Ajker Patrika

ধনীদের টেবিল ছেড়ে সাধারণের পাতে ক্যাভিয়ার, জেনে নিন রূপান্তরের কাহিনি

ফিচার ডেস্ক
ধনীদের টেবিল ছেড়ে সাধারণের পাতে ক্যাভিয়ার, জেনে নিন রূপান্তরের কাহিনি
কাঙ্ক্ষিত ও ধরাছোঁয়ার বাইরের ক্যাভিয়ার এখন জিম-সোসাইটির পার্টি ছেড়ে পৌঁছে গেছে টিকটক আর আলুর চিপসের ওপর। ছবি: পেক্সেলস

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ঐতিহাসিকভাবে শ্যাম্পেন, ফোয়া গ্রা বা ট্রাফলের মতো উৎসবের খাবারগুলোকে বিলাসিতার প্রতীক হিসেবে দেখা হতো। আভিজাত্যের প্রতীক ক্যাভিয়ার বা বিরল স্টার্জন মাছের ডিমের কথা ভাবলে এত দিন রুপার প্লেটে খাওয়া ধনী মানুষদের দৃশ্যই চোখে ভাসত। কিন্তু দিন বদলেছে! সেই কাঙ্ক্ষিত ও ধরাছোঁয়ার বাইরের ক্যাভিয়ার এখন জিম-সোসাইটির পার্টি ছেড়ে পৌঁছে গেছে টিকটক আর আলুর চিপসের ওপর। একসময় যাতে শুধু ধনকুবেরদের একচ্ছত্র অধিকার ছিল, তা এখন ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে এসেছে। কিন্তু এই পরিবর্তন কীভাবে ঘটল? বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিরা আসলে কী খাচ্ছেন? আর আধুনিক যুগের বিলাসবহুল খাবারের সংজ্ঞাই-বা কী?

হুট করে ক্যাভিয়ারের এই ভোলবদল কীভাবে হলো? কীভাবে রাজকীয় এই খাবার সাধারণ মানুষের প্লেটে জায়গা করে নিচ্ছে? চলুন জানা যাক এর পেছনের আকর্ষণীয় রূপান্তর।

ইতিহাসের পাতা থেকে আলুর চিপসে

মজার ব্যাপার হলো, ১৯ শতকেও যুক্তরাষ্ট্রে ক্যাভিয়ার এত আহামরি খাবার ছিল না। বারগুলোতে বাদাম বা পপকর্নের মতো ক্যাভিয়ার ফ্রিতে দেওয়া হতো। পরবর্তীকালে কাস্পিয়ান সাগরে অতিরিক্ত মাছ শিকারের ফলে বিলুপ্তির আশঙ্কায় ২০০৬ সালে বন্য স্টার্জন ধরা নিষিদ্ধ করা হয়। ব্যস! রাতারাতি ক্যাভিয়ার হয়ে ওঠে মহামূল্যবান ও বিরল। তবে খেলা আবার ঘুরে যায় কৃত্রিম উপায়ে স্টার্জন মাছ চাষ বা অ্যাকুয়াকালচারের মাধ্যমে। এতে চীন বড় ভূমিকা রাখে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে মোট ক্যাভিয়ার রপ্তানির প্রায় ৪৪ শতাংশ সরবরাহ করছে চীন। জোগান বাড়ায় পাইকারি বাজারে দাম কমতে শুরু করেছে। আগে ৫০০ ডলার বা তার বেশি দামে যে টিন কিনতে হতো, তা এখন ২০০ ডলারের নিচে মিলছে! এমনকি গত বছর ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে ম্যাকডোনাল্ডস ফ্রিতে চিকেন ম্যাকনাগেটসের ওপরেও ক্যাভিয়ার দিয়ে চমকে দিয়েছিল!

ক্যাভিয়ার বাম্প ও নতুন প্রজন্মের মেজাজ

পুরোনো ফর্মুলা বা কঠিন নিয়মকানুন ভেঙে ক্যাভিয়ার এখন তরুণ প্রজন্মের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছে। সামাজিক মাধ্যম, বিশেষ করে টিকটকে হাতের পিঠে রেখে ক্যাভিয়ার খাওয়া বা ক্যাভিয়ার বাম্প ট্রেন্ডের ফলে লাখ লাখ তরুণের কাছে এটি ক্যাজুয়াল খাবারের মতো জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এখন আর চামচ দিয়ে মেপে খেতে হয় না। চিপস, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, পিৎজা এমনকি মার্টিনির সঙ্গেও সানন্দে খাওয়া হচ্ছে ক্যাভিয়ার। দ্য মার্কের ‘ক্যাভিয়ার কাস্পিয়া’র ডিরেক্টর ক্রিশ্চিয়ান স্যাভাগ্লিয়া বলেছিলেন, সাধারণ খাবারের সঙ্গে ক্যাভিয়ারের এই মেলবন্ধন খাবারটিকে শুধু মজারই করেনি, বরং অনেক বেশি সহজলভ্য করে তুলেছে।

ক্যাভিয়ারে রয়েছে প্রচুর প্রোটিন, চর্বি এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী। ছবি: পেক্সেলস
ক্যাভিয়ারে রয়েছে প্রচুর প্রোটিন, চর্বি এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী। ছবি: পেক্সেলস

বিলাসিতা এখন অভিজ্ঞতা ও পুষ্টির মেলবন্ধন

ক্যাভিয়ার শুধু আভিজাত্য জাহির করার বস্তু নয়। এর পেছনে রয়েছে পুষ্টির গল্প। ক্যাভিয়ারে রয়েছে প্রচুর প্রোটিন, চর্বি এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী। তবে মূল বিলাসিতা এখন শুধু দামের ওপর নির্ভর করে না, নির্ভর করে বিরলতার ওপর। যেখানে সাধারণ বেয়ারি ক্যাভিয়ারের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ১ হাজার ৬০০ ইউরো, সেখানে সাদা রঙের বিরল আলবিনো বেলুগা স্টার্জনের আলমাস ক্যাভিয়ারের দাম কেজিপ্রতি ৩০ হাজার ইউরো ছাড়িয়ে যায়। একসময় রাজা-বাদশাদের খাবার বা সাধারণ ফরাসি ফোয়া গ্রা কিংবা ট্রাফলের মতো দামি উপাদানগুলো যেভাবে সুপার মার্কেটের তাকে এসে জায়গা করে নিয়েছে, ক্যাভিয়ারও ঠিক সেই পথেই হাঁটছে। বিলাসিতার পুরোনো বাঁধাধরা নিয়ম ভেঙে ক্যাভিয়ার এখন নিজেকে নতুন করে উপস্থাপন করছে। ইতিহাস আর আধুনিকতার এই মিলনে ক্যাভিয়ার তার ঐতিহ্য বজায় রেখেই হয়ে উঠেছে আজকের ট্রেন্ডি লাইফস্টাইল।

সূত্র: ফোর্বস, দ্য কনভার্সেশন, মর্নিং ব্রিউ

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত