Ajker Patrika

আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে পোশাকশ্রমিকদের নতুন বেতন: প্রধানমন্ত্রী

বাসস
আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১৬: ০৯
আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে পোশাকশ্রমিকদের নতুন বেতন: প্রধানমন্ত্রী
খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধানমন্ত্রী কথা বলেন। ছবি: পিএমও

আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে পোশাকশ্রমিকদের জন্য নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, শ্রমিকদের মজুরিসংক্রান্ত দাবি বিবেচনায় নিয়ে এরই মধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ড কাজও শুরু করেছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাটে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতে যাওয়ার পথে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘মজুরি বোর্ড এরই মধ্যে কাজও শুরু করে দিয়েছে। ইনশাল্লাহ আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে মজুরি বোর্ড নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করবে, যাতে করে আমাদের শ্রমিক ভাই-বোনেরা এর চেয়েও ভালো থাকতে পারেন।’

পথসভায় প্রধানমন্ত্রী দেশের শিল্পকারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে শ্রমিকসহ সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শিল্পকারখানায় হামলা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পেছনে যারা ষড়যন্ত্র করছে, ২০২৪ সালের মতোই জনগণ তাদের উচিত জবাব দেবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সকল শক্তি নিয়ে দেশের মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ ও শ্রমিক ভাই-বোনদের সঙ্গে নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের রুখে দাঁড়াব। ২০২৪ সালে যেভাবে বাংলাদেশের মানুষ তাদের উচিত জবাব দিয়েছিল, সামনের দিনেও একইভাবে তাদের উচিত জবাব দেওয়া হবে।’

তারেক রহমান অভিযোগ করেন, বিগত ১৫-১৬ বছরে যারা মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারেনি, ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল এবং দেশ থেকে অর্থ-সম্পদ বিদেশে পাচার করেছিল, তারা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। এখন তারা সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়ছে এবং দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মিল-কারখানা জনগণ ও শ্রমিকদের সম্পদ। এসব কারখানা ধ্বংস হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন শ্রমিকেরা এবং তাঁদের সন্তানেরা। তাই ষড়যন্ত্রকারীদের কোনো সুযোগ দেওয়া যাবে না। এখন দেশ গঠন ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সময়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচিত সরকার দেশের সমস্যা সমাধান, শিল্পের প্রসার এবং ব্যবসা-বাণিজ্য জোরদারে দিনরাত কাজ করছে। বিএনপি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি-বেসরকারি শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সরকার সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করবে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তারেক রহমান বলেন, একসময় খুলনা ছিল দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল। নানা কারণে এ অঞ্চলের অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। খুলনা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে উত্তরের পঞ্চগড় পর্যন্ত হাজার হাজার শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে চায় সরকার।

এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী মোংলায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। কাটাখালীর পথসভা শেষে খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করে খুলনায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত