বেসরকারি সদস্যদের (মন্ত্রী ছাড়া সাধারণ সংসদ সদস্য) দাখিল করা কোনো বিল অসম্পূর্ণ বা ত্রুটিপূর্ণ হলে তা সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যকে এক সপ্তাহের মধ্যে লিখিতভাবে ত্রুটির কারণসহ জানাতে সুপারিশ করেছে বেসরকারি সদস্যদের বিল ও বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত-প্রস্তাব সম্পর্কিত কমিটি। একই সঙ্গে বেসরকারি সদস্যদের উত্থাপিত কোনো বিল অর্থ বিল হিসেবে বিবেচিত হলে, সেটিতে রাষ্ট্রপতির সম্মতি গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
আজ রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়। পরবর্তীতে জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের বিস্তারিত জানানো হয়।
সংসদের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করার উদ্দেশে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সাধারণ সংসদ সদস্যদের বিল উত্থাপনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও সহায়তা দিতে বৈঠকে পরামর্শ দেওয়া হয়।
কমিটির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে অংশ নেন কমিটির সদস্য ও আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান, সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর, শাহজাহান চৌধুরী, নূরুল ইসলাম এবং আখতার হোসেন।
বৈঠকে কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় কমিটির প্রথম বৈঠকের কার্যবিবরণী সংশোধন সাপেক্ষে নিশ্চিত করা হয় এবং কমিটির সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে সদস্যদের অবহিত করা হয়।
বেসরকারি সদস্য বিল কী
জাতীয় সংসদে মন্ত্রী ব্যতীত যেকোনো সাধারণ সংসদ সদস্যকে ‘বেসরকারি সদস্য’ বলা হয়। সরকার পরিচালিত আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সাধারণত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বিল উত্থাপন করেন। তবে মন্ত্রী ছাড়া অন্য যেকোনো সংসদ সদস্য সংসদীয় বিধি মেনে আইন প্রণয়নের উদ্দেশে বিল আনতে পারেন, যা ‘বেসরকারি সদস্য বিল’ নামে পরিচিত।
কোনো সাধারণ সদস্য বিল আনলে তা প্রথমে বেসরকারি সদস্যদের বিল এবং বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত-প্রস্তাব সম্পর্কিত কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটি বিলটির বিস্তারিত পর্যালোচনা করে তা সংসদে উত্থাপন করা হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।
দেশের জাতীয় সংসদের ইতিহাস থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ পর্যন্ত মাত্র ৯টি বেসরকারি সদস্য বিল পাস হয়েছে। চলতি জাতীয় সংসদে এ পর্যন্ত মোট ১১টি বেসরকারি বিল জমা পড়েছে।










