Ajker Patrika

রটারড্যাম কনভেনশনে অনুস্বাক্ষরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
রটারড্যাম কনভেনশনে অনুস্বাক্ষরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন
পিআইডি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিপজ্জনক কেমিক্যাল ও কীটনাশকের ঝুঁকিপূর্ণ প্রবেশ রোধ এবং যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ‘রটারড্যাম কনভেনশন’-এ অনুস্বাক্ষরের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

আজ রোববার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২৫তম বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এই অনুমোদন প্রদান করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে সন্ধ্যায় সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সভার গৃহীত সিদ্ধান্তের কথা জানান।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মারাত্মক ক্ষতিকর ও নিষিদ্ধ রাসায়নিক দ্রব্যাদি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এই চুক্তিটি ১৯৯৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর গৃহীত হয়। পরবর্তীতে নেদারল্যান্ডসের রটারড্যামে অনুষ্ঠিত কনফারেন্সে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ২০০৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে চুক্তিটি বিশ্বব্যাপী কার্যকর হয়।

বিশ্বের প্রায় ১৬৭টি দেশ ইতিমধ্যে এই কনভেনশনের পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদ অর্জন করেছে। সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশ ও ভুটান ব্যতীত অন্য সকল সদস্য রাষ্ট্র এটি অনুস্বাক্ষর সম্পন্ন করেছে। মন্ত্রিসভার আজকের অনুমোদনের মাধ্যমে বাংলাদেশও এই বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হওয়ার চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছাল।

রটারড্যাম কনভেনশনে অনুস্বাক্ষরের ফলে বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ নানা আন্তর্জাতিক সুবিধা পাবে। ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক ব্যবস্থাপনা এবং সম্পর্কিত নানা উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য আন্তর্জাতিক টেকসই অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পাওয়ার পথ সুগম হবে। বিপজ্জনক কেমিক্যালের সঠিক ট্র্যাকিং নিশ্চিত করতে জাতীয় ডেটাবেইস তৈরিতে আন্তর্জাতিক সহায়তা পাওয়া যাবে।

চুক্তিভুক্ত ‘অ্যানেক্স ৩’ তালিকার অন্তর্গত মারাত্মক ক্ষতিকর রাসায়নিক আমদানি বা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আগাম নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার পাবে। এ ছাড়া আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক দেশের মধ্যে ‘যৌথ দায়িত্ব’ নীতি বাস্তবায়িত হবে।

কনভেনশনের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ক্ষতিকর রাসায়নিক সম্পর্কিত বৈজ্ঞানিক, প্রযুক্তিগত, অর্থনৈতিক ও আইনি তথ্য সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে। এ ছাড়া অনুচ্ছেদ ১৬ অনুযায়ী আন্তর্জাতিক রটারড্যাম সচিবালয় থেকে রাসায়নিকের নিরাপদ ব্যবস্থাপনার ওপর উন্নত প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সহায়তা পাওয়া যাবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত