দুর্গাপূজায় নাশকতার হুমকির তথ্য নেই, স্বার্থান্বেষী মহল চেষ্টা করতে পারে: ফায়ার সার্ভিস

শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নাশকতার সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকির তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ। তিনি বলেছেন, বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহল যেকোনো সময় নাশকতার চেষ্টা করতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসও প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান তিনি।
আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর কাজী আলাউদ্দীন রোডে অবস্থিত ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরে শারদীয় দুর্গোৎসবে অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, অতীতের বিভিন্ন উৎসবে অগ্নিদুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণ করে এবার বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপে অস্থায়ী প্যান্ডেল তৈরির সময় বৈদ্যুতিক সংযোগে ত্রুটি, নিম্নমানের তার ব্যবহার এবং অতিরিক্ত লোডের কারণে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কোথাও কোথাও বৈদ্যুতিক সংযোগের সক্ষমতা বিবেচনা না করেই এসি চালানোর ব্যবস্থা করা হয়। আবার পূজামণ্ডপের পেছনে খাবার রান্না ও প্রস্তুতের সময়ও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি থাকে।
ফায়ার সার্ভিসের ডিজি বলেন, এসব ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে শুরু থেকেই পূজা কমিটিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে ফায়ার সার্ভিস। সংস্থাটির ৫৩৮টি স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট পূজা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাঁরা মণ্ডপের আয়োজন পরিদর্শন, অগ্নি নিরাপত্তাবিষয়ক পরামর্শ এবং আগুন লাগলে প্রাথমিকভাবে তা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ধারণা দিয়েছেন।
এ ছাড়া জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত যোগাযোগের জন্য ফায়ার সার্ভিসের ১০২ হটলাইন নম্বরের বিষয়েও জানানো হয়েছে। স্টেশন পর্যায়ে কর্মকর্তা ও ফায়ার ফাইটারদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে যেকোনো ঘটনায় দ্রুত সাড়া দেওয়া যায়।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ বলেন, অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধে পূজা কমিটিগুলোকে প্রতিটি মণ্ডপে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দিতে বলা হয়েছে। ওই ব্যক্তি দুর্ঘটনা বা দুর্যোগের আশঙ্কা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে মণ্ডপের লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসকে জানাবেন। এতে প্রাথমিক পর্যায়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে এবং ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে সহায়তা করতে পারবে। ফলে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, এবার দেশে ৩১ হাজারের বেশি পূজামণ্ডপ রয়েছে। এত বিপুলসংখ্যক মণ্ডপে দ্রুত সেবা দিতে ফায়ার সার্ভিসের প্রস্তুতি ও অবস্থান পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। সাতক্ষীরায় স্থানীয় প্রশাসনের অনুরোধে একটি ফায়ার স্টেশনের সরঞ্জাম ও সেবা দূরবর্তী এলাকায় এগিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা দেওয়া যায়।
বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে জানিয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডিজি বলেন, ফায়ার সার্ভিস কাছাকাছি অবস্থানে থেকে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তা দিতে প্রস্তুত। এ জন্য সদর দপ্তরে জরুরি সাড়া প্রদান নিয়ন্ত্রণকক্ষের পাশাপাশি বিভাগীয় পর্যায়েও নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হয়েছে।
তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স যেকোনো ধরনের অগ্নিকাণ্ড ও দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। তবে দ্রুত সহায়তা পেতে দুর্ঘটনার খবর যথাসময়ে জানাতে হবে। এতে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।








