Ajker Patrika

কর্মক্ষেত্রে প্রোডাকটিভিটি বাড়ানোর ১০ উপায়

সাব্বির হোসেন
আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১০: ৪৭
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

অনেকের ধারণা, সারা দিন কাজের চাপে ডুবে থাকা বা অতিরিক্ত ব্যস্ত থাকাই হলো ‘প্রোডাকটিভিটি’ বা কর্মদক্ষতা। কিন্তু প্রকৃত অর্থে বিষয়টি তা নয়। সত্যিকারের প্রোডাকটিভিটি হলো মানসিক প্রশান্তি বজায় রেখে সুশৃঙ্খলভাবে কাজ সম্পন্ন করা। দিন শেষে কতটা কাজ করলেন, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো—কাজগুলো কতটা ভারসাম্য ও সচেতনতার সঙ্গে করলেন। দৈনন্দিন জীবনকে আরও কার্যকর, গোছানো ও শান্তিময় করতে আজই শুরু করা যেতে পারে এই ১০টি কার্যকর অভ্যাস।

দিনটি শুরু হোক প্রশান্তিতে

সকালের শুরুটা সুন্দর হলে পুরো দিনটি ইতিবাচকভাবে কাটে। ঘুম থেকে উঠে তাড়াহুড়ো না করে একটি নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলুন। প্রার্থনা, হালকা ব্যায়াম কিংবা কিছুক্ষণ বই পড়ার অভ্যাস মস্তিষ্ককে শান্ত রাখে এবং সারা দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মানসিক প্রস্তুতি তৈরি করে।

​জ্বালানি হোক স্বাস্থ্যকর

গাড়ির যেমন জ্বালানি প্রয়োজন, শরীরেরও তেমনি শক্তি দরকার। সকালের নাশতা কখনোই বাদ দেওয়া উচিত নয়। পুষ্টিকর খাবার শুধু শরীরকে চাঙা রাখে না, বরং কাজে মনোযোগ বাড়াতে ও মানসিক সতেজতা ধরে রাখতেও সহায়ক ভূমিকা রাখে।

পরিকল্পনা হোক আগের রাতেই

সকালে উঠে ‘আজ কী করব’—এই দ্বিধায় সময় নষ্ট না করে, আগের রাতেই পরের দিনের কাজের তালিকা (টু-ডু লিস্ট) তৈরি করে নিন। এতে দিন শুরুর আগেই লক্ষ্য স্পষ্ট থাকে। তবে তালিকাটি যেন বাস্তবসম্মত হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকুন।

বড় লক্ষ্য, ছোট পদক্ষেপ

বড় কোনো কাজ দেখলে ভয় পাওয়াটা স্বাভাবিক। তাই কাজগুলো ছোট ছোট ধাপে ভাগ করে নিন। প্রতিটি ধাপ শেষ করার সঙ্গে সঙ্গে যে মানসিক তৃপ্তি আসে, তা পুরো কাজ শেষ করার জন্য আত্মবিশ্বাস জোগায়।

বিশ্রাম বিলাসিতা নয়, প্রয়োজন

একটানা কাজ করলে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা কমে যায়। তাই কাজের ফাঁকে ছোট বিরতি নেওয়া জরুরি। মনে রাখতে হবে, বিশ্রাম কোনো বিলাসিতা নয়; বরং কাজের গতি ও মান বজায় রাখার জন্য এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

‘পরে করব’—এই অভ্যাস ছাড়ুন

কাজ জমিয়ে রাখার অভ্যাস মানসিক চাপ বাড়ায়। কোনো কাজ সামনে এলে তা ফেলে না রেখে দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করুন। এতে কাজের চাপ যেমন কমবে, তেমনি মানসিক স্বস্তিও মিলবে।

সময়ের কাজ সময়ে

কর্মক্ষেত্রে সময়মতো উপস্থিত থাকা এবং নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করা শৃঙ্খলার পরিচায়ক। এটি শুধু পেশাগত জীবন নয়, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনকেও আরও সুন্দর ও গোছানো করে তোলে।

নিয়ন্ত্রণহীন বিষয়ে দুশ্চিন্তা নয়

জীবনে এমন অনেক বিষয় থাকে যা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। সেসব নিয়ে অযথা দুশ্চিন্তা না করে যেগুলো আপনার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেখানেই মনোযোগ দিন। অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপ এড়িয়ে চলাই সুস্থ থাকার অন্যতম শর্ত।

ডিজিটাল ডিটক্স

কাজের সময় বারবার সোশ্যাল মিডিয়া দেখা বা নোটিফিকেশনে মনোযোগ দেওয়া কর্মক্ষমতা ব্যাহত করে। তাই কাজের সময়টুকুতে মোবাইল ও ডিজিটাল ডিভাইস থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকার চেষ্টা করুন।

দিন শেষে কৃতজ্ঞতা

দিন শেষে নিজেকে প্রশ্ন করুন—আজ নতুন কী শিখলেন? কিংবা দিনের কোন কাজটি সবচেয়ে ভালো হয়েছে? নিজের ছোট ছোট অর্জনেও সন্তুষ্ট থাকুন এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অভ্যাস গড়ে তুলুন।

একটি ফলপ্রসূ দিন মানে শুধু পাহাড়সম কাজ শেষ করা নয়; বরং মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করা। বড় পরিবর্তন একদিনে আসে না। আজ থেকেই একটি বা দুটি ছোট অভ্যাস দিয়ে শুরু করুন—দেখবেন, জীবন অনেক বেশি সহজ ও সুন্দর হয়ে উঠছে।

সূত্র: মিডিয়াম

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

গাজায় ট্রাম্প বাহিনীর অংশ হতে চায় বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্রকে জানালেন খলিলুর

দুবাই পালানোর সময় বিমানবন্দর থেকে নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার

শিক্ষককে হেনস্তার পর টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর অফিসে নিয়ে গেলেন চাকসুর শিবির নেতারা

তারেক রহমানের নেতৃত্বেই বিনির্মিত হবে আগামীর বাংলাদেশ, মোদির প্রত্যাশা

রাইস কুকার ব্যবহারের ভুল ও সতর্কতা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত