের ভৌতিক মেজাজে সূর্য যদি হঠাৎ সবুজ আলো ছড়াতে শুরু করে, কেমন হবে? শুনতে সায়েন্স ফিকশনের মতো মনে হলেও মহাকাশবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মৃত্যুর পর আমাদের সূর্যও হয়তো একদিন সবুজ রঙের আলো ছড়াতে পারে। তবে তার জন্য সূর্যকে হতে হবে এক কসমিক জম্বি বা মহাজাগতিক নরখাদক। একে বেঁচে থাকার জন্য গিলে খেতে হবে নিজের চারপাশের পাথুরে গ্রহগুলোকে।

ইউকের ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী মার্ক হোল্যান্ডসের নেতৃত্বে এক দল বিজ্ঞানী সম্প্রতি এমন এক রোমাঞ্চকর বিষয় আবিষ্কার করেছেন। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে জানতেন, সাধারণ নক্ষত্রের রং শুধু তার উত্তাপের ওপর নির্ভর করে। এই রং সাধারণত কমলা, সাদা বা হালকা নীল হয়ে থাকে। কিন্তু সাধারণ নক্ষত্রগুলো যখন আয়ু হারিয়ে হোয়াইট ডার্ফ বা শ্বেত বামনে পরিণত হয়, তখন তাদের রসায়ন পুরোপুরি বদলে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু মৃত শ্বেত বামন নক্ষত্র তাদের মহাকর্ষ বলের টানে কাছে আসা গ্রহ বা গ্রহাণুকে দুমড়েমুচড়ে ধুলোয় পরিণত করে গিলে ফেলে। এই পাথুরে ধ্বংসাবশেষে থাকা ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, লিথিয়াম বা আয়রনের মতো উপাদানগুলো নক্ষত্রের বায়ুমণ্ডলের হিলিয়ামের সঙ্গে মিশে এক অদ্ভুত বিক্রিয়া ঘটায়। আর তাতেই সাধারণ শ্বেত বামন থেকে ছড়িয়ে পড়ে অপ্রত্যাশিত সবুজ, গোলাপি, হলুদ কিংবা বেগুনি রঙের দ্যুতি। বিজ্ঞানীরা একে বলছেন এক মহাজাগতিক ক্রাইম সিন। যেখানে মৃত নক্ষত্রটি এককালের জীবন্ত গ্রহকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। গ্রহটির পেটে কী কী উপাদান ছিল, তা নক্ষত্রের সবুজ আলো বিশ্লেষণ করেই ধরে ফেলছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

আমাদের পৃথিবী থেকে প্রায় ৬৫ আলোকবর্ষের মধ্যে এমন এক সবুজ নক্ষত্রের সন্ধান মিলেছে ইতিমধ্যে। এর বায়ুমণ্ডলে সোডিয়াম ও ক্যালসিয়ামের প্রাচুর্য রয়েছে। ভবিষ্যতে নতুন স্পেকট্রোস্কোপিক প্রযুক্তির মাধ্যমে হাজার হাজার শ্বেত বামন নিয়ে আরও গবেষণা চালানো হবে। কে জানে, হয়তো মহাবিশ্বের এই রঙিন গোপন রহস্য আমাদের কাছে আরও নতুন নতুন সবুজ ও গোলাপি নক্ষত্রের গল্প নিয়ে হাজির হবে।

সূত্র: সিএনএন, স্পেস ডটকম

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত