Ajker Patrika

দক্ষিণ লেবানন দখল করে নিজেদের মানচিত্রে সংযুক্ত করতে চান ইসরায়েলি মন্ত্রী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
দক্ষিণ লেবানন দখল করে নিজেদের মানচিত্রে সংযুক্ত করতে চান ইসরায়েলি মন্ত্রী
ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মতরিচ। ছবি: এএফপি

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা আরও তীব্র করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। একের পর এক বাড়িঘর ও সেতু ধ্বংস করছে। এর মধ্যেই দক্ষিণ লেবানন দখল করে ইসরায়েলের মানচিত্রভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মটরিচ।

গত সোমবার ইসরায়েলি রেডিওতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্মটরিচ বলেন, লেবাননে এই বোমাবর্ষণ ‘সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বাস্তবতার’ মাধ্যমে শেষ হওয়া দরকার। এর মধ্যে রয়েছে ‘ইসরায়েলের সীমানা পরিবর্তন’।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি এখানে স্পষ্ট করে বলছি... প্রতিটি কক্ষে এবং প্রতিটি আলোচনায়ও আমি এই দাবি তুলেছি। ইসরায়েলের নতুন সীমান্ত হতে হবে লিতানি নদী পর্যন্ত।’

দক্ষিণ লেবাননের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত লিতানি নদী ইসরায়েল সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার (১৯ মাইল) ভেতরে অবস্থিত।

স্মটরিচের এই মন্তব্য এমন সময়ে এল, যখন লেবাননের আবাসিক ভবন ও বেসামরিক অবকাঠামোতে প্রাণঘাতী হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে রকেট ছোড়ে। এর প্রতিক্রিয়ায় মার্চ মাসের শুরু থেকে লেবাননে হামলা জোরদার করে ইসরায়েল। বিমান হামলার পাশাপাশি স্থল অভিযানের মাধ্যমে ইসরায়েলি সেনারা লেবাননের ভূখণ্ডের আরও গভীরে প্রবেশ করছে। ইসরায়েলের দাবি, হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের নির্মূল করতেই এই অভিযান।

অন্যদিকে, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলা অব্যাহত রেখেছে এবং লেবাননের মাটিতে ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে লড়াই করছে।

জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, এই সংঘাত লেবাননের বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। সহিংসতার মুখে ১২ লাখেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে ১১৮ জন শিশুসহ অন্তত ১ হাজার ৩৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ২ হাজার ৮৭৬ জন।

লেবাননের কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, দক্ষিণ লেবাননের সঙ্গে রাজধানী বৈরুতসহ অন্যান্য অঞ্চলের সংযোগকারী সেতুগুলোতে সাম্প্রতিক হামলা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইসরায়েল আরও বড় ধরনের স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

দক্ষিণ লেবানন থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি জিনা খোদর জানিয়েছেন, ইসরায়েল এই অঞ্চলটিকে দেশের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছে বলে মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ লেবাননে জ্বালানি স্টেশন, সেতু ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ সব ধরনের অবকাঠামো ধ্বংস করে দিচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। পুরো দক্ষিণ অঞ্চলকে জনশূন্য করার কৌশলের অংশ হিসেবেই এমনটা করা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।’

গত সোমবার নিউইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানান, সংঘাতের কারণে লেবাননের ১২ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এটি দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ।

গত কয়েক সপ্তাহে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবানন এবং বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলির বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। হামলার হুমকির মুখে কয়েক লাখ পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে।

লেবাননের স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর অব্যাহত হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। ডুজারিক জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর ওপর অন্তত ৬৪টি হামলায় ৫১ জন নিহত এবং ৯১ জন আহতের কথা জানিয়েছে।

গত সপ্তাহে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও লেবাননের স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা বন্ধ করতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে, আন্তর্জাতিক আইনে স্বাস্থ্যকর্মীরা বিশেষ সুরক্ষা পেয়ে থাকেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত