Ajker Patrika

তাহাজ্জুদের জন্য শেষ রাতে জাগ্রত হওয়ার সহজ পদ্ধতি

নূর মুহাম্মদ রাহমানী
তাহাজ্জুদের জন্য শেষ রাতে জাগ্রত হওয়ার সহজ পদ্ধতি

‘তাহাজ্জুদ’ শব্দের অর্থ নিদ্রা ত্যাগ করে জেগে ওঠা। পরিভাষায় এশার পর রাতের যেকোনো অংশে নফল নামাজ আদায় করাকেই তাহাজ্জুদ বলা হয়। তবে ঘুম থেকে উঠে রাতের শেষাংশে তাহাজ্জুদ আদায় করা সর্বোত্তম।

ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ নামাজ হলো তাহাজ্জুদ। (সহিহ মুসলিম: ১১৬৩)। রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠোর অসুস্থতা বা ক্লান্তির সময়েও কখনো তাহাজ্জুদ ছাড়তেন না। (সুনানে আবু দাউদ: ১৩০৭)।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা রাতে রবের উদ্দেশ্যে শয্যা ত্যাগের প্রশংসা করে বলেছেন, ‘তাদের পার্শ্বদেশ শয্যা থেকে পৃথক থাকে; তারা আপন রবকে ডাকে ভয় ও আশার সঙ্গে।’ (সুরা সাজদাহ: ১৬)। এ ছাড়া শেষ রাতে মহান আল্লাহ নিকটবর্তী আসমানে নাজিল হয়ে বান্দার দোয়া ও ইস্তিগফার কবুল করেন। (সহিহ বুখারি: ১১৪৫)অনেকের জন্য শেষ রাতে জেগে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ে।

হাদিসের আলোকে শেষ রাতে তাহাজ্জুদের জন্য সহজে জাগ্রত হওয়ার মূল উপায় দুটি:

১. কায়লুলা বা দুপুরে কিছুটা ঘুমিয়ে নেওয়া: দিনের বেলা সামান্য সময় ঘুমালে রাতে জেগে ইবাদত করা সহজ হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা দুপুরে কিছু সময় ঘুমিয়ে রাতের নামাজের জন্য শক্তি ও সহজতা অর্জন করো।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৬৯৩)

২. এশার পর দ্রুত ঘুমিয়ে পড়া: এশার নামাজের পর অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা না বলে দ্রুত শুয়ে পড়ার অভ্যাস করা উচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) এশার আগে ঘুমানো এবং এশার পর অহেতুক আড্ডা বা গল্পগুজব করা অপছন্দ করতেন। (সহিহ বুখারি: ৫৬৮)

৩. বিকল্প সহজ উপায়: যদি শেষ রাতে ওঠা সম্ভব না হওয়ার আশঙ্কাই থাকে, তবে এশার ফরজ ও বিতরের পর দুই বা চার রাকাত নফল নামাজ আদায় করে নেওয়া যায়। এতেও তাহাজ্জুদের সওয়াব হাসিল হবে। (শরহু মাআনিল আছার: ২০১১)

তাহাজ্জুদের সর্বনিম্ন রাকাত সংখ্যা দুই এবং সর্বোচ্চ ১২। নবীজি (সা.) সাধারণত আট রাকাত আদায় করতেন। আল্লাহ আমাদের নিয়মিত তাহাজ্জুদের আমল করার তাওফিক দান করুন।

লেখক: শিক্ষাসচিব, জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম বাগে জান্নাত, চাষাড়া, নারায়ণগঞ্জ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত