Ajker Patrika

আন্তর্জাতিকে ব্যস্ততা, ঘরোয়ায় নীরব হকি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০: ৪৮
আন্তর্জাতিকে ব্যস্ততা, ঘরোয়ায় নীরব হকি
বাংলাদেশ হকি দলের একাংশ। ছবি: সংগৃহীত

দেশের হকিতে একটা অদ্ভুত দৃশ্য নিয়মিত হয়ে গেছে। ‘অদ্ভুত’ কিছু নিয়মিত দেখার কথা না। অন্য দেশে যা অদ্ভুত, সেটিই যেন বাংলাদেশ হকিতে নিয়মিত! আন্তর্জাতিক কোনো টুর্নামেন্টের সূচি ঘোষণা করা হলে নীল টার্ফে প্রাণের স্পন্দন ফেরে, আর ক্যাম্পের বাঁশি বাজে। কিন্তু টুর্নামেন্ট শেষ হতেই সব আয়োজন থমকে যায়। দেশের হকির মূল ভিত্তি ঘরোয়া লিগ যেন হিমাগারে বন্দী। প্রিমিয়ার লিগ সর্বশেষ হয়েছিল প্রায় দুই বছর আগে। প্রথম বিভাগ লিগ বন্ধ তারও আগে থেকে। একদিকে ওমানে এশিয়ান গেমস কোয়ালিফায়ারে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন; অন্যদিকে লিগ না থাকায় খেলোয়াড়দের রুটি-রুজির হাহাকার—এই দুই বৈপরীত্য নিয়েই শুরু হলো জাতীয় দলের নতুন ক্যাম্প।

আগামী ২৫ মার্চ ওমানে শুরু হতে যাচ্ছে এশিয়ান গেমস বাছাই। সেই লক্ষ্যে মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে ৩৭ খেলোয়াড়কে কুপার টেস্টের জন্য ডাকা হলেও উপস্থিত থাকতে পারেননি গোলকিপার আবু সাঈদ নিপ্পন। প্রথম দিনের ফিটনেস পরীক্ষার ফল খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। ঘরোয়া লিগ না থাকায় খেলোয়াড়েরা দীর্ঘ বিরতিতে ছিলেন। গতকাল কোচ আশিকুজ্জামান সরাসরিই বলেন, ‘আসলে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে গেলে প্রচুর ফিটনেস লাগে। যে ধরনের ফিটনেস দরকার, ওই ধরনের ফিটনেস আসলে আমাদের খেলোয়াড়দের এখন নেই।’ যদিও তিনি আশাবাদী যে ওমানে যাওয়ার আগে এই ঘাটতি কিছুটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

বাংলাদেশ সর্বশেষ খেলেছে পাকিস্তানের বিপক্ষে, গত নভেম্বরে। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্লে-অফ সিরিজে তিন ম্যাচের তিনটিতেই হেরেছে বাংলাদেশ। সময়ের সংকট এবং বড় অঙ্কের টাকার অভাবে এবার দল কোনো দেশি বা বিদেশি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছে না। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.) রিয়াজুল হাসান বলেন, ‘দেশে কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ খেলা হবে না, দল বাইরে গিয়েও কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারবে না। একটা হলো সময়ের সংকট, আরেকটি আর্থিক সংকট। আর্থিক সমস্যা তো থাকতেই পারে, এটা পৃষ্ঠপোষকের অভাব। আমরা তো চেষ্টা করছি বিভিন্নভাবে।’

ওমানে গিয়ে যদি টুর্নামেন্টের আগে দু-একটি দলের সঙ্গে অন্তত দুই কোয়ার্টার করেও প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলা যায়, তবে কিছুটা উপকার হবে। তবে অন্ধকার দিকটি ফুটে উঠল অভিজ্ঞ খেলোয়াড় পুষ্কর খিসা মিমোর কথায়। দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ডাক পেলেও তাঁর কণ্ঠে অনিশ্চয়তা। মিমো বলেন, ‘লিগই হচ্ছে হকি প্লেয়ারদের মূল আয়ের উৎস। যেহেতু প্রায় তিন বছর আমাদের লিগ নেই। একটা লিগ না থাকলে খেলোয়াড়েরা কী করবে? বিশেষ করে আমরা যারা বাইরে থাকি। নৌবাহিনী, সেনাবাহিনী বা বিকেএসপিতে যারা আছে, ওরা তো একটা সংস্থার সঙ্গে জড়িত। আমরা যারা বাইরে আছি আমাদের তো কোনো আয়ের উৎস নেই; যেহেতু আমরা হকিকে পেশা হিসেবে নিয়েছি।’

লিগ নিয়ে ক্লাবগুলোর অনীহার কথা বরাবরই বলে থাকে ফেডারেশন। এবারও তাই। ক্লাবগুলোর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারেও কিছু বলতে পারছে না ফেডারেশন। এশিয়ান গেমসের বাছাই না পেরোনোটা অবাকই হবে। গত বছরের ডিসেম্বরে জুনিয়র হকি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৮ গোল করেন আমিরুল ইসলাম। নির্বাচক কমিটি এবার অনূর্ধ্ব-২১ দলের একঝাঁক তরুণের সঙ্গে অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে দল গড়ার চেষ্টা করছে। আমিরুলের কণ্ঠে তাই আত্মবিশ্বাস, ‘প্রথম আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে চ্যাম্পিয়ন হওয়া এবং এশিয়ান গেমসে যাওয়া। যেহেতু শেষ আমরা এএইচএফ কাপে বাজে খেলেছি। সেটা কাটিয়ে এই টুর্নামেন্টে আমাদের চ্যাম্পিয়ন হতেই হবে।’

আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট দেশের হকিতে যতটুকু অক্সিজেন দিচ্ছে, ঘরোয়া লিগ ছাড়া তা দীর্ঘ মেয়াদে শ্বাস ধরে রাখতে পারবে কি না, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

বিসিবির চাওয়া পূরণ করল আইসিসি

নির্বাচনের ৩ দিন যান চলাচলে বিধিনিষেধ, ভোট দিতে যাবেন কীভাবে

সভায় অংশ নিচ্ছেন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বিএনপি নেতা বিপ্লব, গ্রেপ্তার করছে না পুলিশ

জন্মহার বাড়াতে ভিয়েতনাম-শ্রীলঙ্কা থেকে তরুণী ‘আমদানি’র বিতর্কিত প্রস্তাব দক্ষিণ কোরিয়ায়

বাংলাদেশি পণ্যে শুল্ক কমিয়ে ১৯ শতাংশ করল যুক্তরাষ্ট্র, তৈরি পোশাকে শূন্য শুল্কের প্রতিশ্রুতি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত