Ajker Patrika

ইংল্যান্ডের অপেক্ষা বাড়িয়ে আবারও ফাইনালে আর্জেন্টিনা

০৩: ০৯

আবেগ ও কান্না

শেষ বাঁশি বাজতেই সতীর্থদের সঙ্গে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন লিওনেল মেসি। আটলান্টা স্টেডিয়ামের একটি বক্সে বসে সেই আনন্দে শামিল হন তার স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জোও। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের চোখে তখন হতাশা আর ক্ষোভ। আর আর্জেন্টিনা? টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার আনন্দে উদ্‌যাপনে মেতে ওঠে।

৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। তবে আর্জেন্টিনা সব রোমাঞ্চ জমিয়ে রাখে শেষ ১০ মিনিটের জন্য। ৮৫ মিনিটে এনসো ফের্নান্দেস দুর্দান্ত গোলে ফেরান সমতা। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন লাউতারো মার্তিনেস।

০৩: ০২

শেষ বাঁশি

আর্জেন্টিনা ২ : ১ ইংল্যান্ড

আরও এক ম্যাচ। আরও একটি নাটকীয়তা। আর্জেন্টিনা তো এমনই। পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প যারা লিখছে বারবার। যখন ধরা হয়েছিল সব শেষ, ঠিক তখনই জেগে ওঠে ফিনিক্স পাখির মতো। ইংল্যান্ডের অপেক্ষা আরও দীর্ঘায়িত করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আটলান্টায় ২–১ গোলের জয়ে ১৯ জুলাই নিউজার্সির ফাইনালে মুখোমুখি হবে স্পেনের।

০২: ৫৩

লাউতারোর গোলে এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা

৯০‍+২’ যেভাবে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছিল, তাতে আর্জেন্টিনার এই গোলটি প্রাপ্যই ছিল। আর সেই পুরস্কার আসে যোগ করা সময়ে। প্রথমে মাক আলিস্তারের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে মেসি দারুণ উপস্থিত বুদ্ধিতে দূরের পোস্টে ক্রস তুলে দেন। সেখানে সবার ওপরে উঠে হেড করেন লাউতারো মার্তিনেস। আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। ফাইনাল থেকে আর মাত্র কয়েক মিনিট দূরে আর্জেন্টিনা।

০২: ৪৬

এনসোর গোলে সমতায় আর্জেন্টিনা

৮৫’ আক্রমণের শুরু হয়েছিল কর্নার থেকে। তবে এবার ক্রস না তুলে মেসি বক্সের বাইরে পেছনে থাকা এনসো ফের্নান্দেসের দিকে বল বাড়িয়ে দেন। ম্যাচে এর আগেই চারবার গোলের চেষ্টা করেছিলেন এনসো, কয়েক সেকেন্ড আগেই যার একটি শট দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়েছিলেন জর্ডান পিকফোর্ড। কিন্তু এবার আর পোস্ট কিংবা গোলরক্ষক—কেউই তাঁকে থামাতে পারেনি। বক্সের বাইরে থেকে নিখুঁত শটে জাল খুঁজে নিয়ে আর্জেন্টিনাকে ১-১ গোলের সমতায় ফেরান এনসো।

০২: ৪৩

মাঠে নামলেন লাউতারো

৮১’ গোলের খোঁজে থাকা আর্জেন্টিনা লেফটব্যাক নিকোলাস তালিয়াফিকোকে তুলে মাঠে নামিয়েছে লাউতারো মার্তিনেসকে। পাঁচটি সাব ব্যবহার করে ফেলেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। আরও দুটি পরিবর্তন আনে ইংল্যান্ড। রিস জেমসের জায়গায় মাঠে নামেন ড্যান বার্ন। আর মাঝমাঠে ডেকলান রাইসকে তুলে তাঁর পরিবর্তে নামানো হয় নিকো ও'রাইলিকে।

০২: ৩৯

চাপ বাড়াচ্ছে আর্জেন্টিনা, আবারও পিকফোর্ডে উদ্ধার ইংল্যান্ড

চাপ বাড়াচ্ছে আর্জেন্টিনা, আবারও পিকফোর্ডে উদ্ধার ইংল্যান্ড

৭৬’ রদ্রিগো দি পলের বাড়ানো ক্রসে দারুণ এক হেড নেন মাক আলিস্তার। তবে বলটি ডান পাশের পোস্টে লেগে ফিরে আসে । রিবাউন্ডে আবারও গোলের চেষ্টা করেন মাক আলিস্তার। কিন্তু এবারও দুর্দান্ত এক সেভে করে দলকে নিশ্চিত গোল হজমের হাত থেকে বাঁচান পিকফোর্ড।

০২: ৩৫

আর্জেন্টিনার তিন বদল

৭২’ আর্জেন্টিনা একসঙ্গে তিনটি বদল এনেছে সমতায় ফিরতে। লিসান্দ্রো মার্তিনেসের জায়গায় নামেন নিকোলাস ওতামেন্দি, নাউয়েল মোলিনার পরিবর্তে মাঠে ফেরেন গনসালো মন্তিয়েল এবং জুলিয়ানো সিমিওনের জায়গায় রদ্রিগো দি পল।

ইংল্যান্ড গোলদাতা অ্যান্থনি গর্ডনকে তুলে রক্ষণভাগ শক্ত করতে মাঠে নামায় এজরি কনসাকে।

০২: ৩১

আর্জেন্টিনার হতাশা বাড়ালেন পিকফোর্ড

৬৯’ লেয়ান্দ্রো পারদেসের বদলি নামার ৫ মিনিটের মাথায় আর্জেন্টিনাকে সমতায় ফেরানোর খুব কাছে ছিলেন নিকো গনসালেস। লিওনেল মেসির বাড়ানো লং বলে তাঁর হেড দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন ইংল্যান্ড গোলরক্ষক পিকফোর্ড। এরপরই হাইড্রেশন ব্রেকের বাঁশি বাজান রেফারি।

০২: ২৫

ইংল্যান্ডের রেকর্ড

গর্ডনের গোলে ইংল্যান্ড শুধু ম্যাচেই এগিয়ে যায়নি, গড়েছে নতুন রেকর্ডও। ২০২৬ বিশ্বকাপে এ নিয়ে ইংল্যান্ডের গোলসংখ্যা দাঁড়াল ১৪, যা বিশ্বকাপের এক আসরে তাদের সর্বোচ্চ। এর আগে ২০২২ বিশ্বকাপে ১৩ গোল করে নিজেদের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়েছিল ইংল্যান্ড।

০২: ১৬

আর্জেন্টিনা ০ : ১ ইংল্যান্ড

আর্জেন্টিনা ০ : ১ ইংল্যান্ড

৫৫’ অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড। ক্লিয়ার করা বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডান প্রান্তে থাকা মর্গান রজার্সের দিকে বাড়িয়ে দেন ডেকলান রাইস। রজার্স সেখান থেকে দূরের পোস্টে নিখুঁত এক ক্রস বাড়ান। মোলিনাকে পেছনে ফেলে সময়মতো দৌড়ে আসা অ্যান্থনি গর্ডন ঠান্ডা মাথায় আলতো ছোঁয়ায় এমিলিয়ানো মার্তিনেসকে পরাস্ত করেন। আর্জেন্টিনা কি পারবে ঘুরে দাঁড়াতে?

০২: ০৯

গোলমুখে আলভারেসের শট

গোলমুখে আলভারেসের শট

৪৭’ ম্যাচের সেরা সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। ডান প্রান্ত দিয়ে হুলিয়ান আলভারেসের নেওয়া শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। ফিরতি শটও নেন আলভারেস। তবে তা কর্নারের বিনিময়ে ক্লিয়ার করেন পিকফোর্ড।

০২: ০৫

শুরু হলো দ্বিতীয়ার্ধের খেলা

বিরতির পর মাঠে ফিরেছে দুই দল। গোলের গেরো কি খুলবে এবার?

০১: ৪৯

প্রথমার্ধে নেই কোনো গোল

প্রথমার্ধে নেই কোনো গোল

প্রথমার্ধ শেষ হলো গোলশূন্য ড্রয়ে। কেউই সেভাবে বলার মতো আক্রমণ করতে পারেনি। তবে ফাউল হয়েছে ১৯টি। আর্জেন্টিনা করেছে ১২টি, আর ইংল্যান্ড ৭টি।

০১: ৪৪

আধঘণ্টায় নেই কোনো শট

১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর ইংল্যান্ড–আর্জেন্টিনা ম্যাচই প্রথম ম্যাচ যেখানে প্রথম ৩০ মিনিটে কোনো দলই একটি শট নিতে পারেনি।

০১: ৪৩

লিসান্দ্রোকে হলুদ কার্ড

৪২’ রজার্সকে জার্সি ধরে টেনে ফাউল করায় আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেসকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। ফলে ম্যাচে দুই দলই একটি করে হলুদ কার্ড দেখল।

০১: ৪০

এনসোর লক্ষ্যভ্রষ্ট শট

৩৮’ মেসিকে ফাউল করায় ইংল্যান্ডের এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। সেই ফ্রি-কিকের পর আক্রমণের ধারাবাহিকতায় আর্জেন্টিনা গোলের জন্য চাপ বাড়ায়। ৩৮ মিনিটে দূরপাল্লার এক শট নেন এনসো ফের্নান্দেস, তবে বারের ওপর দিয়ে বাইরে চলে যায়। এরপর লিওনেল মেসিও গোলের উদ্দেশে আরেকটি শট নেন, কিন্তু সেটিও লক্ষ্যে পৌঁছায়নি।

০১: ৩৮

আর্জেন্টিনা দুর্গে হানা

৩৬’ স্পেন্স বল বাড়ান বক্সের ঠিক বাইরে থাকা গর্ডনের কাছে। গর্ডন শেষ ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে কাটিয়ে বল এগিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। তবে দারুণভাবে পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত ফিরে এসে বিপদমুক্ত করেন লিসান্দ্রো মার্তিনেস।

০১: ৩৫

ইংল্যান্ডের হতাশা

৩৪’ ডেকলান রাইসের নেওয়া ফ্রি কিক চলে যায় দূরের পোস্টের দিকে। সেখানে জন স্টোনস মাথা ছুঁইয়ে বলটি আবার গোলমুখে ফেরানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁর হেড গোলের বাইরে দিয়ে চলে যায়।হতাশায় দুই হাতে মাথা চেপে ধরেন স্টোনস।

০১: ২৬

হাইড্রেশন ব্রেক

২৫’ মেসির নেওয়া কর্নার থেকে আর্জেন্টিনা আক্রমণ গড়ার চেষ্টা করেছিল। তবে গোলরক্ষক পিকফোর্ডের চলার পথে বাধা দেন সিমিওনে, তাই ফাউলের বাঁশি বাজান রেফারি। এরপরই ম্যাচে প্রথম হাইড্রেশন ব্রেক দেওয়া হয়।

০১: ২২

মার্তিনেসের সেভ

২০’ রজার্সের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়া গড়ে তোলেন জেমসের । তবে ডান দিক থেকে জেমসের বাড়ানো ক্রসটি কোনো ঝামেলা ছাড়াই ঝাঁপিয়ে ধরে ফেলেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস।

০১: ১৮

১০ মিনিটে ৬ ফাউল

প্রথম ১০ মিনিটে দুই দল মিলে করেছে ৬টি ফাউল। এবারের বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচের প্রথম ১০ মিনিটে এটিই যৌথভাবে সর্বোচ্চ সংখ্যক ফাউল। এর আগে ফ্রান্স–সুইডেন ম্যাচেও প্রথম ১০ মিনিটে ৬টি ফাউল হয়েছিল।

০১: ০৮

ইংল্যান্ডের চাপ সৃষ্টি

১২’ ইংল্যান্ড শুরু থেকেই হাই লাইন প্রেস করছে। আর্জেন্টিনাকে সামনে এগোতে না দেওয়া এবং সহজে যেন বল মেসির কাছে পৌঁছাতে না পারে সেটাই তাদের উদ্দেশ। সে কারণেই তারা আর্জেন্টিনার বিল্ডআপে চাপ সৃষ্টি করছে, ফলে বল পেতে মেসিকে বারবার নিচে নেমে আসতে হচ্ছে। এখন পর্যন্ত পিকফোর্ডকে কোনো কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ।

০১: ০৫

তৃতীয় মিনিটেই উত্তেজনা

তৃতীয় মিনিটেই উত্তেজনা

কেন এই দ্বৈরথের আলাদা ঝাঁজ সেটা বোঝা গেল দ্রুতই। বেলিংহাম ফাউল নিয়ে পারেদেসের মুখোমুখি হন। এরপর অ্যান্ডারসন মেসিকে চাপে রাখেন, আর পরের আক্রমণেই এনসো ফের্নান্দেস তাঁকে ট্যাকল করেন। রেফারি বাঁশি বাজাতেই দুই দলের খেলোয়াড়েরা একে অপরের বুক ঠেলে তর্কে জড়িয়ে পড়েন।

০১: ০০

খেলা শুরু

খেলা শুরুর বাঁশি বাজালেন রেফারি। ফাইনালে স্পেনের সঙ্গী হবে কারা, সেই উত্তর কি মিলবে ৯০ মিনিটে নাকি অপেক্ষা করতে হবে আরও।

০০: ৫১

বাবার পর ছেলেও

বাবার পর ছেলেও

১৯৯৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ড ভোলার নয়। যাঁকে লাথি মেরে লাল কার্ড দেখেছিলেন সেই দিয়েগো সিমিওনে এখন আতলেতিকো মাদ্রিদের কোচ। তাঁর ছেলে জুলিয়ানো সিমিওনে চমক হিসেবে আজ জায়গা করে নিয়েছেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে। বাবার মতো ছেলেও কি স্মরণীয় কিছু ঘটাবেন?

০০: ২৩

দেখে নিন একাদশ

দেখে নিন একাদশ

আর্জেন্টিনার একাদশে একটি পরিবর্তন এনেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। সেখানে তিন পরিবর্তন করেছেন ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল।

আর্জেন্টিনা একাদশ: এমিলিয়ানো মার্তিনেস, নাউয়েল মলিনা, ত্রিস্তিয়ান রোমেরো, নিকোলাস তালিয়াফিকো, লিসান্দ্রো মার্তিনেস, জুলিয়ানো সিমিওনে, লেয়ান্দ্রো পারেদেস, আলেক্সিস ম্যাক আলিস্তার, এনসো ফের্নান্দেস, লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেস।

ইংল্যান্ড একাদশ: জর্ডান পিকফোর্ড, রিস জেমস, জন স্টোনস, মার্ক গেহি, জেড স্পেন্স, এলিয়ট অ্যান্ডারসন, জুড বেলিংহাম, ডেকলান রাইস, অ্যান্থনি গর্ডন, মরগান রজার্স ও হ্যারি কেইন।

০০: ২৩

আজকের পত্রিকার ধারাবিবরণীতে স্বাগত

বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের ধারাবিবরণীতে আপনাকে স্বাগত। আটলান্টায় বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হবে ম্যাচ। বিশ্বকাপে এর আগে ৫ বার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। প্রতিবারই রোমাঞ্চ ছড়িয়েছে তা। তবে নকআউটে আর্জেন্টিনাকে কখনো হারাতে পারেনি ইংল্যান্ড।