আল্লাহ তাআলা মানুষকে আশরাফুল মাখলুকাত হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। আর এ মর্যাদা টিকে থাকে বিনয় ও নম্রতার মাধ্যমে। অহংকার এমন এক মারাত্মক আত্মিক ব্যাধি—যা ইমান, চরিত্র ও মানবিকতাকে ধ্বংস করে দেয়। তাই কোরআন ও হাদিসে অহংকারকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ইসলামের দৃষ্টিতে আত্মগর্বের পাশাপাশি সত্য জেনেও তা প্রত্যাখ্যান করা এবং মানুষকে তুচ্ছ মনে করাও অহংকার। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘অহংকার হলো সত্যকে অস্বীকার করা ও মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করা।’ (সহিহ্ মুসলিম: ৯১)
অহংকারের প্রথম শিকার ইবলিস। আদম (আ.)-কে সিজদা করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে সে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করে আল্লাহর রহমত থেকে চিরতরে বিতাড়িত হয়। (সুরা আরাফ: ১২)। ইতিহাসে ফেরাউনও ক্ষমতার অহংকারে নিজেকে উপাস্য দাবি করে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। (সুরা ইউনুস: ৭৫)। দুনিয়ায় অহংকার মানুষের বিবেক নষ্ট করে, উপদেশ গ্রহণে বাধা দেয় এবং জুলুম ও বৈষম্য সৃষ্টি করে। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ অহংকারী ও আত্মম্ভরীকে ভালোবাসেন না।’ (সুরা নিসা: ৩৬)
আখিরাতে অহংকারীদের জন্য রয়েছে ভয়াবহ শাস্তি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (সহিহ্ মুসলিম: ৯১)
অহংকারের প্রকৃত প্রতিষেধক হলো বিনয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য বিনয় অবলম্বন করে, আল্লাহ তাকে মর্যাদায় উন্নীত করেন।’ (সহিহ্ মুসলিম: ২৫৮৮)। তাই বিনয়ই মুমিনের প্রকৃত অলংকার। অহংকার ধ্বংসের পথ, আর বিনয় মুক্তির পথ।

ক্ষমা একটি উচ্চতর মানবিক গুণ। পবিত্র কোরআনের বর্ণনায় আল্লাহ তাআলা পরম ক্ষমাশীল ও দয়ালু। আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার অন্যতম শর্ত হলো অন্যকে ক্ষমা করার মানসিকতা রাখা। ক্ষমার এই গুণ মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় নবী (সা.)-কে অর্জনের নির্দেশ দিয়েছেন এবং মুমিনদের জন্য একে জান্নাত লাভের অছিলা হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
১৬ ঘণ্টা আগে
ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞানের ইতিহাসে যেসব মনীষী তাঁদের মেধা ও গবেষণার মাধ্যমে অমর হয়ে আছেন, তাঁদের মধ্যে ইমাম ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) অন্যতম। তিনি একাধারে শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস, ইতিহাসবিদ ও আইনবিদ। তাঁর পাণ্ডিত্য ও অবদানের কারণে তাঁকে আমিরুল মুমিনিন ফিল হাদিস বা হাদিসশাস্ত্রের সেনাপতি বলা হয়।
১৭ ঘণ্টা আগে
জায়েদের কথায় মুহাম্মদ (সা.)-এর হৃদয় ভরে গেল। ভালোবাসার গভীর স্রোত তাঁর চোখে জল এনে দিল। তিনি জায়েদকে নিয়ে কাবার চত্বরে গেলেন, কুরাইশদের সামনে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করলেন, ‘হে মক্কাবাসী, তোমরা শুনে রাখো, জায়েদ আজ থেকে মুক্ত। শুধু মুক্তই নয়—সে আমার সন্তান। সে আমার ওয়ারিশ, আমি তাঁর ওয়ারিশ।’
১৭ ঘণ্টা আগে
পবিত্র রমজান মাস মুমিনের জন্য ইবাদতের বসন্তকাল। এই মাসে প্রতিটি আমলের প্রতিদান আল্লাহ তাআলা বহুগুণ বাড়িয়ে দেন। রোজা পালনকালে অনেক সময় অনিচ্ছাকৃত কিছু শারীরিক বিষয় নিয়ে আমরা সংশয়ে ভুগি। এর মধ্যে অন্যতম হলো—রোজা অবস্থায় স্বপ্নদোষ হওয়া।
১৮ ঘণ্টা আগে