দুর্যোগে মৃত্যু বেশি বজ্রপাতে আর্থিক ক্ষতি বন্যায়

দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানির দিক থেকে সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘটনা হচ্ছে বজ্রপাত। আর আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বন্যায়। বজ্রপাতে প্রাণহানি কমাতে হাওর ও উত্তরাঞ্চলের ১৫টি ঝুঁকিপূর্ণ জেলায় বিশেষ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার। অন্যদিকে, বন্যার ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় দুর্যোগের আগে, চলাকালে ও পরে সহায়তা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে দেশের দুর্যোগের ঝুঁকি ও আর্থিক ক্ষতির চিত্র তুলে ধরা হয়। বৈঠকে ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু আজকের পত্রিকাকে বলেন, একসময় দেশে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে প্রাণহানি বেশি হতো। সে পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে। সাম্প্রতিক দু-তিন বছরে বজ্রপাতে বছরে ২০০ থেকে ৩০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ কারণে সরকার বজ্রপাত মোকাবিলায় একটি প্রকল্প গ্রহণ করতে যাচ্ছে।
বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, বিগত পাঁচ বছরে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড, বজ্রপাত, ভূমিকম্প ও পাহাড়ধসে ২ হাজার ৫৩৩ জন মৃত্যুবরণ করেছে। এর মধ্যে শুধু বজ্রপাতেই মারা যায় ১ হাজার ৫৩০ জন, যা মোট মৃত্যুর ৫৯ দশমিক ৫ শতাংশ। এ সময়ে ১ লাখ ২৪ হাজার ৪৮৬ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৬৫৪ জন মারা গেছে। বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ে মৃত্যু হয়েছে ২৪৯ জনের। পাঁচ বছরে বন্যায় ২৯ হাজার ৮৬০ কোটি এবং ঘূর্ণিঝড়ে ১১ হাজার ৭৩৬ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পাঁচ বছরে অগ্নিকাণ্ডে ২ হাজার ২০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। পাহাড়ধসে ৯০ জনের প্রাণহানি হলেও আর্থিক ক্ষতির চিত্র জানানো হয়নি। ২০২১ সালে প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ৬০৩ জনের প্রাণহানি হয়।
বজ্রপাতে নিরাপদ আশ্রয়ে জোর: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পদার্থবিদ্যা বিভাগের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, হাওর এলাকায় পানিতে দাঁড়িয়ে ধান কাটা, বৃষ্টির সময় গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া ও ঘরবাড়িতে যথাযথ বজ্রনিরোধক ব্যবস্থা না থাকা বজ্রপাতে প্রাণহানির বড় কারণ। গবেষকদের মতে, নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা গেলে প্রাণহানি কমানো সম্ভব। জানতে চাইলে বুয়েটের পদার্থবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রাফি উদ্দিন বলেন, সাধারণত একটি নির্দিষ্ট এলাকায় বজ্রঝড় আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা স্থায়ী হতে পারে। এই সময়টুকু সতর্কতা অবলম্বন করে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকলে অনেক মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব।








-5b3332-256x144.webp)
