Ajker Patrika

ভ্রমণের জন্য চাকরি ছেড়ে অনুতপ্ত তরুণীকে কিছু পরামর্শ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ভ্রমণের জন্য চাকরি ছেড়ে অনুতপ্ত তরুণীকে কিছু পরামর্শ
প্রতীকী ছবি

চাকরির একঘেয়েমি, মানসিক ক্লান্তি আর ব্যস্ত জীবনের চাপ থেকে মুক্তি পেতে চাকরি ছেড়ে বিশ্বভ্রমণে বেরিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ২৮ বছর বয়সী এক তরুণী। পরিকল্পনা ছিল, ছয় মাস ধরে একা একা ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ঘুরে দেখবেন, নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন। কিন্তু ভ্রমণের মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় তাঁর মনে হতে শুরু করে, সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল কি না। বিদেশের পরিবেশ, মানুষের আচরণ এবং জীবনযাপনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পেরে এখন বাড়ি ফেরার কথা ভাবছেন তিনি। তাঁর এই অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

রেডিটে নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে ওই তরুণী বলেন, অর্থ খাতের একটি প্রতিষ্ঠানে পাঁচ বছর কাজ করার পর তিনি চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। ভ্রমণের সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা এবং কর্মক্ষেত্রে মানসিক অবসাদ তাঁকে এই সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহিত করেছিল। তাঁর মনে হয়েছিল, জীবনে বড় কোনো দায়িত্ব আসার আগেই পৃথিবীটা ঘুরে দেখা প্রয়োজন।

কিন্তু ইউরোপে পৌঁছানোর পর বাস্তব অভিজ্ঞতা তাঁর প্রত্যাশার সঙ্গে মেলেনি। ভ্রমণের প্রথম সপ্তাহে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় গিয়ে স্থানীয় মানুষের আচরণ তাঁর কাছে তুলনামূলকভাবে শীতল ও দূরত্ব বজায় রাখার মতো মনে হয়। অস্ট্রেলিয়ার মানুষের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের সঙ্গে এই অভিজ্ঞতার পার্থক্য তাঁকে হতাশ করে।

এরপর ইতালির রোমে গিয়ে তাঁর মনে হয়, নিজের দেশ অস্ট্রেলিয়ার বড় শহরগুলোর তুলনায় রোম বেশি অনিরাপদ ও অপরিচ্ছন্ন। একই সঙ্গে নিজের দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ মানুষ, ভালো কফি, মনোরম আবহাওয়া ও নিরাপদ পরিবেশের প্রতি নতুন করে আকৃষ্ট হন তিনি। আগে অফিসের কাজে এতটাই ব্যস্ত থাকতেন যে নিজের দেশের এসব সুবিধা নিয়ে ভাবার সুযোগ খুব কমই পেতেন।

তবে তাঁর পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় রেডিট ব্যবহারকারীদের অনেকে তাঁকে এখনই ভ্রমণ শেষ না করার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁদের মতে, নতুন সংস্কৃতি ও পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময় লাগে। বিদেশে একা ভ্রমণের শুরুতে অস্বস্তি, নিঃসঙ্গতা ও হতাশা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, সংস্কৃতিগত পার্থক্যের মুখোমুখি হওয়া মানসিক বিকাশের জন্য ইতিবাচক হতে পারে। আরও কয়েক সপ্তাহ সময় দিলে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ হবে। তাঁর মতে, তরুণীর সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল না।

অন্য একজন নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, কম বয়সে একা ভ্রমণের সময় নানা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেও বহু বছর পর সেসব স্মৃতি অসাধারণ মনে হয়। ওই অভিজ্ঞতাগুলোই তাঁকে আজকের মানুষ হয়ে উঠতে সাহায্য করেছে।

আরেক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, ভ্রমণ মানুষকে নিজের বাড়ির মূল্য বুঝতে শেখায়। তবে কেউ কেউ দীর্ঘ ভ্রমণের আগে প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁদের মতে, নতুন পরিবেশে বিশ্রামের জন্য সময় রাখা এবং প্রয়োজনে ভ্রমণের গতি কমানো জরুরি।

এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয়, ভ্রমণ মানেই আনন্দ নয়। কখনো কখনো অচেনা পৃথিবীকে চিনতে গিয়ে মানুষ নিজের পরিচিত ঘর, মানুষ ও জীবনের প্রতিই নতুন করে ভালোবাসা খুঁজে পায়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত