বাংলাদেশকে কঠিন লক্ষ্য ছুঁড়ে দিল জিম্বাবুয়ে

তাসকিনের আহমেদের বোলিং তোপে পড়ে জিম্বাবুয়ের শুরুটা হয়েছিল খুবই বাজে। এরপর দারুণ প্রতিরোধ গড়ে শুরুর সে বিপর্যয় সামাল দেন ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেইগ আরভিন। তাঁদের গড়া ভীতের ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশকে ২৭২ রানের লক্ষ্য দিয়েছে জিম্বাবুয়ে।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ২৪ রানেই ৩ ব্যাটারকে হারিয়ে বেশ চাপে পড়েছিল জিম্বাবুয়ে। এমন শুরুর পর অল্পতেই গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় ছিল আফ্রিকার দলটি। চরম বিপদে দলের হাল ধরেন টেলর ও আরভিন। চতুর্থ উইকেটে চিত্র পাল্টে দেয় এই জুটি। বাংলাদেশের বোলারদের হতাশ করে রানের চাকা সচল রাখেন তাঁরা দুজন।
টেলর ও আরভিনের সাবলীল ব্যাটিংয়ে শুরুর বিপর্যয় সামলে বড় পুঁজির স্বপ্ন দেখে জিম্বাবুয়ে। দলকে ২৭১ রান এনে দিতে দুজন মিলে করেন ১৭৪ রান। এর মধ্যে তাঁদের চতুর্থ উইকেটে আসে ১৫০ রান। প্রথম ১০ ওভারে মাত্র ৩০ রান করেছিল জিম্বাবুয়ে। সেখান থেকে ৪০তম ওভার শেষে তাঁদের স্কোরবোর্ডে ওঠে ২০১ রান। অর্থাৎ মাঝের ৩০ ওভারে ১৭১ রান তোলে তারা। শেষ পর্যন্ত টেলর ও আরভিনের ব্যাটেই বাংলাদেশকে কঠিন লক্ষ্য দিয়েছে জিম্বাবুয়ে।
ভয়ঙ্কর হয়ে উঠা টেলর-আরভিন জুটি ভেঙে বাংলাদেশকে স্বস্তি এনে দেন সাইফ হাসান। ৩৭তম ওভারে তাঁকে প্রথমবার বোলিংয়ে আনেন তাওহীদ হৃদয়। অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দিতেও বেশি সময় নেননি সাইফ। সে ওভারের দ্বিতীয় বলেই টেলরকে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ক্যাচ বানান। ১০১ বলে ১০ বাউন্ডারিতে টেলর ফিরলে ভাঙে ১৫০ রানের জুটি।
টেলর ফিরলেও সেঞ্চুরির আশা জাগিয়েছিলেন আরভিন। কিন্তু নড়বড়ে নব্বইয়ের ঘরে কাটা পড়েন তিনি। শরীফুল ইসলামের বলে নুরুল হাসান সোহানের হাতে ধরা পড়ার আগে ৯৩ রান করেন আরভিন। ১০৬ বলে ৯ চারে সাজানোর তাঁর ইনিংস। মাঝে ওয়েসলে মাধেভেরে (১৭) ও সিকান্দার রাজাকে (৪) হারায় জিম্বাবুয়ে।
শেষ দিকে বাংলাদেশের ওপর ছোট ঝড় বইয়ে দেন নিউমান নায়ুম্বুরি ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজা। তাঁদের জুটিতে আসে ৩৭ রান। দুজনেই ২১ রানে অপরাজিত থাকেন। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৭১ রান করে জিম্বাবুয়ে।
আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম ওভারেই জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনে আঘাত হানেন তাসকিন। এই পেসারের করা প্রথম ওভারের শেষ বলে এলবিডব্লুর ফাঁদে পড়েন ব্রায়ান বেনেট। রানের খাতা খুলতে পারেননি তিনি। তাসকিনের করা পঞ্চম ওভারের প্রথম বলে ফেরেন বেন কারান। ৬ রান করা কারানও এলবিডব্লু হন।
জোড়া উইকেট হারানোর ধাক্কা সামলে উঠার আগেই তাফাদজাওয়া সিগাকে (১৬) সোহানের গ্লাভসবন্দী করেন তাসকিন। এরপর টেলর ও আরভিনের সেই জুটি।
শুরুর সেই ঝড়ের পর আর উইকেট পাননি তাসকিন। ৩ উইকেট নেওয়ার পথে ৪৪ রান দেন তিনি। সাইফ ও শরীফুলের শিকার দুটি করে উইকেট। বাকি উইকেটটা নেন রিশাদ হোসেন। এদিন ৭ বোলার ব্যবহার করেছে বাংলাদেশ। শুরুটাও ছিল দারুণ। এরপরও জিম্বাবুয়েকে হাতের নাগালে আটকে রাখতে পারেনি হৃদয়রা। টেলর-আরভিনের দৃঢ়তার পর কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছে বাংলাদেশের ব্যাটাররা।









