Ajker Patrika

এক বছরে শাহজালালের স্কোর বেড়েছে ১ শতাংশ, ওসমানীর ৪ শতাংশ

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮: ৫৩
এক বছরে শাহজালালের স্কোর বেড়েছে ১ শতাংশ, ওসমানীর ৪ শতাংশ
ফাইল ছবি

যুক্তরাজ্যের পরিবহন বিভাগের (ডিএফটি) সাম্প্রতিক নিরাপত্তা অডিটে বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোর এভিয়েশন নিরাপত্তা ব্যবস্থায় উন্নতির চিত্র উঠে এসেছে। এবারের মূল্যায়নে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৪ শতাংশ এবং সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৮ শতাংশ স্কোর পেয়েছে। গত বছরের তুলনায় শাহজালালের স্কোর ১ শতাংশ এবং ওসমানীর ৪ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে। কার্গো নিরাপত্তার অতিরিক্ত ব্যবস্থার মূল্যায়নেও শতভাগ কমপ্লায়েন্স অর্জন করেছে বাংলাদেশ।

যুক্তরাজ্যগামী যাত্রী ও কার্গোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনার অংশ হিসেবে ডিএফটি এ অডিট পরিচালনা করে। এতে শাহজালাল ও ওসমানী বিমানবন্দরের যাত্রী, কার্গো ও মেইল নিরাপত্তাসহ এভিয়েশন নিরাপত্তার বিভিন্ন দিক মূল্যায়ন করা হয়।

বেবিচক জানিয়েছে, ২০২৫ সালের মূল্যায়নে শাহজালালের স্কোর ছিল ৯৩ শতাংশ এবং ওসমানীর ৯৪ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে দুই বিমানবন্দরেই স্কোর বেড়েছে। বিশেষ করে ওসমানী বিমানবন্দরের উন্নতির হার বেশি।

কার্গো নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ফল এসেছে। কার্গো-সংক্রান্ত অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ‘অ্যাডিশনাল মেজার্স অ্যাসেসমেন্ট’-এ শতভাগ কমপ্লায়েন্স অর্জিত হয়েছে। যাত্রী নিরাপত্তার পাশাপাশি কার্গো ও মেইল পরিবহনে নির্ধারিত নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রমের প্রতিফলন হিসেবে এ ফলাফলকে দেখছে বেবিচক।

বেবিচকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক এই মূল্যায়নে অগ্রগতি বাংলাদেশের বিমানবন্দর নিরাপত্তাব্যবস্থার সক্ষমতা ও ধারাবাহিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। একই সঙ্গে যাত্রী, এয়ারলাইনস, ব্যবসায়ী, আমদানিকারক-রপ্তানিকারকসহ দেশি-বিদেশি অংশীজনের আস্থা বাড়াতে এ ফলাফল সহায়ক হতে পারে।

এদিকে বাংলাদেশ ২০১৭ সাল থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচ্চ ঝুঁকির কার্গো ও মেইল (এইচআরসিএম) ব্যবস্থার আওতায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা শর্তের মুখোমুখি হচ্ছে। ফলে ইউরোপগামী কার্গো ও মেইলের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা, প্রক্রিয়াকরণ সময় ও ব্যয়ের প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশ এই বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছে তুলে ধরেছে। তবে ডিএফটি অডিটে ইতিবাচক ফল এবং কার্গো নিরাপত্তায় শতভাগ কমপ্লায়েন্স এইচআরসিএম বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের পক্ষে সহায়ক তথ্য হলেও এর প্রত্যাহার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিজস্ব মূল্যায়ন ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার বিষয় বলে জানিয়েছে বেবিচক।

আসন্ন আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) ইউনিভার্সাল সিকিউরিটি অডিট প্রোগ্রাম-কন্টিনিউয়াস মনিটরিং অ্যাপ্রোচ (ইউএসএপি-সিএমএ) অডিটের প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও ডিএফটি অডিটের ফলাফলকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত এই অডিটে বেবিচকের সদর দপ্তর, শাহজালাল ও ওসমানী বিমানবন্দরের এভিয়েশন নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবায়ন কাঠামো মূল্যায়ন করা হবে।

বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল বলেন, এ অর্জনের পেছনে বেবিচকের এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক) বিভাগ, সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য অংশীজনের সমন্বিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পুরো প্রক্রিয়ায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধান এবং বেবিচক চেয়ারম্যানের দিকনির্দেশনাও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

আসিফ ইকবাল বলেন, বেবিচকের বিভিন্ন বিভাগের পারস্পরিক সহযোগিতা অডিটের প্রস্তুতি এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে সহায়ক হয়েছে। একই সঙ্গে ডিএফটি অডিটের পর্যবেক্ষণগুলো আসন্ন আইকাও অডিটের আগে নিরাপত্তাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও উন্নয়নের ক্ষেত্র চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত