Ajker Patrika

তরুণদের মাদক ও মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি

বাসস, ঢাকা
আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ২১: ২৪
তরুণদের মাদক ও মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি
প্রতিযোগিতা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: বঙ্গভবন

তরুণ প্রজন্মকে মাদক, মোবাইল আসক্তি ও হতাশা থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, খেলাধুলা তরুণদের শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস শেখায়। তরুণদের ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে সুস্থ জাতি গঠনে খেলাধুলার প্রসার জরুরি।

আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতীয় স্টেডিয়ামে ‘আরাফাত রহমান কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা-২০২৬’ উদ্বোধনকালে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। তিনি বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, অ্যাথলেটিকসকে ক্রীড়ার জননী বলা হয়। এ খেলায় ক্রীড়াবিদদের গতি, শক্তি, ক্ষিপ্রতা, শৃঙ্খলা ও সহনশীলতার প্রকৃত পরীক্ষা হয়। অ্যাথলেটিকসের ভিত্তি মজবুত হলে অন্যান্য খেলায়ও দেশের সক্ষমতা বাড়বে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, খেলাধুলা জাতীয় গৌরব ও ঐক্যের প্রতীক। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পতাকা উড়ানো এবং বিজয়মঞ্চে জাতীয় সংগীত বাজানো পুরো জাতির জন্য গর্বের বিষয়। তখন সবার একটাই পরিচয়—আমরা বাংলাদেশি। নিজেদের খেলোয়াড় তৈরি করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের দলকে সাফল্য এনে দিতে হবে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূল পর্যায় থেকে সব ধরনের খেলাধুলাকে এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, খেলাধুলার প্রসার, সুস্থ জাতি গঠন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে স্পোর্টস কার্ড, স্পোর্টস অ্যালাউন্স, তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি এবং জেলা পর্যায়ে আধুনিক স্পোর্টস ভিলেজ গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে। এ সময় তিনি দখলমুক্ত করে মাঠ সংরক্ষণ এবং নতুন মাঠের জন্য স্থান চিহ্নিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

নারী অ্যাথলেটদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, আর্থিক কারণে যেন কোনো প্রতিভা ঝরে না পড়ে, সে জন্য স্কুল, কলেজ এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে হবে। তিনি আন্তস্কুল ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চালুর উদ্যোগ নিতেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

বিশ্বমানের খেলোয়াড় তৈরিতে সরকারের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা ও ব্যবসায়ীদের দীর্ঘমেয়াদি পৃষ্ঠপোষক হিসেবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ প্রতিযোগিতা থেকে ভবিষ্যতে অনেক প্রতিভাবান অ্যাথলেট উঠে আসবেন, যাঁরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে আরও গৌরবান্বিত করবেন।

দেশের বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতির প্রতি প্রতিযোগিতাটি উৎসর্গ করা হয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ জাবেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন।

এর আগে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ৫৭টি দলের মার্চ পাস্ট অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রতিযোগিতার থিম সং পরিবেশন করা হয়। সাবেক অ্যাথলেট মহিউদ্দিন আহমেদ ও সুমিতা রানী দাস গেমসের মশাল প্রজ্বালন করেন।

উদ্বোধন শেষে রাষ্ট্রপতি পুরুষ ও নারী বিভাগের ১০০ মিটার স্প্রিন্ট প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন এবং বিজয়ীদের মধ্যে পদক বিতরণ করেন।

এর আগে বিকেল ৪টার দিকে রাষ্ট্রপতি জাতীয় স্টেডিয়ামে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম, বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ জাবের এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত