বিদায় বলার পথে অ্যান্ডারসন

ক্রিকেটকে বিদায় বলার পথে জেমস অ্যান্ডারসন। ২০২৭ মৌসুমের জন্য ইংলিশ কাউন্টি ক্লাব ল্যাঙ্কাশায়ার নতুন চুক্তির প্রস্তাব না দেওয়ায় ২৬ বছরের পেশাদার ক্যারিয়ারের ইতি টানতে পারেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি এই পেসার।
এ বছর ৪৪ বছরে পা রাখা অ্যান্ডারসন ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়ার পরও ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে খেলা চালিয়ে যান। নিজের শৈশবের ক্লাবটির হয়ে ২০২৬ মৌসুমেও বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন তিনি। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে ১৭.৬৮ গড়ে নিয়েছেন ৫০ উইকেট। নির্বাচিত হয়েছেন ক্লাবের বর্ষসেরা চ্যাম্পিয়নশিপ খেলোয়াড়।
তবে অ্যান্ডারসনের ব্যক্তিগত সাফল্য দলীয় ব্যর্থতা আড়াল করতে পারেনি। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের ডিভিশন টুতে শেষের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে থেকে মৌসুম শেষ করেছে ল্যাঙ্কাশায়ার। সীমিত ওভারের দুটি প্রতিযোগিতার কোনোটিতেই গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি তারা।
ক্লাবের ক্রিকেট বিভাগে পুনর্গঠনের মধ্যেই অ্যান্ডারসনকে নতুন চুক্তির প্রস্তাব না দেওয়ার সিদ্ধান্ত এসেছে। ড্যানিয়েল গিডনি দায়িত্ব ছাড়ার পর প্রধান নির্বাহী হয়েছেন রিচার্ড কেনিয়ন। অন্যদিকে মার্ক চিলটনের জায়গায় ক্রিকেট পরিচালকের দায়িত্ব নিয়েছেন পল ফারব্রেস। নতুন নেতৃত্ব ক্লাবের ক্রিকেট কার্যক্রম পর্যালোচনা করছে। সেই প্রক্রিয়ায় অ্যান্ডারসনের ভবিষ্যৎও বিবেচনায় এসেছে বলে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়ার পর থেকে এক বছর মেয়াদি চুক্তিতে ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে খেলছিলেন অ্যান্ডারসন। গত বছরের নভেম্বরে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর পর ২০২৬ মৌসুমের জন্য তাঁকে অধিনায়ক করা হয়। এর আগে বিভিন্ন সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন অধিনায়কের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অ্যান্ডারসনের উইকেটসংখ্যা ১ হাজার ১৯৩। এর মধ্যে ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে নিয়েছেন ৪৪৩ উইকেট। ক্লাবটির হয়ে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে তাঁর শিকার ৮৩ উইকেট, টি টোয়েন্টিতে ৫০টি। ইংল্যান্ডের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সব সংস্করণ মিলিয়ে নিয়েছেন আরও ৯৯১ উইকেট।
টেস্ট ক্রিকেটে অ্যান্ডারসনের অর্জন আরও অসাধারণ। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে লর্ডসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নিজের ১৮৮তম টেস্ট খেলার পর এই সংস্করণ থেকে অবসর নেন তিনি। ২৬.৪৫ গড়ে তাঁর টেস্ট উইকেট ৭০৪টি। এই সংস্করণে তাঁর চেয়ে বেশি উইকেট নিয়েছেন কেবল শ্রীলঙ্কার মুত্তিয়া মুরালিধরন ও অস্ট্রেলিয়ার শেন ওয়ার্ন।
ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে অ্যান্ডারসনের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। অন্য কোনো কাউন্টি ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে খেলা চালিয়ে যাবেন, নাকি এখানেই থামবেন, তা এখনো জানা যায়নি। তবে নতুন চুক্তির প্রস্তাব না পাওয়ায় তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় যে সামনে চলে এসেছে, তা বলাই যায়।









